📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 এক নজরে পরস্পরের হাক্ব

📄 এক নজরে পরস্পরের হাক্ব


একে অপরের হাক্ব আদায়ের সুবিধার জন্য হাক্ব সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার লক্ষ্যে পরস্পর হাক্বের একটি পরিসংখ্যান নিম্নে পেশ করা হলো:
১। নিকটাত্মীয়ের হাক্বঃ ক) পিতা-মাতার হাক্ব। খ) সন্তান সন্ততির হাক্ব। গ) ভাই-বোনদের হাক্ব। ঘ) স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি পরস্পরের হাক্ব। ঙ) দাদা-দাদী, নানা-নানী, ফুফু-চাচা, খালা-মামাদের হাকু।
২। দুরবর্তী আত্মীয়ের হাক্ব : ক) আপন আত্মীয়দের আত্মীয়ের হাক্ব। খ) স্ত্রীর আত্মীয়ের হাক্ব। গ) মামাত, ফুফাত, চাচাত, খালাত ভাই-বোনের হাক্ব।
৩। প্রতিবেশীর হাক্বঃ ক) আত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। খ) দূর আত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। গ) অনাত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। ঘ) নিকট প্রতিবেশীর হাক্ব- যারা একেবারেই ঘরের পার্শ্বে। ঙ) দূর প্রতিবেশীর হাক্ব যারা ঘরের পার্শ্বেনয় তবে প্রতিবেশীর সীমার মধ্যেই বাস করছে। চ) মুসলিম প্রতিবেশীর হাক্ব। ছ) অমুসলিম প্রতিবেশীর হাক্ব।
৪। সাধারণভাবে দেশবাসীর হাক্ব। তাতে যত নিকটের হবে তত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাক্ব আদায় করতে হবে।
৫। শাসক শাসিতের হাক্ব।
৬। অভাবী লোকের হাক্বঃ ক) ইয়াতিম বা পিতৃ-মাতৃহীন ছেলে-মেয়েদের হাক্ব। খ) মিসকীন বা উপার্জনে অক্ষম, অন্ধ, খোঁড়া, বিধবা প্রভৃতিজনের হাক্ব। গ) ঋণগ্রস্ত মুসলিম ব্যক্তির হাক্ব। ঘ) দাস-দাসীর হাক্ব। ঙ) মুসাফির পথিকের হাক্ব। চ) বন্দী মুসলিমদের হাক্ব। ছ) ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমদের হাক্ব। জ) সাহায্য প্রার্থীদের হাক্ব।
৭। অমুসলিমদের হাক্ব।
৮। সাধারণ মুসলিমদের হাক্ব। চাই দেশের মুসলিম হোক আর বিদেশের মুসলিম হোক।
এসকল পরস্পরের প্রতি হাক্ব অধিকারীদের নিম্নের হাকুসমূহ আদায় করা কর্তব্য:
১) পরস্পর সালাম বিনিময় করা।
২) দাওয়াত করলে তাতে যোগদান করা।
৩) পরস্পরে দ্বীন শিক্ষা দেয়া ও শিক্ষা করা।
৪) পরস্পরে সদুপদেশ দেয়া ও গ্রহণ করা।
৫) পরস্পর সাহায্য করা।
৬) কেউ হাঁচি দিয়ে আল-হামদুলিল্লাহ বললে তার উত্তরে ইয়ারহামুকুমুল্লাহ বলা।
৭) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া।
৮) কেউ মৃতবরণ করলে দাফন কার্যে অংশ নেয়া।
৯) নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অন্যের জন্য তা পছন্দ করা।
১০) নিজের হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখা।
১১) বিনম্র হওয়া। নিজেকে বড় মনে করে অন্যের প্রতি অহঙ্কার না করা।
১২) কারো বিরুদ্ধে কেউ কোন কুৎসা বললে তা না শুনা। কারণ হতে পারে সে অপরাধ করেনি কিন্তু তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অযথা দুর্নাম করছে।
১৩) মনোবিবাদ ত্যাগ করা। অর্থাৎ মনের মধ্যে কারো প্রতি রাগ না রাখা। বরং তা মিটিয়ে ফেলা।
১৪) কাউকে বঞ্চিত না করা। অপরের উপকার করা।
১৫) ছোটদের স্নেহ করা ও বড়দের সম্মান করা।
১৬) সকল মু'মিন মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে থাকা, এতেই সমাজের লোক শান্তিতে বাস করতে পারে।
১৭) ওয়াদা করে তা ভঙ্গ না করা।
১৮) প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পদমর্যাদা অনুযায়ী সম্মান করা।
১৯) দুই মুসলিমের মাঝের বিবাদ মিমাংসা করে দেয়া।
২০) মুসলিম ভাইবোনদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা।
২১) কারো দুর্নাম রটানো ও অপবাদ দেয়া থেকে বিরত থাকা।
২২) অন্যের জন্য সুপারিশ করা যাতে তার উপকার হয়।
২৩) কোন অত্যাচারিত ও উৎপীড়িত ব্যক্তিকে সহায়তা দান করা।
২৪) গরীব বা অভাবী লোকদের সাথে ভাল ব্যবহার করা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।
২৫) দুঃখী লোকের দুঃখ দূর করে সুখের ব্যবস্থা করা।
২৬) মৃতের জন্য দু'আ করা এবং মুসলিমদের কবর যিয়ারত করা।
-খন্দকার আবু খায়ের এর 'বান্দার হাকু' গ্রন্থ থেকে অধিকাংশ সংকলিত।
প্রতিবেশী সম্পর্কে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ নির্দেশ, নসিহত করেছেন। এখন বিষয় ভিত্তিক তার কিছু আলোকপাত করছি।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর হাক্বের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ ও নসীহত

