📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 ছয় কারনে গীবত করা বৈধ

📄 ছয় কারনে গীবত করা বৈধ


ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ মুসলিম শরীফের ভাষ্যগ্রন্থে ও রিয়াদুস সলেহীন গ্রন্থে বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : সৎ ও শারীআত সম্মত উদ্দেশ্য সাধন যদি গীবত ছাড়া সম্ভব না হয় তাহলে এ ধরনের গীবতে কোন দোষ নেই। ছয়টি কারণ এরূপ হতে পারে। এর অধিকাংশের উপর আলিমগণের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার সমর্থনে মশহুর হাদীসসমূহ থেকে দলীল পেশ করা হয়েছে।
প্রথম কারণ : জুলুমের বিরুদ্ধে আবেদন পেশ করা। নির্যাতিত ব্যক্তি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক বা এমন সব লোকের কাছে যালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করতে পারে যাদের যালিমকে দমন করার শক্তি বা কর্তৃত্ব এবং মজলুমের প্রতি ন্যায়বিচার করার ক্ষমতা আছে। এ ক্ষেত্রে সে বলতে পারে, অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম করেছে।
দ্বিতীয় কারণ : ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং সৎকাজের মাধ্যমে গুনাহের কাজের সুযোগ বন্ধ করার জন্য সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু বলা। এ উদ্দেশ্যে কারো কাছে, যার দ্বারা খোদাদ্রোহী কার্যকলাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে তার বিরুদ্ধে এভাবে বলা যে, অমুক ব্যক্তি এই রকম কাজ করছে। আপনি তাকে শাসিয়ে দিন। তার উদ্দেশ্য হবে শুধু অবৈধ কার্যকলাপ উদঘাটন ও তার প্রতিরোধ। এই রকম উদ্দেশ্য না থাকলে অযথা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হারাম।
তৃতীয় কারণ : কোন বিষয়ে ফতওয়া চাওয়া। মুফতী সাহেবের কাছে গিয়ে বলা, আমার উপর আমার বাপ, ভাই, স্বামী অথবা অমুক ব্যক্তি এইভাবে জুলুম করছে। তার জন্য এসব করা কি উচিত? তার জুলুম থেকে আমার বাঁচার অধিকার আদায় করার এবং জুলুম প্রতিরোধ করার কি পন্থা আছে। প্রয়োজন বশত এসব কথা এবং এ ধরনের আরো কথা বলা জায়িয। কিন্তু সঠিক ও সর্বোত্তম পন্থা হলো এভাবে বলা যে, কোন ব্যক্তি অথবা কোন স্বামী যদি এরূপ আচরণ করে তবে তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? কারণ এভাবে বললে কাউকে নির্দিষ্ট না করেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এসব সত্ত্বেও ব্যক্তির নামোল্লেখ করাও জায়িয। যেমন হিন্দ আবু সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলেন।
চতুর্থ কারণ : মুসলমানদেরকে খারাপ কাজের পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করা এবং উপদেশ দেয়া। এটা কয়েকভাবে হতে পারেঃ
১) হাদীসের বর্ণনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যাপারে যেসব ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি আছে তা যাচাই বাছাই করে বলে দেয়া। মুসলমানদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এটা শুধু জায়িয নয়, বরং বিশেষ প্রয়োজন ও অবস্থায় ওয়াজিবও। যেমন কোন লোককে বিবাহের ব্যাপারে, কারো সাথে কোন বিষয়ে অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে, আমানত ও লেনদেনের ব্যাপারে কিংবা কাউকে প্রতিবেশী বানানোর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে পরামর্শদাতার কর্তব্য হলো তথ্য গোপন না করে বরং একান্তে তার সামনেই অভিমান প্রকাশ করা। যখন কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে দেখা যায় যে, সে শারীআত বিরোধী কাজে লিপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহ ও উৎকণ্ঠায় পতিত হয়েছে অথবা কোন ফাসিক ব্যক্তিকে তার কাছে জ্ঞানার্জন করতে দেখা যাচ্ছে এবং এই সুযোগে তার ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করার আশঙ্কা থাকলে তখন তার কাছে উপদেশের মাধ্যমে ফাসিক ব্যক্তির স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়া কর্তব্য। এসব ক্ষেত্রে ভুল বুঝাবুঝিরও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে উপদেশ প্রদানকারীকে হিংসা-বিদ্বেষের শিকার হতে হয়। কখনও শাইতন তাকে ধোঁকা দিয়ে এই ধারণা সৃষ্টি করে যে, এটা নিছক উপদেশ বৈ কিছু নয়। সুতরাং ব্যাপারটাকে গভীর ও সূক্ষ্মভাবে অনুধাবন করে অগ্রসর হতে হবে।
২) কোন লোককে কোন বিষয়ে জিম্মাদার বা দায়িত্বশীল বানানো হলো কিন্তু সে তা পালনে অক্ষম অথবা সে ঐ পদের অনুপযুক্ত অথবা সে ফাসিক বা অলস ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে যার এসব বিষয়ে কর্তৃত্ব রয়েছে এবং যে ইচ্ছা করলে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কিংবা অন্য কোন যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিতে পারে অথবা সে তাকে ডেকে নিয়ে তার যাবতীয় দুর্বলতা দেখিয়ে দিবে এবং সে সংশোধন হয়ে উপযুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে, এইরূপ লোকের নিকট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দোষ বলা বৈধ। এতে উর্ধতন কর্মকর্তা তার সম্পর্কে অমূলক ধারণা বা ধোঁকায় নিমজ্জিত হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। সে তাকে ডেকে নিয়ে এ কথাও বলতে পারে যে, হয় সে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করবে নতুবা তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে।
পঞ্চম কারণ : কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে ফাসেকী ও বিদ'আতী কাজ করে। যেমন প্রকাশ্যে মদ পান করে, মানুষের উপর যুলুম করে, কারো ধন-সম্পদ জোরপূর্বক হরণ করে, জনসাধারনের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে কর আদায় করে, অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হয় ইত্যাদি। এই ব্যক্তির কার্যকলাপের আলোচনা করা যাবে। কিন্তু তার কৃত কুকর্ম ছাড়া অন্য কিছু বলা জায়িয নয়। তবে উল্লেখিত কারণ ছাড়া অন্য কোন কারণ থাকলে ভিন্ন কথা।
ষষ্ঠ কারণ: পরিচয় দেয়া- কোন ব্যক্তিকে তার বিশেষ উপাধি বা তার কোন দৈহিক ত্রুটির উল্লেখ করে পরিচয় করিয়ে দেয়া জায়িয। যেমন রাতকানা, পঙ্গু, বধির, অন্ধ, টেরা ইত্যাদি। এভাবে কারো পরিচয় দেয়া জায়িয। তবে খাট করা বা অসম্মান করার উদ্দেশ্যে এসব শব্দ ব্যবহার করা হারাম। এসব ত্রুটির উল্লেখ ছাড়া অন্য কোনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলে সেটাই উত্তম।
উলামায়ি কিরাম এই ছয়টি কারণ বর্ণনা করেছেন। এর অধিকাংশই ঐক্যমত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহে এসবের দলীল প্রমাণ রয়েছে।
এ ধরনের ব্যাপার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা ব্যতীত সর্বক্ষেত্রেই গীবত হারাম ও কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ আমাদের সকল মু'মিন মুসলিম ভাইদেরকে এসব গুনাহের কাজ থেকে মুক্ত রাখুন- আমীন ॥

