📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীকে খাদ্য দান

📄 প্রতিবেশীকে খাদ্য দান


একজন প্রতিবেশীর উপর তার অপর প্রতিবেশীর হাক্ব হচ্ছে যে, উক্ত প্রতিবেশী যেন তার সাধ্যানুসারে তার ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, কল্যাণকারীতা ও খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে তার সাথে সদ্ব্যবহার করে। না পারলে একটু ঝোল দিয়ে হলেও যেন সে প্রতিবেশীকে খাদ্যে শরীক করে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا نِسَاءَ المُسْلِمَاتِ يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةً لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسَنَ شَاةٍ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে মুসলিম নারীগণ! হে মুসলিম নারীগণ! কোন প্রতিবেশীনী যেন তার অপর প্রতিবেশীনীকে বকরীর ক্ষুর উপঢৌকন দেয়াকেও তুচ্ছ মনে না করে। -বুখারী, মুসলিম, আদাবুল মুফরাদ- ১২২ নং হাদীস
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي جَارِينِ فَإِلَى أَيُّهُمَا أُهْدِى؟ قَالَ إِلَى أَقْرَبِهِمَا مِنْكَ بَابًا *
. আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দু'জন প্রতিবেশী রয়েছে, তাই আমি এদের মধ্য থেকে কাকে হাদিয়া বা উপঢৌকন দিবো? নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার ঘরের দরজা তোমার অধিক নিকটবর্তী। -বুখারী, ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৫৮ পৃষ্ঠা; আনওয়ারুল হাদীস- ২৪১ পৃষ্ঠা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ وَلَا يُبْدَءُ بِجَارِهِ الْأَقْصَى قَبْلَ الْأَدْنَى وَلَكِنْ يُبْدَأُ بِالْأَدْنَى قَبْلَ الْأَقْصَى *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: নিকটবর্তী প্রতিবেশীকে বাদ দিয়ে দূরতর প্রতিবেশী থেকে (উপঢৌকনাদি প্রেরণ) শুরু করা যাবে না, বরং দূরবর্তী জনের পূর্বে নিকটবর্তী জন থেকে তা শুরু করতে হবে। -আল-আদাবুল মুফরাদ ১০৯ নং হাদীস।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীকে খাদ্য না দিয়ে আহার করা

📄 প্রতিবেশীকে খাদ্য না দিয়ে আহার করা


নিজেকে মু'মিন হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিবেশীকে খাদ্য প্রদান করা অবশ্যই কর্তব্য। প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে নিজে পেট পুরে খাওয়া মোটেই সমীচীন নয়। যথাসাধ্য প্রতিবেশীকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। কারণ প্রতিবেশীকে খাদ্য দান করলে ঈমান টিকে থাকবে।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُؤْمِنُ عَبْدُ حَتَّى يُحِبُّ لِجَارِهِ أَوْ قَالَ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ 6 لِنَفْسِهِ رَوَاهُ مُسْلِم
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সেই মহান আল্লাহর কসম! কোন বান্দা নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার প্রতিবেশীর জন্যও তা পছন্দ না করা পর্যন্ত সে মু'মিন হতে পারবে ন। -মুসলিম, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১২৯৬ নং হাদীস।
عَنْ ابْنِ الزُّبَيْرِ يَقُولُ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : لَيْسَ الْمُؤْمِنُ الَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِعٌ *
আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভূক্ত রেখে তৃপ্তিসহকারে আহার করে- সে মু'মিন নয়। -আদাবুল মুফরাদ- ১১২ নং, হাদীসটি সহীহ।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ * مَا أَمِنَ بِي مَنْ بَاتَ شَبْعَانَ وَجَارَهُ جَائِعٌ إِلى جَنْبِهِ وَهُوَ يَعْلَمُ بِهِ *
আনাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ঐ ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমানই রাখে না, যে পেট ভরে রাত কাটায় অথচ তার জানা সত্ত্বেও তার পাশেই তার প্রতিবেশী উপোস থাকে। -মুসনাদ বায্যার, আনওয়ারুল হাদীস- ২৪০ পৃষ্ঠা