📄 প্রতিবেশীর হাক্বের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ ও নসীহত


عَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلاَثِ أَسْمَعُ وَأَطِيعُ لِعَبْدِ مُجَدَّعِ الأَطْرَافِ وَإِذَا صَنَعْتَ مَرَقَةً فَاكْثِرُ مَاءَهَا ثُمَّ انْظُرْ أَهْلَ بَيْتِ مِنْ خَيْرَانِكَ فَاصِبْهُمْ مِنْهُ بِمَعْرُوفِ وَفِي رَوَايَةٍ يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَاكْثِرُ مَاءَ المرقة وتَعاهَدُ جِيرَانَكَ أَوْ أَقْسِمْ فِي جِيرَانِكَ *
আবূ যার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি উপদেশ দিয়েছেন- নেতা নাক-কান কাটা দাস হলেও তার আদেশ শুনবে ও মানবে। তরকারী রান্না করলে তাতে পানি দিয়ে ঝোল বেশী করবে। অতঃপর প্রতিবেশীর দিকে দেখবে এবং সদিচ্ছার সাথে তা পৌঁছে দিবে। অন্য বর্ণনায় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবূ যার! তুমি তরকারী রান্না করলে তাতে পানি দিয়ে ঝোল বেশি করবে এবং প্রতিবেশীর মাঝে তা বিতরণ করবে। -মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইমাম বুখারীর আদাবুল মুফরাদ- ১১২-১১৩ নং হাদীস
عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا زَالَ جِبْرِيلُ يَوْصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُورَتُهُ *
আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহু ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; তাঁরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিবরাঈল আলাহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এতো বেশী নসীহত করতে থাকেন যে, আমি ধারণা করলাম তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন। -বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৫৭ পৃষ্ঠা
عَنْ أَبِي شُرَيْحِ الْخُزَاعِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنُ جَارَهُ
আবূ শুরাইহ আল-খুযায়ী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সৎ-সদয় আচরণ করেন। -বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, আদাবুল মুফরাদ- ১০১ নং হাদীস
عَنْ عَمْرِو بنِ مَعَاذِ الْأَشْهَلِي عَنْ جَدَتِهِ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لَا تَحْقِرَنَ امْرَأَةٌ مِنْكُنَّ لِجَارِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقٍ *
আমর ইবনু মুআয আল-আশহালী রহিমাহুল্লাহ থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: হে মু'মিন নারীগণ! তোমাদের মধ্যকার কোন নারী যেন তার প্রতিবেশীকে যৎসামান্য দান করাকেও তুচ্ছ মনে না করে, যদিও তা রান্না করা বকরীর বাহুর সামান্য গোশতও হয়। -বুখারী, মুসলিম। আল-আদাবুল মুফরাদ ১২১ নং হাদীস।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 সৎ ও উত্তম প্রতিবেশী

