📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 নিকৃষ্ট প্রতিবেশী

📄 নিকৃষ্ট প্রতিবেশী


প্রতিবেশী যেহেতু সুখের, দুঃখের সাথী তাই প্রতিবেশী খারাপ হলে বড়ই দুর্ভাগ্য। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ প্রতিবেশীর পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন নিম্নের হাদীস তার স্পষ্ট প্রমাণ:
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتى يَقْتُلُ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ *
আবূ মূসা রযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশী, তার ভাই এবং তার পিতাকে হত্যা না করা পর্যন্ত কিয়ামাত হবে না। -আদাবুল মুফরাদ; আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ جَارِ السُّوءِ فِي دَارِ الْمَقَامِ فَإِنَّ جَارَ الدُّنْيَا يتحول *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দু'আ হলোঃ "হে আল্লাহ! আমি আমার আবাসস্থলে তোমার নিকট দুষ্ট প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় চাই। কেননা দুনিয়ার প্রতিবেশীতো পরিবর্তন হতে থাকে। -বুখারী- আদাবুল মুফরাদ; আল-বানী হাদীসটি হাসান বলেছেন
عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثَةٌ مِنَ الْفَوَاقِرِ : إِمَامُ إِنْ أَحْسَنْتَ لَم يَشْكُرُ، وَإِنْ أَسَأْتَ لَمْ يَغْفِرُ، وَجَارٌ سُوءٍ إِنْ رَأَى خَيْرًا دَفَنَهُ، وَإِنْ رَأَى شَرًّا أَذَاعَهُ، وَامْرَأَةٌ إِنْ حَضَرْتُ أَذَتْكَ، وَإِنْ غِبْتَ عَنْهَا خَانَتَكَ» *
ফুযালাহ ইবনু উবাইদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তি চরম বিপজ্জনক : (১) এমন নেতা যার সাথে ভালো ব্যবহার করলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, আবার কোন ভুল করলেও ক্ষমা করে না। (২) এমন অসৎ প্রতিবেশী, যে উপকার পেলে তা লুকিয়ে ফেলে, আর অন্যায় কিছু পেলে তা সর্বত্র প্রকাশ করে। (৩) এমন স্ত্রী, যার কাছে থাকলে কষ্ট দেয়, আর যার কাছ থেকে দূরে চলে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা করে। -তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৩০৫ নং হাদীস।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর প্রকারভেদ

📄 প্রতিবেশীর প্রকারভেদ


প্রতিবেশীর সম্মান ও অধিকার- কে কতটুকু পাবে তার ফায়সালা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই দিয়ে গেছেন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْحَيْرَانُ ثَلَاثَةٌ : جَارٌ لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ وَهُوَ أَدْنَى الْجِيرَانِ حَقًّا وَجَارٌ لَهُ حَقَّانِ وَجَارٌ لَهُ ثَلَاثَةٌ حُقُوقِ وَهُوَ أَفْضَلُ الْجِيرَانِ حَقًّا فَأَمَّا الَّذِي لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ فَجَارٌ مُشْرِكٌ لَا رَحِمَ لَهُ، لَهُ حَقٌّ الْجَوَارِ وَأَمَّا الَّذِي لَهُ حَقَّانِ فَجَارٌ مُسْلِمٌ لَهُ حَقَّ الْإِسْلَامِ وَحَقُّ الْجَوَارِ وَأَمَّا الَّذِي لَهُ ثَلَاثَةٌ حُقُوقٍ فَجَارٌ مُسْلِمٌ ذُو رَحِمٍ لَهُ حَقَّ الْجَوَارِ وَحَقُّ الْإِسْلَامِ وَحَقُّ الرَّحِمِ *
জাবির বিন আব্দিল্লাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতিবেশী তিন প্রকার : প্রথমতঃ কোন প্রতিবেশী রয়েছে যার একটি মাত্র হাক্ব, আর এটাই সর্বনিম্ন; দ্বিতীয়তঃ কোন প্রতিবেশী রয়েছে যার দুটি হাক্ব রয়েছে; তৃতীয়তঃ কোন প্রতিবেশী রয়েছে যার তিনটি হাক্ব রয়েছে। আর এটাই সর্বোত্তম প্রতিবেশীর হাক্ব।
প্রথম প্রকার : এক হাক্ব বিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো, অমুসলিম প্রতিবেশী- যার সাথে আত্মীয়তা নেই। তার জন্য শুধু প্রতিবেশীর হাক্ব।
দ্বিতীয় প্রকার: দু'হাক্ব বিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো মুসলিম প্রতিবেশী। তার জন্য মুসলিম হওয়ার হাক্ব ও প্রতিবেশীর হাক্ব।
তৃতীয় প্রকার: তিন হাক্ব বিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো, মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী- তার জন্য মুসলিম হওয়ার হাক্ব, আত্মীয়তার হাক্ব ও প্রতিবেশী হওয়ার হাক্ব রয়েছে।
-মুসনাদে বায্যার, তাফসীর ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৫৮ পৃষ্ঠা, আনওয়ারুল হাদীস ৫১৬ নং

