📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দেয়া

📄 ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দেয়া


প্রতিবেশী যেরূপ বিপদে-আপদে প্রথমেই সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে পারে অনুরূপ আবার কোন কিছু ক্রয়-বিক্রয় হলে তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। যদি প্রতিবেশী দ্রব্যের দাম কম দেয় তবুও তার নিকটেই তা বিক্রয় করতে হবে। কারণ সেই এটার অধিকার বেশি রাখে। মহানাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এ শিক্ষাই দিয়েছেন।
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ قَالَ : جَاءَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى يَدِهِ عَلَى مُنكَبِي فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ إِلَى سَعْدٍ فَقَالَ أَبُو رَافِعِ الْمِسْوَرِ أَلَا تَأْمُرُ هَذَا أَنْ يَشْتَرى مِنِّي بَيْتِي الَّذِي فِي دَارِي؟ فَقَالَ لَا أَزِيدَهُ عَلَى أَرْبِعِ مِائَةٍ إِمَّا مقطةً وَإِمَّا مَنَجَمَةً قَالَ : أُعْطِيتُ خَمْسَ مِائَةِ نَقْدِ فَمَنَعْتَهُ وَلَوْلَا أَنِي سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ مَا بِعُتَكَهُ أَوْ قَالَ : مَا أَعْطَيْتُكَهُ
আমর ইবনু শারীদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: মিসাওয়ার ইবনু মাখরামাহ এসে আমার কাঁধে হাত রাখলো। আমি তার সাথে সা'দের কাছে গেলাম তখন আবূ রাফি' মিসওয়ারকে বললো: আমার বাড়িতে যে ঘরটি রয়েছে তা ক্রয়ের জন্য সা'দকে কেন বলছো না? সা'দ বললো, আমি চারশতর বেশি দেব না। তা-ও কিস্তিতে কিস্তিতে পরিশোধ করবো। আবূ রাফি' বললো: আমাকে তো নগদ পাঁচশ'র প্রস্তাব করা হয়েছে কিন্তু আমি দেইনি। যদি আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে না শুনতাম প্রতিবেশী তার সংলগ্ন সম্পত্তি ক্রয়ের ব্যাপারে অধিক হাক্বদার তাহলে আমি তোমার কাছে বিক্রয় করতাম না অথবা বলেছেন, আমি তোমাকে তা দিতাম না। -বুখারী

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীকে ছোট-খাট বস্তু দান থেকে বিরত থাকা

📄 প্রতিবেশীকে ছোট-খাট বস্তু দান থেকে বিরত থাকা


মহান রব্বুল 'আলামীন মানুষের মাঝে সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ধনী-গরীব, উঁচু-নীচু করে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, এজন্যই ধনীদের সম্পদে অভাবীদের হাক্ব রয়েছে। যা ধনীরা গরীব মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করবে। মহান আল্লাহ সায়েল বা যাজ্ঞাকারীদের হাক্ব সম্পর্কে বলেনঃ
وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ * لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ * আর যাদের (ধনীদের) সম্পদে নির্ধারিত হাক্ব রয়েছে- যাজ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের। -সূরাঃ মা'আরিজ- ২৪-২৫
এ হাক্বের ক্ষেত্রে কিংবা প্রয়োজনে কিছু চাইলে ধনী ও প্রতিবেশীদের তা দেয়া আবশ্যক। যদি কেউ ছোট-খাটো বস্তু দানে অপারগতা প্রকাশ করে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। মহান আল্লাহ সূরা মাউনে বলেনঃ
وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ * গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে। এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। -সূরাঃ মাউন- ৭
আলী রযিআল্লাহু আনহু মাউন শব্দের অর্থ যাকাত পরিশোধ বলেও উল্লেখ করেছেন। ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারগণও একই কথা বলেছেন। হাসান বাসরী রযিআল্লাহু আনহু বলেন যে, তাদের সলাত আদায়ে রিয়াকারী ও অহঙ্কার প্রকাশক। তাদের সম্পদের সাদকার মধ্যে রিয়া বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য রয়েছে। যায়িদ ইবনু আসলাম রহিমাহুল্লাহ বলেন যে, এই মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য সলাত আদায় করে, কারণ সলাত প্রকাশ্য ব্যাপার। তবে তারা যাকাত আদায় করে না, কারণ যাকাত গোপনীর ব্যাপার। ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু বলেন যে, মাউন ঐ সব জিনিসকে বলা হয় যা মানুষ একে অন্যের নিকট চেয়ে থাকে। যেমন কোদাল, বালতি, ডেকচি ইত্যাদি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, বর্ণনাকারী বলেন : “আমরা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং মাউনের উক্ত তাফসীরই করেছি।”
সুনানে নাসাঈতে আব্দুল্লাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “প্রত্যেক ভালো জিনিসই সাদাকাহ। ডোল, হাঁড়ি, বালতি ইত্যাদি দেয়াকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে আমরা মাউন নামে অভিহিত করতাম। মোটকথা এর অর্থ হলো যাকাত না দেয়া, আনুগত্য না করা, কোন জিনিস চাইলে না দেয়া, ছোট ছোট জিনিস কেউ কিছু সময়ের জন্য নিতে চাইলে না দেয়া, যেমন চালুনি, কোদাল, দা, কুড়াল, ডেকচি, ডোল ইত্যাদি।
عَنْ عَلِي بْنِ فُلَانِ النُّمَيْرِى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : الْمُسْلِمُ أَخو المُسْلِمِ إِذَا لَقِيَهُ حَيَّاهُ بِالسَّلَامِ وَيَرِدْ عَلَيْهِ مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ لَا يَمْنَعُ الْمَاعُونَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمَاعُونَ قَالَ : الْحَجَرُ وَالْحَدِيدُ وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ *
আলী ইবনু ফুলান নুমাইরী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন- “মুসলমান মুসলমানের ভাই। দেখা হলে সালাম করবে, সালাম করলে তার থেকে ভাল জবাব দিবে এবং মাউনের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানাবে না অর্থাৎ নিষেধ করবে না।” আলী নুমাইরী রযিআল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, "মাউন কি?” উত্তরে তিনি বললেন, "পাথর, লোহা এবং এ জাতীয় অন্যান্য জিনিস।” -ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ৭২১ পৃষ্ঠা ও বাঙলা- ১৮ খণ্ড ২৯১-২৯২ পৃষ্ঠা
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতিবেশীর অধিকার ও হাক্ব এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জানা গেলো। তাই সর্বাবস্থায় তাদের অধিকারের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে কুরআন ও হাদীসের উপর আমল করে সে বিষয়ের উপর অবিচল রাখার তাওফীক দান করেন- আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00