📄 প্রতিবেশীকে খাদ্য না দিয়ে আহার করা
নিজেকে মু'মিন হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিবেশীকে খাদ্য প্রদান করা অবশ্যই কর্তব্য। প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজে পেট পুরে খাওয়া মোটেই সমীচীন নয়। যথাসাধ্য প্রতিবেশীকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। কারণ প্রতিবেশীকে খাদ্য দান করলে ঈমান টিকে থাকবে।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُؤْمِنُ عَبْدُ حَتَّى يُحِبُّ لِجَارِهِ أَوْ قَالَ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ 6 لِنَفْسِهِ رَوَاهُ مُسْلِم
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সেই মহান আল্লাহর কসম! কোন বান্দা নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার প্রতিবেশীর জন্যও তা পছন্দ না করা পর্যন্ত সে মু'মিন হতে পারবে ন। -মুসলিম, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১২৯৬ নং হাদীস।
عَنْ ابْنِ الزُّبَيْرِ يَقُولُ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : لَيْسَ الْمُؤْمِنُ الَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِعٌ *
আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভূক্ত রেখে তৃপ্তিসহকারে আহার করে- সে মু'মিন নয়। -আদাবুল মুফরাদ- ১১২ নং, হাদীসটি সহীহ।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ * مَا أَمِنَ بِي مَنْ بَاتَ شَبْعَانَ وَجَارَهُ جَائِعٌ إِلى جَنْبِهِ وَهُوَ يَعْلَمُ بِهِ *
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ঐ ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমানই রাখে না, যে পেট ভরে রাত কাটায় অথচ তার জানা সত্ত্বেও তার পাশেই তার প্রতিবেশী উপোস থাকে। -মুসনাদ বায্যার, আনওয়ারুল হাদীস- ২৪০ পৃষ্ঠা
📄 অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ
অনেকের ধারণা তার প্রতিবেশী অভাবগ্রস্থ হলেও দীনদার নয় তাই তারা তাদের সাহায্য-সহযোগীতা করতে আপত্তি করে। এটা মোটেও ঠিক নয়। কারণ প্রতিবেশী দীনদার না হলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে। কেননা কাকে কখন আল্লাহ হিদায়াত দান করে তা বলা মুশকিল। যে প্রতিবেশীকে আপনি ভালো চোখে দেখছেন না অচিরেই হয়তোবা সে তাওবাহ করে আল্লাহর নিকট আপনার থেকে প্রিয় বান্দা বলে গণ্য হবে। অথবা তার এমন একটি ভাল কাজ গোপন থাকতে পারে যেটা তার জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিধায় সকল প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা কর্তব্য। এমনকি ইয়াহুদী অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি সদাচারণ করতে হবে। কারণ এতে করে সে ঈমান আনতে পারে। তাইতো আব্দুল্লাহ বিন আমর রযিআল্লাহু আনহু অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি গুরুত্ব দিতেন।
عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ : كُنتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَغُلَامُهُ يَسْلُحْ شَاةً فَقَالَ يَا غُلَامُ إِذَا فَرَغْتَ فَابْدَأَ بِجَارِنَا الْيَهُودِي فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ الْيَهُودِي أَصْلَحَكَ اللهُ قَالَ : إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِي بِالْجَارِ حتَّى خَشِينَا أَوْ رُوَيْنَا أَنَّهُ سَيُورَتَهُ *
মুজাহিদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রযিআল্লাহু আনহু-এর নিকট ছিলাম। তখন তার গোলাম ছাগলের চামড়া ছড়াচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে বালক! অবসর হয়েই তুমি প্রথমে আমাদের ইয়াহুদী প্রতিবেশীকে গোস্ত দিবে। এক ব্যক্তি বললো: ইয়াহুদীকে? আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন। তিনি বললেন : আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রতিবেশী সম্পর্কে উপদেশ দিতে শুনেছি। এমনকি আমাদের আশঙ্কা হলো বা আমাদের নিকট প্রতিয়মান হলো যে, তিনি অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দিবেন। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আলবানী হাদীসটি সহীহ্ বলেছেন; ইরওয়াউল গালীল- ৮৯১
📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া বড় অপরাধ