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর সীমা

📄 প্রতিবেশীর সীমা


প্রতিবেশীর আওতা সবার এক সমান হয় না। কারো আওতা বেশি কারো আওতা কম। যেমন কেউ যদি কোন গ্রাম্য প্রধান হন এবং ধনী ব্যক্তি হন তবে তার পাশ্ববর্তী গ্রামবাসীরা তার প্রতিবেশী বলে গণ্য হবে। এরূপ যত সে ক্ষমতাবান বা এলাকা প্রধান হবেন তত তার আওতা বৃদ্ধি পাবে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশ বাড়ী প্রতিবেশীর সীমানা নির্ধারণ করেছেন। এটাই হলো প্রতিবেশীর প্রকৃত আওতা।
عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْجَارِ فَقَالَ أَرْبَعِينَ دَارًا أَمَامَهُ وَأَرْبَعِينَ خَلْفَهُ وَأَرْبَعِينَ عَنْ يَمِينِهِ وَأَرْبَعِينَ عَنْ يَسَارِه *
হাসান থেকে বর্ণিত; তাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: নিজের ঘর থেকে সামনে চল্লিশ ঘর। পিছনের চল্লিশ ঘর, ডানের চল্লিশ ঘর এবং বামের চল্লিশ ঘর তোমাদের প্রতিবেশী। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; সানাদ হাসান
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَزَلْتُ فِي مَحَلَّةٍ بَنِي فُلَانٍ : وَإِنَّ أَشَدَّهُمْ إِلَى أَنَّى أَقْرَبُهُمْ لِى جِوَارًا ، فَبَعَثَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعَلِيًّا رَضِيَ الله عنهم يأتون المسجد، فيقومون عَلَى بَابِهِ، فَيَصِيحُونَ : «أَلَا إِنَّ أَرْبَعِينَ دَارًا جَارَةً ، وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ خَافَ جَارَهُ» بوائقة *
কা'ব ইবনু মালিক রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : একজন লোক নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি অমুক গোত্রের মহল্লায় বাস করি। কিন্তু আমার নিকটতম প্রতিবেশী সে আমাকে কষ্ট দেয়। একথা শুনে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর, উমার ও আলী রযিআল্লাহু আনহুমা-কে পাঠালেন এবং তাদেরকে আদেশ দিলেন, যেন তারা মাসজিদে আসেন এবং মাসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে বলেন: সবাই শোন! পাশ্ববর্তী চল্লিশটি বাড়ী প্রতিবেশী রূপে গণ্য। যে ব্যক্তির প্রতিবেশী তার ক্ষতিকর আচরণের ভয়ে ভীত থাকে- সে জান্নাতে যেতে পারবে না। -তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১২৯৭ নং হাদীস।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর নির্দিষ্ট হাক্ব ও অধিকার