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর হাক্ব

📄 প্রতিবেশীর হাক্ব


نحمده ونصلى على رسوله الكريم أما بعد:
সাম্য, মৈত্রী ভ্রাতৃত্ব রক্ষার লক্ষ্যে ইসলাম প্রতিবেশীর সাথে এমন আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এক প্রতিবেশী আরেক প্রতিবেশীর সাথে সৌহার্দপূর্ণ ব্যবহারের কারণে গোটা সমাজ একটি ভ্রাতৃপ্রতিম ও শান্তিপূর্ণ আদর্শ সমাজে পরিণত হবে। এভাবে রাষ্ট্র পর্যন্ত হয়ে যাবে দৃষ্টান্তমূলক রাষ্ট্র। শুধু প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি কায়েমের কারণে পৃথিবীর মানুষ নিরাপদে তাদের সকল কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে। তাই মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করার কথা ঘোষণা করে বলেনঃ
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ *
“তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। আর পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী ও প্রতিবেশীর সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার করো......।” -সূরাঃ আন্-নিসা- ৩৬
এ আয়াতে দু’রকম প্রতিবেশীর কথা বলা হয়েছেঃ ১) جَارِذِي الْقُرْبَى জারিযিল কুরবা। ২) جَارِ الْجَنْبِ জারিল জুনুব।
এতদুভয় প্রকার প্রতিবেশীর বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে সাহাবায়ি কিরামগণের বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রযিআল্লাহু আনহু বলেছেন- جَارِذِي الْقُرْبَى বলতে সেসব প্রতিবেশীকে বুঝায়, যারা প্রতিবেশী হওয়ার সাথে সাথে আত্মীয়ও বটে। এভাবে এতে দুটি হাক্ব সমন্বিত হয়ে যায়। আর جَارِ الجنب বলতে শুধুমাত্র সে প্রতিবেশীকে বুঝায়, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। আর সেই জন্যই তার উল্লেখ করা হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে।
কোন কোন মনীষী বলেছেন: جَارِ ذِی الْقُرْبَى এমন প্রতিবেশীকে বলা হয়, যে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত এবং মুসলিম। আর جَارِ الْجَنْبِ বলা হয়, অমুসলিম প্রতিবেশীকে।
কুরআনে ব্যবহৃত শব্দে অবশ্য এ সমুদয় সম্ভাব্যতাই বিদ্যমান। তাছাড়া বাস্তবতার দিক দিয়েও প্রতিবেশীদের মাঝে স্তরভেদ থাকাটা একান্তই যুক্তিসঙ্গত এবং নির্ভরযোগ্যও বটে। আর প্রতিবেশীদের আত্মীয় অথবা অনাত্মীয় হওয়ার দিক দিয়েও।
প্রতিবেশী চাই নিকটবর্তী হোক অথবা দূরবর্তী আত্মীয় হোক অথবা অনাত্মীয়, মুসলিম হোক অথবা অমুসলিম, যে কোন অবস্থায় সাধ্যানুযায়ী তাদের সাহায্য-সহায়তা করা ও তাদের খবরা-খবর নেয়া কর্তব্য। অবশ্য প্রতিবেশী হওয়া ছাড়াও যার অন্যান্য হাক্ব রয়েছে অন্যান্য প্রতিবেশীর তুলনায় তাকে মর্যাদাগত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 এক নজরে পরস্পরের হাক্ব