সুখে-দুঃখে যারা সব সময় নিকটে থাকতে পারে তারা হলো প্রতিবেশী। ক্ষুধার্ত থাকলে তারা খাদ্য দিতে পারে। বস্ত্রহীন থাকলে তারা বস্ত্র দিতে পারে। বিপদে পড়লে তারা সাহায্য করতে পারে। অসুখে পড়লে তারা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনকি মৃত্যু হলে তারাই সর্বপ্রথম দাফন কাজে এগিয়ে আসতে পারে। সেই হিতাকাঙ্ক্ষী প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া বড় অপরাধ হওয়াই স্বাভাবিক। একারণেই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِي جَارَهُ - متفق عليه *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে যে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। -বুখারী, মুসলিম
প্রতিবেশীর অধিকার যেমন বেশি তদ্রূপ তাদের সাথে মন্দ ব্যবহার করলে অপরাধ বেশি। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পাপের দৃষ্টান্ত দিয়ে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে সতর্ক করে বলেছেনঃ
عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ يَقُولُ سَأَلَ رَسُولُ اللَّهِ أَصْحَابَهُ عَنِ الزِّنَا قَالُوا حرام حرمه الله وَرَسُولُهُ فَقَالَ : لَان يَزْنِي الرَّجُلُ : لأن يزني الرَّجُلُ بِعَشْرِ نِسْوَةٍ أَيْسَرُ عَلَيْهِ الله مِنْ أَنْ يَزْنِي بِامْرَأَةِ جَارِهِ وَسَأَلَهُمْ عَنِ السَّرْقَةِ؟ قَالُوا : حَرَامٌ حَرَّمَهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولَهُ فَقَالَ لَأَنْ يَسْرِقَ مِنْ عَشَرَةِ أَهْلِ أَبْيَاتٍ أَيْسَرُ مِنْ أَنْ يَسْرِقَ مکار مِنْ بَيْتِ جَارِهِ *
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে যেনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন: তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রসূল তা হারাম করেছেন। তিনি বললেন : কোন ব্যক্তির দশটি নারীর সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়া তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তার যেনা করার চেয়ে হালকা অপরাধ? পুনরায় তিনি তাদেরকে চুরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন: তারা বললেন: হারাম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রসূল হারাম করেছেন। তিনি বললেন: কোন ব্যক্তির দশ পরিবার চুরি করা তার প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করার চেয়ে হালকা অপরাধ। -বুখারী আদুবুল মুফরাদ; আল্লামা আল-বানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন
📄 প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণের পরিণাম
যারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়, তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করে বলেছেন: যারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় তারা মু'মিন নয়। যেসব কারণে মানুষ জান্নাতে যেতে পারবে না- প্রতিবেশীকে কষ্ট প্রদানকারী তাদের মধ্যে অন্যতম।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ *
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।-মুসলিম, আনওয়ারুল হাদীস ২৪০ পৃঃ
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنْ وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنْ وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ قِيلَ وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنْ جَارُهُ بَوَائِقَهُ رَوَاهُ الْبُخَارِي
আবী শুরাইহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন নয়, আল্লাহর কসম! সে লোক মু'মিন নয়! আল্লাহর কসম! সে লোক মু'মিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো- কোন ব্যক্তি হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তির অনিষ্ট হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। -বুখারী
