📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 চোগলখোরী কথা ও গীবতের বাক্যালাপ শ্রবণ নিষেধ

📄 চোগলখোরী কথা ও গীবতের বাক্যালাপ শ্রবণ নিষেধ


আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَإِذَا سَمِعُوا الَّلَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ * “কোন ব্যক্তি কাউকে গীবত করতে শুনলে তাকে বাধা দিবে।” -সূরা: আল-কাসাস- ৫৫।
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ * “(তারাই মু'মিন) যারা বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকে।” -সূরাঃ মু'মিনূন- ৩।
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادُ كُلَّ أُوْلَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلاً * “জেনে রাখ, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তঃকরণ সব কিছুর জন্যই জওয়াবদিহি করতে হবে।” -সূরাঃ বানী-ইসরাঈল- ৩৬
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثِ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ * “তুমি যখন দেখবে লোকেরা আমার আয়াতসমূহের দোষ-ত্রুটি খুঁজছে, তখন তাদের নিকট থেকে সরে যাও যতক্ষণ তারা এই প্রসঙ্গের কথাবার্তা বন্ধ করে অন্য কোন কথায় মগ্ন না হয়। শাইতন যদি কখনো তোমাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, তবে যখনি তোমার এই ভুলের অনুভূতি হবে আর এই যালিমদের কাছে বসবে না।” -সূরাঃ আল-আন'আম-৬৮।
আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গীবত করতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন এবং গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। যা বুখারীর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّمِيمَةِ وَنَهَى الْغَيْبَةِ وَعَنِ الْاِسْتِماعِ الْغَيْبَةِ .
আব্দুল্লাহ বিন উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন ঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোগলখোরী করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি গীবত করতে ও গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। -বুখারী
আল্লাহ সকল মু'মিন মুসলমানদেরকে গীবত চোগলখোরী করা হতে এবং গীবতের কথা শুনা হতে রক্ষা করুন।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 কটাক্ষমূলক কথা বলাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত

📄 কটাক্ষমূলক কথা বলাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত


কাউকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করে কথা বলা যাবে না, কেননা এটা গীবতের অন্তর্ভূক্ত। স্বয়ং নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কটাক্ষ ও ইঙ্গিত মূলক কথা হলে তিনি বলেন:
عَنْ حَسَانِ بْنِ الْمَخَارِقِ أَنَّ امْرَأَةً دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَلَمَّا قَامَتْ لِتَخْرُجَ أَشَارَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِيَدِهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ إِنَّهَا قَصِيرَةُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْتَبْتَهَا *
হাসসান বিন মাখারিক রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একদা একজন মহিলা আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা-এর নিকট আগমন করে। যখন মহিলাটি ফিরে যেতে উদ্যত হয় তখন আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা মহিলাটির দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন : মহিলাটি খুবই খাট। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন : তুমি তার গীবত করলে। -ইবনু জারীর, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৩ পৃষ্ঠা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَسْبُكَ مِنْ صَفِيَّةِ كَذَا وَكَذَا تَعْنِي قَصِيرَةً فَقَالَ لَقَدْ قُلْتَ كَلِمَةً لَوْ مَزَجَتْ بِمَاءِ الْبَحْرِ لَمَرْجَتْهُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِنِي
আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি একদিন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম : সফিয়্যার এ গুণটিই তো আপনার জন্য যথেষ্ট। (এই বলে আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা তাঁর খাটো হওয়ার বিষয়টি বুঝাচ্ছিলেন।) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি এমন একটি কথা বললে যে, এটা যদি সমূদ্রের পানিতে মিশিয়ে দেয়া হয় তাহলে এটা সমূদ্রের পানিকেও নষ্ট করে ছাড়বে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৩ পৃষ্ঠা