📄 সৎ ও উত্তম প্রতিবেশী


প্রতিবেশীর আচরণে প্রতিবেশী জানতে পারে প্রতিবেশীর ভাল-মন্দ। বিধায় আচরণেই প্রমাণিত হয়ে যায় মন্দ বা সৎ ও উত্তম ব্যক্তিত্বের কথা। এর প্রমাণ হাদীসের মধ্যেই রয়েছে। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ *
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর নিকট সেই সাথী উত্তম যে, নিজ সাথীদের নিকট উত্তম। আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশী উত্তম যে নিজ প্রতিবেশীর নিকট উত্তম। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আল্লামা আল-বানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ لِي أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا سَمِعْتَ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَ يَقُولُونَ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ *
ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : এক ব্যক্তি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি ভালো করছি না মন্দ করছি তা কি করে আমি জানবো? নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যখন তোমার প্রতিবেশীদের বলতে শুনবে যে, তুমি ভালো করছো, তবে প্রকৃতই ভালো করছো, আর যখন প্রতিবেশী বলবে তুমি মন্দ করছো তবে মনে করবে ঠিকই তুমি মন্দ করছো। -ইবনু মাজাহ
عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ الْحَارِثِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ سَعَادَةِ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ الْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ وَالْجَارُ الصَّالِحُ وَالْمَرْكَبُ الْهَنْي *
নাফি' বিন আবদিল হারিস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: একজন মুসলমানের জন্য প্রসস্থ বাসভবন, সৎ প্রতিবেশী ও আরামদায়ক বাহন সৌভাগ্যের নিদর্শন। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ; আলবানী হাদীসটি সহীহ্ বলেছেন
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَدْفَعُ بِالْمُسْلِمِ الصَّالِحِ عَنْ مِائَةِ أَهْلِ بَيْتٍ مِّنْ جِيرَانِهِ الْبَلاء، ثُمَّ قَرَأَ : وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضُهُم بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الأرض» *
ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা একজন সৎকর্মশীল মুসলমানের কল্যাণে তার প্রতিবেশীদের মধ্য থেকে একশোটি পরিবারকে বিপদ-মুসিবত থেকে রক্ষা করেন। এরপর তিনি সূরা আল-বাকারর ২৫১ নং আয়াতের নিম্নের অংশটুকু তিলাওয়াত করেন- “আল্লাহ তা'আলা যদি কিছু লোককে অপর কিছু লোক দ্বারা প্রতিহত না করতেন তাহলে পৃথিবী অরাজকতায় ভরে যেত।” -তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৩০৯ নং হাদীস।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 নিকৃষ্ট প্রতিবেশী

📄 নিকৃষ্ট প্রতিবেশী


প্রতিবেশী যেহেতু সুখের, দুঃখের সাথী তাই প্রতিবেশী খারাপ হলে বড়ই দুর্ভাগ্য। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ প্রতিবেশীর পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন নিম্নের হাদীস তার স্পষ্ট প্রমাণ:
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتى يَقْتُلُ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ *
আবূ মূসা রযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশী, তার ভাই এবং তার পিতাকে হত্যা না করা পর্যন্ত কিয়ামাত হবে না। -আদাবুল মুফরাদ; আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ جَارِ السُّوءِ فِي دَارِ الْمَقَامِ فَإِنَّ جَارَ الدُّنْيَا يتحول *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দু'আ হলোঃ "হে আল্লাহ! আমি আমার আবাসস্থলে তোমার নিকট দুষ্ট প্রতিবেশী থেকে আশ্রয় চাই। কেননা দুনিয়ার প্রতিবেশীতো পরিবর্তন হতে থাকে। -বুখারী- আদাবুল মুফরাদ; আল-বানী হাদীসটি হাসান বলেছেন
عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثَةٌ مِنَ الْفَوَاقِرِ : إِمَامُ إِنْ أَحْسَنْتَ لَم يَشْكُرُ، وَإِنْ أَسَأْتَ لَمْ يَغْفِرُ، وَجَارٌ سُوءٍ إِنْ رَأَى خَيْرًا دَفَنَهُ، وَإِنْ رَأَى شَرًّا أَذَاعَهُ، وَامْرَأَةٌ إِنْ حَضَرْتُ أَذَتْكَ، وَإِنْ غِبْتَ عَنْهَا خَانَتَكَ» *
ফুযালাহ ইবনু উবাইদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিন ব্যক্তি চরম বিপজ্জনক : (১) এমন নেতা যার সাথে ভালো ব্যবহার করলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, আবার কোন ভুল করলেও ক্ষমা করে না। (২) এমন অসৎ প্রতিবেশী, যে উপকার পেলে তা লুকিয়ে ফেলে, আর অন্যায় কিছু পেলে তা সর্বত্র প্রকাশ করে। (৩) এমন স্ত্রী, যার কাছে থাকলে কষ্ট দেয়, আর যার কাছ থেকে দূরে চলে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা করে। -তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৩০৫ নং হাদীস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00