📄 প্রতিবেশীর নির্দিষ্ট হাক্ব ও অধিকার


প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণ করতে হলে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে এবং সকল দিক দিয়ে তাকে সহায়তা করতে হবে। পাশাপাশি উভয়ের ঘর থাকলে একজন অপর জনকে ছাড় দিতে হবে। এমনকি একজনের প্রাচীরে অন্য জনের খুঁটি গাড়তে হয় তবু তা দিতে হবে। কেননা খুঁটি গাড়তে না দিতে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا يَمْنَعُ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ مَالِي أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ وَاللَّهِ لَارْمِينَ بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক প্রতিবেশী যেন নিজের দেয়ালের সাথে অপর প্রতিবেশীকে খুঁটি গাড়তে নিষেধ না করে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু বলেন: আমি তোমাদেরকে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখছি। আল্লাহর শপথ! আমি এটা দ্বারা তোমাদের ঘাড়ে আঘাত করবো। -বুখারী, মুসলিম।
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْن حَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : حَقَّ الْجَارِ إِنْ مَرِضَ عَدتَهُ وَإِنْ مَاتَ شَيْعَتَهُ وَإِنِ اسْتَقْرَضَكَ أَقْرَضْتَهُ وَإِنْ أَعُورَ سَتَرْتَهُ وَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ هَنَّانَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ عَزَّيْتَهُ وَلَا تَرْفَعْ بِنَانَكَ فَوْقَ بِنَائِهِ فَتَسُدَّ عَلَيْهِ الرِّيحَ وَلَا تُؤْذِهِ بِرِّيحِ قَدْرِكَ إِلَّا أَنْ تَغْرِفَ لَهُ مِنْهَا *
মুয়াবিয়াহ বিন হাইদাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রতিবেশীর হাক্ব হচ্ছে- (১) সে অসুস্থ হলে দেখতে যাবে; (২) মৃত্যুবরণ করলে জানাযায় যাবে; (৩) ঋণ (কর্জ) চাইলে ঋণ দিবে; (৪) উলঙ্গ বা কোন দোষ প্রকাশ পেলে ঢেকে দিবে; (৫) সূখি দেখলে স্বাগতম জানাবে; (৬) বিপদে পড়লে শান্তনা দিবে; (৭) তার ঘরের থেকে এমন উঁচু ঘর তৈরী করবে না যাতে তার বাতাস বন্ধ হয়ে যায়; (৮) তোমার পাতিলের সুঘ্রাণে তাকে কষ্ট দিও না; সেখান থেকে এক মুঠো তাকে দিও। -তবারানী, আনওয়ারুল হাদীস- ৫১৫ নং হাদীস
عَنْ عَمْرِ وَبِنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «مَنْ أَغْلَقَ بَابَهُ دُونَ جَارِهِ مَخَافَةَ عَلَى أَهْلِهِ وَمَالِهِ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِمُؤْمِنِ، وَلَيْسَ بِمُؤْمِنٍ مَنْ لَمْ يَأْمَنُ جَارَهُ بَوَائِقَهُ، أَتَدْرِي مَا حَقُّ الْجَارِ إِذَا اسْتَعَانَكَ أَعَنْتَهُ، وَإِذَا اسْتَقَرَضَكَ أَقْرَضْتَهُ، وَإِذَا افْتَقَرَ، عُدْتَ عَلَيْهِ، وَإِذَا مرض عدتَهُ، وَإِذَا أَصَابَهُ خَيْرٌ هَنَّتَهُ، وَإِذَا أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ عَزَّيْتَهُ، وَإِذَا مَاتَ اتَّبَعْتَ جَنَازَتَهُ، وَلَا تَسْتَطِيلُ عَلَيْهِ بِالْبَنْيَانِ فَتَحْجُبُ عَنْهُ الرِّيحُ إِلَّا بِإِذْنِهِ، وَلَا تُؤْذِهِ بِقَتَارِ رِيحِ قَدْرِكَ إِلَّا أَنْ تَعْرِفَ لَهُ مِنْهَا ، وَإِنْ اشْتَرَيْتَ فَاكِهَةٌ فَأَهْدِ 60 لَهُ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُ فَأَدْخِلْهَا سِرًّا ، وَلَا يَخْرُجُ بِهَا وَلَدُكَ لِيَغِيظَ بِهَا وَلَدَهُ *
আমর ইবনু শুয়াইব- নিজ পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে প্রতিবেশীর দ্বারা পরিবারের জান ও মালের ক্ষতি হবে- এই ভয়ে অন্যেরা ঘরের দরজা বন্ধ রাখে, সে প্রতিবেশী মু'মিন নয়। যার প্রতিবেশী তার ক্ষতি থেকে নিরাপদ হয় না, সে মু'মিন নয়। প্রতিবেশীর হাক্কু কি জান? যখন সে তোমার কাছে সাহায্য চাইবে, তখন তাকে সাহায্য করবে। যখন সে ঋণ চাইবে, তখন তাকে ঋণ দেবে। যখন সে দরিদ্র হয়ে যায়, তখন তার খোঁজ-খবর নেবে। যখন সে রোগাক্রান্ত হয়, তখন তাকে দেখতে যাবে। যখন তার কোন সফলতা লাভ হয়, তখন তাকে অভিনন্দন জানাবে। যখন তার কোন বিপদ আসে, তখন তাকে সান্ত্বনা ও মনোবল দেবে। যখন সে মারা যায় তখন তার জানাযায় শরীক হবে। তার অনুমতি ছাড়া তার পাশে উঁচু ভবন তৈরী করে তার বাতাস বন্ধ করোনা। তোমার হাড়িতে যে খাবার তৈরী হবে, তার ঘ্রাণ ছড়িয়ে যেতে দিয়ে কষ্ট দিও না। ঘ্রাণ ছড়িয়ে গেলে ঐ খাবার থেকে দরিদ্র প্রতিবেশীকে কিছু দিও, ফল কিনলে তাকে কিছু ফল উপহার দিও, দিতে না পারলে গোপনে নিয়ে এসো, এবং প্রতিবেশীর শিশুকে প্রলুব্ধ করার জন্য তোমার শিশু সন্তানকে তা হাতে নিয়ে বেরুতে দিয়ো না।
-খারায়েতী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৩০৪ নং হাদীস।
দুঃখের বিষয়! বর্তমানে অনেক লোকই প্রতিবেশীর হাক্বগুলোকে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যত্নবান হন না। এমনকি তাদের প্রতিবেশীগণ তাদের অন্যায় আচরণের কারণে শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। ফলে তারা সব সময়ই ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত রয়েছে এবং প্রতিবেশীকে কথা ও কাজে ব্যাথা দিচ্ছে। আর এরূপ আচরণ নিঃসন্দেহে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের নির্দেশের পরিপন্থী। মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছেদ, অন্তরের দূরত্ব এবং একে অন্যের সম্মান বিনষ্টকরণের এটাই হচ্ছে বড় কারণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00