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَسمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ، كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا مَنْ أَحَبَّ، فَمَنْ أَعْطَاهُ الدِّينَ فَقَدْ أَحَبَّهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَسْلِمُ عَبْدُ حَتَّى يُسْلِمَ قَلبُهُ وَلِسَانُهُ، وَلَا يُؤْمِنُ حَتَّى يَأْمَنَ جَارَهُ بَوَائِقَهُ» قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا بَوَائِقَهُ؟ قَالَ : «غشمهُ وَظَلَمُهُ، وَلَا يَكْسِبُ مَالًا مِنْ حَرَامٍ، فَيُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارِكْ فِيهِ، وَلَا يَتَصَدَّقُ بِهِ فَيُقْبَلُ مِنْهُ، وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللهَ لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ، وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَ» رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মধ্যে যেভাবে তোমাদের জীবিকা বণ্টন করেছেন, সেভাবে তোমাদের মধ্যে তোমাদের গুণাবলীও বণ্টন করেছেন। আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার সুখ ও সম্পদ যাকে ভালোবাসেন তাকেও দেন, যাকে ভালো বাসেন না- তাকেও দেন। কিন্তু আখিরাতের সুখ-শান্তি কেবল তাকেই দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং যাকে তিনি দীনদার সুলভ জ্ঞান ও চরিত্র দিয়েছেন, তাকে নিশ্চয়ই তিনি ভালোবাসেন। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! কোন বান্দার মন ও জিহ্বা যতক্ষণ ইসলামের অনুসারী না হয়, ততক্ষণ সে মু'মিন হতে পারবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অনিষ্ট অর্থ কী? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যুলুম ও বাড়াবাড়ি। কোন ব্যক্তি যদি অবৈধ উপায়ে কোন সম্পদ উপার্জন করে, অতঃপর তা ব্যয় করে, তবে তাতে কোন বারকাত বা কল্যাণ লাভ করবে না, সেই সম্পদ সাদাকাহ্ করলে তাও কবুল হবে না, আর সেই সম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেলে তা তার দোযখের সম্বল হবে। আল্লাহ অন্যায়কে অন্যায় দ্বারা প্রতিহত করেন না। তিনি অন্যায়কে ভালো কাজ দ্বারা প্রতিহিত করেন। নোংরা জিনিস নোংরা জিনিসকে দূরে করে না। -আহমাদ, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড হাদীস নং ১৩০০।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَمْ مِنْ جَارٍ مُتَعَلَّقَ بِجَارِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ يَارَبِّ هَذَا أَغْلَقُ بَابَهُ دُونِي فَمَنَعَ مَعْرُوفَهُ *
ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- অনেক প্রতিবেশী কিয়ামতের দিন তার প্রতিবেশীকে অভিযুক্ত করবে এবং বলবে, এই ব্যক্তি আমার জন্য তার দ্বার রুদ্ধ করে রেখেছিল এবং আমাকে তার সদাচার থেকে বঞ্চিত করেছে। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আহাদীসুস সহীহাহ- ২৬৪৬
عَنْ أَبِي عَامِرِ الْحِمْصِيُّ قَالَ كَانَ ثَوْبَانَ يَقُولُ مَا مِنْ جَارٍ يَظْلِمُ جَارَهُ وَيَقْهَر حَتَّى يَحْمَلَهُ ذَلِكَ عَلَى أَنْ يَخْرُجَ مِنْ مَنْزِلِهِ إِلَّا هَلَكَ *
আবূ আমির হিমসী রযিআল্লাহু আনহু বলেন : সাওবান রযিআল্লাহু আনহু বলতেন: যে প্রতিবেশী তার অপর প্রতিবেশীকে নির্যাতন করে বা তার সাথে হীন আচরণ করে ফলে সে নিজ বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হয় সে ধ্বংস হলো। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ সহীহ সানাদে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قِيلَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ فُلَانَةٌ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ وَتَفْعَلُ وَتَصَدَّقُ وَتُؤْذِي جِيرَانَهَا بِلِسَانِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا خَيْرَ فِيْهِ هِيَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قَالُوا وَفُلَانَةٌ تُصَلَّى الْمَكْتُوبَةَ وَتَصَدَّقُ بِأَثْوَابِ وَلَا تُؤْذِي أَحَدًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো- হে আল্লাহর রসূল! অমুক নারী সারা রাত সলাত পড়ে, সারা দিন রোযা রাখে, ভাল কাজ করে, দান খয়রাত করে এবং নিজ প্রতিবেশীদেরকে মুখের কথায় কষ্ট দেয়। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। সে জাহান্নামী। পুনরায় সাহাবাগণ বললেন : অমুক নারী ফরয সলাত পড়ে, বস্ত্র দান করে এবং কাউকে কষ্ট দেয় না। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে জান্নাতী। -আবূ দাউদ, মুসনাদ আহমাদ, ইবনু হিব্বান, আদাবুল মুফরাদ- ১১৮ নং হাদীস, আল্লামা আলবানী হাদীসটি সহীহ্ বলেছেন।