📄 শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (১)
বদর যুদ্ধে যখন মক্কার মুশরিকরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে তরবারি দিয়ে শেষ করে দিবার ইচ্ছায় অগ্রসর হয়েছিল, তখন রসূলে আকরাম ﷺ নিজের সাহাবীদেরকে বলেছিলেন, "তোমরা সেই জান্নাতের দিকে উঠে দাঁড়াও, যার প্রস্থ আসমান ও যমীন সমতুল্য।" এ কথা শোনামাত্র সাহাবী উমাইর বিন হুমাম আনসারী বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! শহীদ হওয়ার বিনিময়ে আসমান ও যমীনের প্রস্থ সমতুল্য কি জান্নাত? রসূলে আকরাম ﷺ বললেন, 'হ্যাঁ।' উমাইর বিন হুমাম বললেন, 'বাহ বাহ!' রসূলে আকরাম ﷺ বললেন, " 'বাহ-বাহ' বলার জন্য তোমাকে কী জিনিস উৎসাহিত করছে?" উমাইর বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম! আমি এ কথা জান্নাতের আশায় বলেছি।' রসূল ﷺ বললেন, "নিশ্চয় তুমি জান্নাতবাসীদের মধ্যে গণ্য।"
উমাইর বিন হুমাম তীরদান থেকে কয়েকটি খেজুর বের ক'রে খেতে লাগলেন। অতঃপর শহীদ হওয়ার অদম্য ইচ্ছায় বলতে লাগলেন, 'আমি যদি এই খেজুরগুলি খাওয়া পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে তো জীবন লম্বা হয়ে যাবে।' সুতরাং তিনি সমস্ত খেজুর ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং ময়দানে অগ্রসর হলেন। পালোয়ানের মত বীর-বিক্রমে লড়াই ক'রে শহীদ হয়ে গেলেন।
📄 শহীদ হতে প্রতিযোগিতা (২)
বদর যুদ্ধের পূর্বে নবী ﷺ যখন যোদ্ধা নির্বাচন করছিলেন, তখন উমাইর বিন আবী অক্কাস লুকিয়ে লুকিয়ে থাকছিলেন। তাঁর ভাই সা'দ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'কি ব্যাপার তোমার?' তিনি বললেন, 'আমার ভয় হচ্ছে যে, আমি ছোট বলে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। অথচ আমি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে শহীদ হতে চাই।' অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দৈর্ঘ্য দেখলেন, তখন তিনি পায়ের গোড়ালি তুলে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে লম্বা প্রমাণ করতে চাইলেন। অবশেষে তিনি যখন তাঁকে ফিরে যেতে বললেন, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর নবী ﷺ তাঁর কাঁদা দেখে তাঁকে বদর যেতে অনুমতি দিলেন। আর সেখানে গিয়ে যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ষোল বছর।
📄 জিহাদে যেতে প্রতিযোগিতা
উহুদ যুদ্ধের দিন ঐভাবে সৈন্য নির্বাচনের সময় ছোট-বড় দেখা হচ্ছিল। অনেককেই ছোট বলে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তাঁদের মধ্যে রাফে' বিন খাদীজ ও সামুরাহ বিন জুন্দুব ছিলেন। পরবর্তীতে রাফে'কে অনুমতি দেওয়া হল; কারণ তিনি তীরন্দাজ ছিলেন। তা দেখে সামুরাহ কাঁদতে লাগলেন। (হ্যাঁ, মরণের জন্য কাঁদতে লাগলেন!) অতঃপর তিনি তাঁর সৎবাপের কাছে অভিযোগ ক'রে বললেন, 'আল্লাহর রসূল ﷺ রাফে'কে অনুমতি দিলেন, আর আমাকে দিলেন না। অথচ আমি ওকে কুস্তি লড়াইয়ে হারিয়ে দিতে পারব।' এ খবর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পৌঁছলে তিনি উভয়কে কুস্তি লড়তে আদেশ দিলেন। অতঃপর সত্যিসত্যিই সামুরাহ তাতে বিজয়ী হলেন এবং তিনি তাঁকেও যুদ্ধে অনুমতি দিয়ে দিলেন।
📄 যে কাজে আল্লাহ বিস্মিত
একদা এক ব্যক্তি মহানবী ﷺ-এর নিকট এসে বলল, 'আমি ক্ষুধায় কাতর হয়ে গেছি।' (আমার খাবারের ব্যবস্থা করুন।)
সুতরাং আল্লাহর রসূল তাঁর কোন স্ত্রীর নিকট এক মেহমানের মেহমানির সংবাদ পাঠালেন। তিনি বললেন, 'সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের সঙ্গে পাঠিয়েছেন! আমার কাছে পানি ছাড়া অন্য কিছুই নেই।'
অতঃপর অন্য স্ত্রীর নিকট পাঠালেন। তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত সকল (স্ত্রী)ই ঐ একই কথা বললেন, 'সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের সাথে পাঠিয়েছেন! আমার কাছে পানি ছাড়া কোন কিছুই নেই।'
সুতরাং নবী ﷺ সাহাবাগণকে বললেন, "আজকের রাতে কে একে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করবে?"
সাহাবী আবু তালহা আনসারী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমি একে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করব।'
সুতরাং তিনি তাকে সাথে ক'রে নিজ গৃহে নিয়ে গেলেন এবং তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেন, 'রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মেহমানের খাতির কর। তোমার নিকট কোন খাবার আছে কি?'
স্ত্রী বললেন, 'না, কেবলমাত্র বাচ্চাদের খাবার আছে।'
তিনি বললেন, 'কোন জিনিস দ্বারা তাদেরকে ভুলিয়ে রাখবে এবং তারা যখন রাত্রে খাবার চাইবে, তখন তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। অতঃপর যখন আমাদের মেহমান (ঘরে) প্রবেশ করবে, তখন বাতি নিভিয়ে দেবে এবং তাকে বুঝাবে যে, আমরাও খাচ্ছি!'
সুতরাং তাঁরা পরিকল্পনা মোতাবেক সকলেই খাওয়ার জন্য বসে গেলেন; মেহমান খাবার খেল এবং তাঁরা দু'জনে উপবাসে রাত কাটিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন তিনি সকালে নবী ﷺ-এর নিকট গেলেন, তখন তিনি বললেন, "তোমাদের দু'জনের আজকের রাতে নিজ মেহমানের সাথে তোমাদের ব্যবহারে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন!"