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ

📄 অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ


অনেকের ধারণা তার প্রতিবেশী অভাবগ্রস্থ হলেও দীনদার নয় তাই তারা তাদের সাহায্য-সহযোগীতা করতে আপত্তি করে। এটা মোটেও ঠিক নয়। কারণ প্রতিবেশী দীনদার না হলে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহী করতে হবে। কেননা কাকে কখন আল্লাহ হিদায়াত দান করে তা বলা মুশকিল। যে প্রতিবেশীকে আপনি ভালো চোখে দেখছেন না অচিরেই হয়তোবা সে তাওবাহ করে আল্লাহর নিকট আপনার থেকে প্রিয় বান্দা বলে গণ্য হবে। অথবা তার এমন একটি ভাল কাজ গোপন থাকতে পারে যেটা তার জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিধায় সকল প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা কর্তব্য। এমনকি ইয়াহুদী অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি সদাচারণ করতে হবে। কারণ এতে করে সে ঈমান আনতে পারে। তাইতো আব্দুল্লাহ বিন আমর রযিআল্লাহু আনহু অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি গুরুত্ব দিতেন।
عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ : كُنتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَغُلَامُهُ يَسْلُحْ شَاةً فَقَالَ يَا غُلَامُ إِذَا فَرَغْتَ فَابْدَأَ بِجَارِنَا الْيَهُودِي فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ الْيَهُودِي أَصْلَحَكَ اللهُ قَالَ : إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِي بِالْجَارِ حتَّى خَشِينَا أَوْ رُوَيْنَا أَنَّهُ سَيُورَتَهُ *
মুজাহিদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রযিআল্লাহু আনহু-এর নিকট ছিলাম। তখন তার গোলাম ছাগলের চামড়া ছড়াচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে বালক! অবসর হয়েই তুমি প্রথমে আমাদের ইয়াহুদী প্রতিবেশীকে গোস্ত দিবে। এক ব্যক্তি বললো: ইয়াহুদীকে? আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন। তিনি বললেন : আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রতিবেশী সম্পর্কে উপদেশ দিতে শুনেছি। এমনকি আমাদের আশঙ্কা হলো বা আমাদের নিকট প্রতিয়মান হলো যে, তিনি অচিরেই প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দিবেন। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আলবানী হাদীসটি সহীহ্ বলেছেন; ইরওয়াউল গালীল- ৮৯১

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া বড় অপরাধ

📄 প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া বড় অপরাধ


সুখে-দুঃখে যারা সব সময় নিকটে থাকতে পারে তারা হলো প্রতিবেশী। ক্ষুধার্ত থাকলে তারা খাদ্য দিতে পারে। বস্ত্রহীন থাকলে তারা বস্ত্র দিতে পারে। বিপদে পড়লে তারা সাহায্য করতে পারে। অসুখে পড়লে তারা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনকি মৃত্যু হলে তারাই সর্বপ্রথম দাফন কাজে এগিয়ে আসতে পারে। সেই হিতাকাঙ্ক্ষী প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া বড় অপরাধ হওয়াই স্বাভাবিক। একারণেই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِي جَارَهُ - متفق عليه *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে যে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। -বুখারী, মুসলিম
প্রতিবেশীর অধিকার যেমন বেশি তদ্রূপ তাদের সাথে মন্দ ব্যবহার করলে অপরাধ বেশি। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে পাপের দৃষ্টান্ত দিয়ে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে সতর্ক করে বলেছেনঃ
عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ يَقُولُ سَأَلَ رَسُولُ اللَّهِ أَصْحَابَهُ عَنِ الزِّنَا قَالُوا حرام حرمه الله وَرَسُولُهُ فَقَالَ : لَان يَزْنِي الرَّجُلُ : لأن يزني الرَّجُلُ بِعَشْرِ نِسْوَةٍ أَيْسَرُ عَلَيْهِ الله مِنْ أَنْ يَزْنِي بِامْرَأَةِ جَارِهِ وَسَأَلَهُمْ عَنِ السَّرْقَةِ؟ قَالُوا : حَرَامٌ حَرَّمَهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولَهُ فَقَالَ لَأَنْ يَسْرِقَ مِنْ عَشَرَةِ أَهْلِ أَبْيَاتٍ أَيْسَرُ مِنْ أَنْ يَسْرِقَ مکار مِنْ بَيْتِ جَارِهِ *
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে যেনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন: তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রসূল তা হারাম করেছেন। তিনি বললেন : কোন ব্যক্তির দশটি নারীর সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়া তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তার যেনা করার চেয়ে হালকা অপরাধ? পুনরায় তিনি তাদেরকে চুরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন: তারা বললেন: হারাম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রসূল হারাম করেছেন। তিনি বললেন: কোন ব্যক্তির দশ পরিবার চুরি করা তার প্রতিবেশীর ঘরে চুরি করার চেয়ে হালকা অপরাধ। -বুখারী আদুবুল মুফরাদ; আল্লামা আল-বানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00