📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 আমানতদার মেয়ে

📄 আমানতদার মেয়ে


একদা উমার রাত্রিবেলায় ছদ্মবেশে শহরে ঘুরছিলেন। এক দুধ-ব্যবসায়ীর ঘর থেকে মা-বেটির আওয়াজ তাঁর কানে এল; মা মেয়েকে বলছে, 'দুধে পানি দিয়ে দে, বেশি হবে।'

মেয়ে বলছে, 'আমীরুল মু'মিনীন এক ঘোষক দ্বারা ঘোষণা করিয়েছেন যে, দুধে পানি মিশানো যাবে না।'

মা বলছে, 'এখানে না তোকে উমার দেখতে পাবে, আর না তাঁর ঘোষক।'

মেয়ে বলছে, 'না মা! লোকালয়ে যার বাধ্য, নির্জনে তার অবাধ্যতা করতে পারি না! তাঁরা দেখেননি, তাঁদের রব তো দেখছেন!'

এমন আমানতদারীর কথোপকথন শুনে খলীফা উমার ঐ মেয়েকে নিজের পুত্রবধূ ক'রে নিলেন। আর সেই মহিলার বংশসূত্রে জন্ম নিয়েছিলেন পঞ্চম খলীফা উমার বিন আব্দুল আযীয।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 আল্লাহ তো দেখছেন

📄 আল্লাহ তো দেখছেন


একদিন শিক্ষক সকল ছাত্রদের মাঝে আপেল বিতরণ ক'রে বললেন, 'তোমরা স্কুল থেকে ফিরে গিয়ে আপেলটি এমন জায়গায় খাবে, যেখানে খাওয়া কেউ দেখতে পাবে না।'

পরদিন স্কুলে এলে শিক্ষক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমরা কোথায় কীভাবে আপেল খেয়েছ?'

কেউ বলল, 'আমি নির্জন বনের ভিতরে খেয়েছি।'
কেউ বলল, 'আমি জন-প্রাণীহীন ময়দানে খেয়েছি।'
কেউ বলল, 'আমি নির্জন কক্ষে দরজা বন্ধ ক'রে খেয়েছি।
কেউ বলল, 'আমি রাতের অন্ধকারে বাড়ির ছাদে গিয়ে একাকী খেয়েছি।'

কিন্তু তাদের মধ্যে একজন বলল, 'স্যার! আমি আপেল খেতে পারিনি।'

স্যার বললেন, 'তা কেন?'

সে বলল, 'যেখানে গেলাম, যে জায়গাকেই ভাবলাম, সেখানে কেউ আমার আপেল খাওয়া দেখতে পাবে না। কিন্তু সেখানেই ভাবলাম, কেউ না দেখুক, আল্লাহ তো দেখছেন। তাই আপনার নির্দেশ পালন ক'রে তা খেতে পারলাম না।'

শিক্ষক ঐ জ্ঞানী ছাত্রকে অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন এবং অনুরূপ সর্বদা সর্বস্থানে আল্লাহ-ভীতি রাখার ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করলেন।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 কৃপণদের পরিণতি

📄 কৃপণদের পরিণতি


মহান আল্লাহ দুনিয়াতে কোন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পরীক্ষা ক'রে থাকেন। যেমন তিনি পূর্ব যুগের একই পরিবারের বাগানের মালিক কয়েক ভাইকে পরীক্ষা করেছেন। তাদের ছিল সুন্দর বাগান, ফলে-শস্যে পরিপূর্ণ বাগান। এই বাগানটি (ইয়ামানের) সানআ' থেকে ৬ মাইল দূরত্বে অবস্থিত ছিল। তাদের পিতা সেই বাগানের উৎপন্ন ফল-মূল থেকে গরিব মিসকীনদেরকে দান করত। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন তার সন্তানরা তার উত্তরাধিকারী হল, তখন তারা বলল যে, এ থেকে আমাদের সংসারের খরচই তো কোন রকম বের হয়। তাই আমরা বাগানের উপার্জিত ফসল হতে গরিব ও অভাবীদেরকে কিরূপে দান করব? সুতরাং তারা বাগানের ফল দেখে ভুলে গেল তাদের সৃষ্টিকর্তাকে। বাগানের ফল আনতে যাওয়ার সময় ভুলে গেল আল্লাহর স্মরণ। ভুলে গেল সেই বাগানের ফসলের হকদারদের হকের কথা। ফল-ফসল কাটার সময় মিসকীনরা এসে চেয়ে-মেগে বিরক্ত করে। তাই ভাবল, তাদেরকে ফাঁকি দেবে। সুতরাং তারা শপথ করল যে, তারা ভোর-সকালে তুলে আনবে বাগানের ফল। আর তারা 'ইন শাআল্লাহ'ও বলল না! যদিও তাদের মধ্যম অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণ নিতে বলল।

