📄 প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণের পরিণাম
যারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করে বলেছেন: যারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় তারা মু'মিন নয়। যেসব কারণে মানুষ জান্নাতে যেতে পারবে না- প্রতিবেশীকে কষ্ট প্রদানকারী তাদের মধ্যে অন্যতম।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ *
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।-মুসলিম, আনওয়ারুল হাদীস ২৪০ পৃঃ
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنْ وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنْ وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ قِيلَ وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنْ جَارُهُ بَوَائِقَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِي
আবী শুরাইহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন নয়, আল্লাহর কসম! সে লোক মু'মিন নয়! আল্লাহর কসম! সে লোক মু'মিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো- কোন ব্যক্তি হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তির অনিষ্ট হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। -বুখারী
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَسمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ، كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا مَنْ أَحَبَّ، فَمَنْ أَعْطَاهُ الدِّينَ فَقَدْ أَحَبَّهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَسْلِمُ عَبْدُ حَتَّى يُسْلِمَ قَلبُهُ وَلِسَانُهُ، وَلَا يُؤْمِنُ حَتَّى يَأْمَنَ جَارَهُ بَوَائِقَهُ» قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا بَوَائِقَهُ؟ قَالَ : «غشمهُ وَظَلَمُهُ، وَلَا يَكْسِبُ مَالًا مِنْ حَرَامٍ، فَيُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارِكْ فِيهِ، وَلَا يَتَصَدَّقُ بِهِ فَيُقْبَلُ مِنْهُ، وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللهَ لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ، وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَ» رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মধ্যে যেভাবে তোমাদের জীবিকা বণ্টন করেছেন, সেভাবে তোমাদের মধ্যে তোমাদের গুণাবলীও বণ্টন করেছেন। আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার সুখ ও সম্পদ যাকে ভালোবাসেন তাকেও দেন, যাকে ভালো বাসেন না- তাকেও দেন। কিন্তু আখিরাতের সুখ-শান্তি কেবল তাকেই দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং যাকে তিনি দীনদার সুলভ জ্ঞান ও চরিত্র দিয়েছেন, তাকে নিশ্চয়ই তিনি ভালোবাসেন। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! কোন বান্দার মন ও জিহ্বা যতক্ষণ ইসলামের অনুসারী না হয়, ততক্ষণ সে মু'মিন হতে পারবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অনিষ্ট অর্থ কী? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যুলুম ও বাড়াবাড়ি। কোন ব্যক্তি যদি অবৈধ উপায়ে কোন সম্পদ উপার্জন করে, অতঃপর তা ব্যয় করে, তবে তাতে কোন বারকাত বা কল্যাণ লাভ করবে না, সেই সম্পদ সাদাকাহ্ করলে তাও কবুল হবে না, আর সেই সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেলে তা তার দোযখের সম্বল হবে। আল্লাহ অন্যায়কে অন্যায় দ্বারা প্রতিহত করেন না। তিনি অন্যায়কে ভালো কাজ দ্বারা প্রতিহিত করেন। নোংরা জিনিস নোংরা জিনিসকে দূরে করে না। -আহমাদ, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড হাদীস নং ১৩০০।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَمْ مِنْ جَارٍ مُتَعَلَّقَ بِجَارِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ يَارَبِّ هَذَا أَغْلَقُ بَابَهُ دُونِي فَمَنَعَ مَعْرُوفَهُ *
ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- অনেক প্রতিবেশী কিয়ামতের দিন তার প্রতিবেশীকে অভিযুক্ত করবে এবং বলবে, এই ব্যক্তি আমার জন্য তার দ্বার রুদ্ধ করে রেখেছিল এবং আমাকে তার সদাচার থেকে বঞ্চিত করেছে। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আহাদীসুস সহীহাহ- ২৬৪৬
عَنْ أَبِي عَامِرِ الْحِمْصِيُّ قَالَ كَانَ ثَوْبَانَ يَقُولُ مَا مِنْ جَارٍ يَظْلِمُ جَارَهُ وَيَقْهَر حَتَّى يَحْمَلَهُ ذَلِكَ عَلَى أَنْ يَخْرُجَ مِنْ مَنْزِلِهِ إِلَّا هَلَكَ *
আবূ আমির হিমসী রযিআল্লাহু আনহু বলেন : সাওবান রযিআল্লাহু আনহু বলতেন: যে প্রতিবেশী তার অপর প্রতিবেশীকে নির্যাতন করে বা তার সাথে হীন আচরণ করে ফলে সে নিজ বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হয় সে ধ্বংস হলো। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ সহীহ সানাদে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ فُلَانَةٌ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ وَتَفْعَلُ وَتَصَدَّقُ وَتُؤْذِي جِيرَانَهَا بِلِسَانِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا خَيْرَ فِيْهِ هِيَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قَالُوا وَفُلَانَةٌ تُصَلَّى الْمَكْتُوبَةَ وَتَصَدَّقُ بِأَثْوَابِ وَلَا تُؤْذِي أَحَدًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো- হে আল্লাহর রসূল! অমুক নারী সারা রাত সলাত পড়ে, সারা দিন রোযা রাখে, ভাল কাজ করে, দান খয়রাত করে এবং নিজ প্রতিবেশীদেরকে মুখের কথায় কষ্ট দেয়। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। সে জাহান্নামী। পুনরায় সাহাবাগণ বললেন : অমুক নারী ফরয সলাত পড়ে, বস্ত্র দান করে এবং কাউকে কষ্ট দেয় না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে জান্নাতী। -আবূ দাউদ, মুসনাদ আহমাদ, ইবনু হিব্বান, আদাবুল মুফরাদ- ১১৮ নং হাদীস, আল্লামা আলবানী হাদীসটি সহীহ্ বলেছেন।
📄 ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দেয়া
প্রতিবেশী যেরূপ বিপদে-আপদে প্রথমেই সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে পারে অনুরূপ আবার কোন কিছু ক্রয়-বিক্রয় হলে তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। যদি প্রতিবেশী দ্রব্যের দাম কম দেয় তবুও তার নিকটেই তা বিক্রয় করতে হবে। কারণ সেই এটার অধিকার বেশি রাখে। মহানাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এ শিক্ষাই দিয়েছেন।
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ قَالَ : جَاءَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى يَدِهِ عَلَى مُنكَبِي فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ إِلَى سَعْدٍ فَقَالَ أَبُو رَافِعِ الْمِسْوَرِ أَلَا تَأْمُرُ هَذَا أَنْ يَشْتَرى مِنِّي بَيْتِي الَّذِي فِي دَارِي؟ فَقَالَ لَا أَزِيدَهُ عَلَى أَرْبِعِ مِائَةٍ إِمَّا مقطةً وَإِمَّا مَنَجَمَةً قَالَ : أُعْطِيتُ خَمْسَ مِائَةِ نَقْدِ فَمَنَعْتَهُ وَلَوْلَا أَنِي سَمِعْتُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ مَا بِعُتَكَهُ أَوْ قَالَ : مَا أَعْطَيْتُكَهُ
আমর ইবনু শারীদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: মিসাওয়ার ইবনু মাখরামাহ এসে আমার কাঁধে হাত রাখলো। আমি তার সাথে সা'দের কাছে গেলাম তখন আবূ রাফি' মিসওয়ারকে বললো: আমার বাড়িতে যে ঘরটি রয়েছে তা ক্রয়ের জন্য সা'দকে কেন বলছো না? সা'দ বললো, আমি চারশতর বেশি দেব না। তা-ও কিস্তিতে কিস্তিতে পরিশোধ করবো। আবূ রাফি' বললো: আমাকে তো নগদ পাঁচশ'র প্রস্তাব করা হয়েছে কিন্তু আমি দেইনি। যদি আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে না শুনতাম প্রতিবেশী তার সংলগ্ন সম্পত্তি ক্রয়ের ব্যাপারে অধিক হাক্বদার তাহলে আমি তোমার কাছে বিক্রয় করতাম না অথবা বলেছেন, আমি তোমাকে তা দিতাম না। -বুখারী
📄 প্রতিবেশীকে ছোট-খাট বস্তু দান থেকে বিরত থাকা