📄 এক নজরে পরস্পরের হাক্ব


একে অপরের হাক্ব আদায়ের সুবিধার জন্য হাক্ব সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার লক্ষ্যে পরস্পর হাক্বের একটি পরিসংখ্যান নিম্নে পেশ করা হলো:
১। নিকটাত্মীয়ের হাক্বঃ ক) পিতা-মাতার হাক্ব। খ) সন্তান সন্ততির হাক্ব। গ) ভাই-বোনদের হাক্ব। ঘ) স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি পরস্পরের হাক্ব। ঙ) দাদা-দাদী, নানা-নানী, ফুফু-চাচা, খালা-মামাদের হাকু।
২। দুরবর্তী আত্মীয়ের হাক্ব : ক) আপন আত্মীয়দের আত্মীয়ের হাক্ব। খ) স্ত্রীর আত্মীয়ের হাক্ব। গ) মামাত, ফুফাত, চাচাত, খালাত ভাই-বোনের হাক্ব।
৩। প্রতিবেশীর হাক্বঃ ক) আত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। খ) দূর আত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। গ) অনাত্মীয় প্রতিবেশীর হাক্ব। ঘ) নিকট প্রতিবেশীর হাক্ব- যারা একেবারেই ঘরের পার্শ্বে। ঙ) দূর প্রতিবেশীর হাক্ব যারা ঘরের পার্শ্বেনয় তবে প্রতিবেশীর সীমার মধ্যেই বাস করছে। চ) মুসলিম প্রতিবেশীর হাক্ব। ছ) অমুসলিম প্রতিবেশীর হাক্ব।
৪। সাধারণভাবে দেশবাসীর হাক্ব। তাতে যত নিকটের হবে তত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাক্ব আদায় করতে হবে।
৫। শাসক শাসিতের হাক্ব।
৬। অভাবী লোকের হাক্বঃ ক) ইয়াতিম বা পিতৃ-মাতৃহীন ছেলে-মেয়েদের হাক্ব। খ) মিসকীন বা উপার্জনে অক্ষম, অন্ধ, খোঁড়া, বিধবা প্রভৃতিজনের হাক্ব। গ) ঋণগ্রস্ত মুসলিম ব্যক্তির হাক্ব। ঘ) দাস-দাসীর হাক্ব। ঙ) মুসাফির পথিকের হাক্ব। চ) বন্দী মুসলিমদের হাক্ব। ছ) ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমদের হাক্ব। জ) সাহায্য প্রার্থীদের হাক্ব।
৭। অমুসলিমদের হাক্ব।
৮। সাধারণ মুসলিমদের হাক্ব। চাই দেশের মুসলিম হোক আর বিদেশের মুসলিম হোক।
এসকল পরস্পরের প্রতি হাক্ব অধিকারীদের নিম্নের হাকুসমূহ আদায় করা কর্তব্য:
১) পরস্পর সালাম বিনিময় করা।
২) দাওয়াত করলে তাতে যোগদান করা।
৩) পরস্পরে দ্বীন শিক্ষা দেয়া ও শিক্ষা করা।
৪) পরস্পরে সদুপদেশ দেয়া ও গ্রহণ করা।
৫) পরস্পর সাহায্য করা।
৬) কেউ হাঁচি দিয়ে আল-হামদুলিল্লাহ বললে তার উত্তরে ইয়ারহামুকুমুল্লাহ বলা।
৭) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া।
৮) কেউ মৃতবরণ করলে দাফন কার্যে অংশ নেয়া।
৯) নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অন্যের জন্য তা পছন্দ করা।
১০) নিজের হাত ও জিহ্বা থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখা।
১১) বিনম্র হওয়া। নিজেকে বড় মনে করে অন্যের প্রতি অহঙ্কার না করা।
১২) কারো বিরুদ্ধে কেউ কোন কুৎসা বললে তা না শুনা। কারণ হতে পারে সে অপরাধ করেনি কিন্তু তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অযথা দুর্নাম করছে।
১৩) মনোবিবাদ ত্যাগ করা। অর্থাৎ মনের মধ্যে কারো প্রতি রাগ না রাখা। বরং তা মিটিয়ে ফেলা।
১৪) কাউকে বঞ্চিত না করা। অপরের উপকার করা।
১৫) ছোটদের স্নেহ করা ও বড়দের সম্মান করা।
১৬) সকল মু'মিন মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে থাকা, এতেই সমাজের লোক শান্তিতে বাস করতে পারে।
১৭) ওয়াদা করে তা ভঙ্গ না করা।
১৮) প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পদমর্যাদা অনুযায়ী সম্মান করা।
১৯) দুই মুসলিমের মাঝের বিবাদ মিমাংসা করে দেয়া।
২০) মুসলিম ভাইবোনদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা।
২১) কারো দুর্নাম রটানো ও অপবাদ দেয়া থেকে বিরত থাকা।
২২) অন্যের জন্য সুপারিশ করা যাতে তার উপকার হয়।
২৩) কোন অত্যাচারিত ও উৎপীড়িত ব্যক্তিকে সহায়তা দান করা।
২৪) গরীব বা অভাবী লোকদের সাথে ভাল ব্যবহার করা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।
২৫) দুঃখী লোকের দুঃখ দূর করে সুখের ব্যবস্থা করা।
২৬) মৃতের জন্য দু'আ করা এবং মুসলিমদের কবর যিয়ারত করা।
-খন্দকার আবু খায়ের এর 'বান্দার হাকু' গ্রন্থ থেকে অধিকাংশ সংকলিত।
প্রতিবেশী সম্পর্কে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ নির্দেশ, নসিহত করেছেন। এখন বিষয় ভিত্তিক তার কিছু আলোকপাত করছি।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 প্রতিবেশীর হাক্বের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ ও নসীহত