আল্লাহর ইচ্ছায় ফল-ফসল হয়, সব কিছু ঘটে। তিনি না চাইলে ফল-ফসল হয় না, হলেও নষ্ট হয়ে যায়। পাকা ফসল ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি না চাইলে অনেকে বাড়া ভাতও খেতে পায় না। তাদের এই আচরণ দেখে তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। ফলে তাঁর নিকট হতে তাদের বাগানে রাত্রিকালে এক বিপর্যয় হানা দিল, যখন তারা ঘুমিয়ে ছিল। সুতরাং তাদের বাগান ফসল-কাটা ক্ষেতের মত হয়ে গেল। এদিকে ওরা ভোর-সকালে এক অপরকে ডাকাডাকি ক'রে বলল, 'তোমরা যদি ফল তুলতে চাও, তাহলে ভোর ভোর বাগানে চল।' অতঃপর তারা চুপিসারে কথা বলতে বলতে (পথ) চলতে শুরু করল, 'আজ যেন সেখানে তোমাদের নিকটে কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। বাগানে এসে কেউ যেন কিছু চাইতে না পারে। যেমন, আমাদের বাপের যামানায় লোকেরা এসে নিজেদের অংশ নিয়ে যেত।' সুতরাং তারা (অভাবীদেরকে) নিবৃত্ত করতে সক্ষম --এই বিশ্বাস নিয়ে প্রভাতকালে বাগানে গেল। কিন্তু তারা যখন বাগানের অবস্থা প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা ভাবল, এটা তাদের বাগান নয়। তারা বলল, 'আমরা তো পথ হারিয়ে ফেলেছি।' অবশ্য পরক্ষণে যখন তারা চিন্তা-ভাবনা করল, তখন জানতে পারল যে, বিপদগ্রস্ত এবং বিনাশিত এই বাগানই হল আমাদের বাগান। যাকে মহান আল্লাহ আমাদের কর্মদোষে এ রকম ক'রে দিয়েছেন। তখন তারা বলল, 'বরং আমরা তো বঞ্চিত!' সেখানে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের মধ্যম বা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলল, 'আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছ না কেন?' অথবা 'ইন শাআল্লাহ' বলছ না কেন?

সুতরাং তারা বলল, 'আমরা আমাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, নিশ্চয় আমরা আমাদের আচরণে সীমালংঘনকারী ছিলাম।'

তবুও এ দুর্ঘটনার জন্য তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল। তারা আফসোস ক'রে বলল, 'হায় দুর্ভোগ আমাদের! নিশ্চয় আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম। আমরা আশা রাখি যে, আমাদের প্রতিপালক এর পরিবর্তে আমাদেরকে উৎকৃষ্ট বাগান দেবেন; আমরা আমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হলাম।'

সবশেষে তারা আপোসে অঙ্গীকারবদ্ধ হল যে, আল্লাহ যদি পুনরায় আমাদেরকে মাল-ধন দান করেন, তাহলে আমরা পিতার মতোই তা হতে গরিবদের অধিকার আদায় করব। আর এই জন্যই তারা লজ্জিত হয়ে তওবা ক'রে প্রতিপালকের নিকট আশার কথাও ব্যক্ত করল। কেউ আল্লাহর ধন পেয়ে কার্পণ্য করলে শাস্তি এরূপই হয়ে থাকে। আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই কঠিনতর।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 দুই বন্ধুর ধন-জন