মহান রব্বুল 'আলামীন মানুষের মাঝে সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ধনী-গরীব, উঁচু-নীচু করে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, এজন্যই ধনীদের সম্পদে অভাবীদের হাক্ব রয়েছে। যা ধনীরা গরীব মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করবে। মহান আল্লাহ সায়েল বা যাজ্ঞাকারীদের হাক্ব সম্পর্কে বলেনঃ
وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ * لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ * আর যাদের (ধনীদের) সম্পদে নির্ধারিত হাক্ব রয়েছে- যাজ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের। -সূরাঃ মা'আরিজ- ২৪-২৫
এ হাক্বের ক্ষেত্রে কিংবা প্রয়োজনে কিছু চাইলে ধনী ও প্রতিবেশীদের তা দেয়া আবশ্যক। যদি কেউ ছোট-খাটো বস্তু দানে অপারগতা প্রকাশ করে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। মহান আল্লাহ সূরা মাউনে বলেনঃ
وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ * গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সাহায্য দানে বিরত থাকে। এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। -সূরাঃ মাউন- ৭
আলী রযিআল্লাহু আনহু মাউন শব্দের অর্থ যাকাত পরিশোধ বলেও উল্লেখ করেছেন। ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তাফসীরকারগণও একই কথা বলেছেন। হাসান বাসরী রযিআল্লাহু আনহু বলেন যে, তাদের সলাত আদায়ে রিয়াকারী ও অহঙ্কার প্রকাশক। তাদের সম্পদের সাদকার মধ্যে রিয়া বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য রয়েছে। যায়িদ ইবনু আসলাম রহিমাহুল্লাহ বলেন যে, এই মুনাফিকরা লোক দেখানোর জন্য সলাত আদায় করে, কারণ সলাত প্রকাশ্য ব্যাপার। তবে তারা যাকাত আদায় করে না, কারণ যাকাত গোপনীর ব্যাপার। ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু বলেন যে, মাউন ঐ সব জিনিসকে বলা হয় যা মানুষ একে অন্যের নিকট চেয়ে থাকে। যেমন কোদাল, বালতি, ডেকচি ইত্যাদি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, বর্ণনাকারী বলেন : “আমরা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং মাউনের উক্ত তাফসীরই করেছি।”
সুনানে নাসাঈতে আব্দুল্লাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “প্রত্যেক ভালো জিনিসই সাদাকাহ। ডোল, হাঁড়ি, বালতি ইত্যাদি দেয়াকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলে আমরা মাউন নামে অভিহিত করতাম। মোটকথা এর অর্থ হলো যাকাত না দেয়া, আনুগত্য না করা, কোন জিনিস চাইলে না দেয়া, ছোট ছোট জিনিস কেউ কিছু সময়ের জন্য নিতে চাইলে না দেয়া, যেমন চালুনি, কোদাল, দা, কুড়াল, ডেকচি, ডোল ইত্যাদি।
عَنْ عَلِي بْنِ فُلَانِ النُّمَيْرِى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : الْمُسْلِمُ أَخو المُسْلِمِ إِذَا لَقِيَهُ حَيَّاهُ بِالسَّلَامِ وَيَرِدْ عَلَيْهِ مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ لَا يَمْنَعُ الْمَاعُونَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمَاعُونَ قَالَ : الْحَجَرُ وَالْحَدِيدُ وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ *
আলী ইবনু ফুলান নুমাইরী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন- “মুসলমান মুসলমানের ভাই। দেখা হলে সালাম করবে, সালাম করলে তার থেকে ভাল জবাব দিবে এবং মাউনের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানাবে না অর্থাৎ নিষেধ করবে না।” আলী নুমাইরী রযিআল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, "মাউন কি?” উত্তরে তিনি বললেন, "পাথর, লোহা এবং এ জাতীয় অন্যান্য জিনিস।” -ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ৭২১ পৃষ্ঠা ও বাঙলা- ১৮ খণ্ড ২৯১-২৯২ পৃষ্ঠা
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতিবেশীর অধিকার ও হাক্ব এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জানা গেলো। তাই সর্বাবস্থায় তাদের অধিকারের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে কুরআন ও হাদীসের উপর আমল করে সে বিষয়ের উপর অবিচল রাখার তাওফীক দান করেন- আমীন।