📄 প্রতিবেশীর হাক্বের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ ও নসীহত


عَنْ أَبِي ذَرٍ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلاَثِ أَسْمَعُ وَأَطِيعُ لِعَبْدِ مُجَدَّعِ الأَطْرَافِ وَإِذَا صَنَعْتَ مَرَقَةً فَاكْثِرُ مَاءَهَا ثُمَّ انْظُرْ أَهْلَ بَيْتِ مِنْ خَيْرَانِكَ فَاصِبْهُمْ مِنْهُ بِمَعْرُوفِ وَفِي رَوَايَةٍ يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَاكْثِرُ مَاءَ المرقة وتَعاهَدُ جِيرَانَكَ أَوْ أَقْسِمْ فِي جِيرَانِكَ *
আবূ যার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি উপদেশ দিয়েছেন- নেতা নাক-কান কাটা দাস হলেও তার আদেশ শুনবে ও মানবে। তরকারী রান্না করলে তাতে পানি দিয়ে ঝোল বেশী করবে। অতঃপর প্রতিবেশীর দিকে দেখবে এবং সদিচ্ছার সাথে তা পৌঁছে দিবে। অন্য বর্ণনায় নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবূ যার! তুমি তরকারী রান্না করলে তাতে পানি দিয়ে ঝোল বেশি করবে এবং প্রতিবেশীর মাঝে তা বিতরণ করবে। -মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইমাম বুখারীর আদাবুল মুফরাদ- ১১২-১১৩ নং হাদীস
عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا زَالَ جِبْرِيلُ يَوْصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُورَتُهُ *
আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহু ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; তাঁরা নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিবরাঈল আলাহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এতো বেশী নসীহত করতে থাকেন যে, আমি ধারণা করলাম তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন। -বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৫৭ পৃষ্ঠা
عَنْ أَبِي شُرَيْحِ الْخُزَاعِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنُ جَارَهُ
আবূ শুরাইহ আল-খুযায়ী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি সৎ-সদয় আচরণ করেন। -বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, আদাবুল মুফরাদ- ১০১ নং হাদীস
عَنْ عَمْرِو بنِ مَعَاذِ الْأَشْهَلِي عَنْ جَدَتِهِ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ لَا تَحْقِرَنَ امْرَأَةٌ مِنْكُنَّ لِجَارِهَا وَلَوْ كُرَاعَ شَاةٍ مُحْرَقٍ *
আমর ইবনু মুআয আল-আশহালী রহিমাহুল্লাহ থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: হে মু'মিন নারীগণ! তোমাদের মধ্যকার কোন নারী যেন তার প্রতিবেশীকে যৎসামান্য দান করাকেও তুচ্ছ মনে না করে, যদিও তা রান্না করা বকরীর বাহুর সামান্য গোশতও হয়। -বুখারী, মুসলিম। আল-আদাবুল মুফরাদ ১২১ নং হাদীস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00