📄 দুই বন্ধুর ধন-জন


দুই বন্ধু ছিল। মহান আল্লাহ তাদের একজনকে দান করেছিলেন দু'টি আঙুর বাগান এবং সে দু'টিকে তিনি খেজুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন। আর এই দুয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে করেছিলেন শস্যক্ষেত্র।

উভয় বাগানই ফল দান করত এবং এতে কোন ত্রুটি করত না। আর উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রবাহিত ছিল নদী। যাতে বাগানের সেচের ব্যাপারে যেন কোন বাধা সৃষ্টি না হয় অথবা বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল অঞ্চলের মত যেন বৃষ্টির মুখাপেক্ষী না হয়।

সেই বাগানের ফল-ফসলের দরুন তার প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল। অতঃপর একদিন কথা প্রসঙ্গে সে তার বন্ধুকে গর্বের সাথে বলল, 'ধন-সম্পদে তোমার তুলনায় আমি শ্রেষ্ঠ এবং জনবলে তোমার তুলনায় আমি বেশি শক্তিশালী। আমার অনেক মাল-সম্পদ। আমার অনেক সন্তান-সন্ততি ও ভৃত্য-চাকর।'

সে ব্যক্তি কেবল অহংকার ও দাম্ভিকতাতেই পতিত ছিল না, বরং তার উন্মত্ততা ও ভবিষ্যতের সৌন্দর্যময় ও সুদীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে আল্লাহর পাকড়াও এবং কুকর্মের প্রতিফল পাওয়ার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন ক'রে রেখেছিল। এমন কি সে কিয়ামতকেও অস্বীকার করল এবং বড়ই ধৃষ্টতা প্রদর্শন ক'রে বলল, 'আমি মনে করি না যে, আমার এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি মনে করি না যে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব।' তার মানে কিয়ামত যদি সংঘটিত হয়ও, তবে সেখানেও আমার ভাগ্যে জুটবে উত্তম পরিণাম।

আসলে যার কুফরী ও অবাধ্যতা সীমা অতিক্রম ক'রে যায়, সে মাতালের মত এই ধরনের অহংকারমূলক দাবী করে।

যাই হোক উত্তরে তাকে তার বন্ধু বলল, 'তুমি কি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে ও পরে বীর্য হতে এবং তারপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন মনুষ্য আকৃতিতে? সৃষ্টিকর্তার প্রতি এমন অবিশ্বাস ও অস্বীকার কোনমতেই সঠিক নয়। কিন্তু আমি বলি, তিনি আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাউকেও আমার প্রতিপালকের সাথে শরীক করি না।'

অতঃপর আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বলল যে, বাগানে প্রবেশ করার সময় অবাধ্যতা ও অহংকার প্রদর্শন না ক'রে আল্লাহর ইচ্ছাশক্তির কথা স্মরণ করলে ভালো হত। সুতরাং বলল, 'তুমি যখন ধনে ও সন্তানে তোমার তুলনায় আমাকে কম দেখলে, তখন তোমার বাগানে প্রবেশ ক'রে তুমি কেন বললে না, "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে; আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই।" তুমি আমাকে তুচ্ছ করছ? সম্ভবতঃ আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ হতে আগুন বর্ষণ করবেন; যার ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে। অথবা ওর পানি ভূ-গর্ভে অন্তর্হিত হবে এবং তুমি কখনো ওকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।'

হলও তাই। তার অবিশ্বাস, অস্বীকার ও অহংকারের প্রতিফল দুনিয়াতেই পেয়ে গেল। সুতরাং তার বাগানের ফল-সম্পদ বিপর্যয় দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল; যখন তা মাচান সহ পড়ে গেল। সে বলতে লাগল, 'হায়! আমি যদি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরীক না করতাম।'

তখন আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোকজন ছিল না এবং সে নিজেও প্রতিকারে সমর্থ হল না।

আর এই ক্ষেত্রে সাহায্য করবার অধিকার সত্য আল্লাহরই। পুরস্কারদানে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই শ্রেষ্ঠ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00