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 যে সব কারণে গীবত চর্চা হয়

📄 যে সব কারণে গীবত চর্চা হয়


'আমল বিনষ্টকারী নেকী ভক্ষণকারী গীবত হতে বাঁচতে হলে যে কারণে গীবত সংঘটিত হয় তা নির্ণয় করে পরিহার করতে হবে। এজন্য তার উৎসর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিভিন্ন কারণে গীবতচর্চা হয়ে থাকে, তার মধ্যে আটটি কারণ সর্বসাধারনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তিনটি কারণ উচ্চ পর্যায়ের দীনদার ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মনের ঝাল মিটানোর জন্য একে অপরের দোষচর্চা করা। অর্থাৎ কোন কারণে কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি রুষ্ট হলে উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তার দোষ বর্ণনা করতে থাকে এবং মনের ক্ষোভ মিটাতে থাকে। এই ক্রোধ গীবত বা পরণিন্দার অন্যতম কারণ। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَيْسَ الشَدِيدُ بِالصُّرْعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রকৃত বলবান ও বীরপুরুষ সে নয়, যে কুস্তিতে কাউকে হারিয়ে দেয়। প্রকৃত বীরপুরুষ হলো সেই ব্যক্তি, সে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারে (ক্রোধ দমন করতে পারে)। -বুখারী হাদীস নং ৫৬৭৪।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَوْصِنِي، قَالَ : لَا تَغْضَبْ فَرَدَّدَ مِرَارًا ، قَالَ : لَا تَغْضَبْ *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: একদনি জনৈক লোক নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলো, আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: রাগান্বিত হয়ো না। লোকটি বার বারই নসীহত করার জন্য (নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরয করতে লাগলো। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও প্রত্যেকবারই বলতে থাকেন, রাগান্বিত হয়ো না। -বুখারী হাদীস নং ৫৬৭৬।
মানুষ কখনো অন্যদের দেখাদেখি গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং অপরের সাথে তাল মিলাতে থাকে। যেমন নিজের কোন বন্ধু বা সহযোগী কারো দোষচর্চা করতে লাগলে সে মনে করে, আমি যদি তার সাথে তাল না মিলাই তবে সে অসন্তুষ্ট হবে। তাই সঙ্গদোষে সেও দোষচর্চায় লিপ্ত হয়ে পড়ে।
পরিণাম চিন্তার বশবর্তী হয়েও কেউ গীবতে লিপ্ত হতে পারে যেমন কোন ব্যক্তির আশঙ্কা হলো যে, তার বিরুদ্ধে অমুক ব্যক্তি কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট কুৎসা করতে পারে বা সাক্ষ্য দিতে পারে। তাই সে আগেভাগেই তার প্রতিপক্ষের কুৎসা শুরু করে দেয় যাতে তার প্রতিপক্ষের কথা গ্রহণযোগ্য না হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির মনে একটি ধারণা সৃষ্টি হয়ে থাকে যে, লোকটি তার বিরুদ্ধে অযাচিত কথা বলছে।
কোন দোষ থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যেও কেউ গীবতের চর্চায় লিপ্ত হতে পারে। যেমন কেউ তার প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করে বললো, অমুকও এরূপই করেছে অথবা বলতে পারে যে, সেও আমার সাথে শরীক ছিল এবং আমি একান্তই নিরুপায় ছিলাম।
দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيْثِ، وَلَا تَحَسَّسُوا ، وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوْا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا ، وَلَا تَدَابَرُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا كَمَا أَمَرَكُمْ الْمُسْلِمُ أَخُوْ الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ، اَلتَّقْوَى هُهُنَا التَّقْوَى هُهُنَا، وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ بِحَسْبِ امْرِى مِنَ الشَّرِ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ : دَمُهُ، وَعِرْضُهُ، وَمَالَهُ إِنَّ اللهَ لَا يَفْظُرُ إِلَى أَجْسَادِكُمْ وَلَا إِلَى صُورِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ. وَأَعْمَالِكُمْ *
وَفِي رِوَايَة : «لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَنَاجَشُوْا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا» *
وَفِي رِوَايَةِ : لَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا ، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا *
وَفِي رِوَايَة : «لَا تَهَاجَرُوا وَلَا يَبِعْ بَعْضُ كُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ» *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাবধান! অযথা ধারণা করা থেকে বিরত থাক। কেননা অযথা ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। মানুষের দোষ অনুসন্ধান করো না; পরস্পরের ত্রুটি অনুসন্ধানে লেগে যেয়ো না। পরস্পর হিংসা পোষণ করো না; যোগাযোগ বন্ধ করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাকো, যেভাবে তোমাদের হুকুম করা হয়েছে, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞা করতে পারে না। তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতি এখানে। এই বলে তিনি তাঁর বুকের দিকে ইশারা করলেন। কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত, মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার দিকে দৃষ্টি দিবেন না। বরং দৃষ্টি দিবেন তোমাদের অন্তর ও 'আমালের প্রতি
আর এক বর্ণনায় আছে, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ছিদ্রান্বেষণ করো না, দোষ অনুসন্ধান করো না, অন্যের উপর দিয়ে দর কষাকষি করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই সম্পর্ক গড়ে তোল। অপর বর্ণনায় আছে, সম্পর্কচ্ছেদ করো না, খোঁজ-খবর নেয়া বন্ধ করো না, হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করো। একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর দিয়ে অপরজন যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে। -মুসলিম, রিয়াযুস সलेহীন ১৫৭০ নং হাদীস।
عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : «إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ الْمُسْلِمِينَ أَفْسَدْتَهُمْ أَوْكَيْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ» رواه أبو داؤد
মুয়াবিয়াহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যদি তুমি মুসলিমদের দোষ অনুসন্ধানে লেগে যাও, তবে তুমি তাদেরকে কোন ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলবে। অথবা তাদেরকে ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলার উপক্রম করবে। -হাদীসটি সহীহ; আবু দাউদ।
অহঙ্কার, আত্মগর্ব ও ঔদ্ধত্যের কারণেও কেউ পরচর্চায় জড়িয়ে পড়তে পারে এবং অন্যদের হীন ও নিজেকে সম্ভ্রান্ত বলে জাহির করতে পারে। যেমন, কারো এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি নিরেট মূর্খ, তার উত্তম বোধশক্তি নেই। অর্থাৎ তার কথার লক্ষ্য এই যে, সেই সত্যিকারের জ্ঞানী এবং অন্যরা খুব কমই জ্ঞাত।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولاً *
অর্থাৎ- “তুমি পৃথিবীতে অহঙ্কার করে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায়ও পৌঁছতে পারবে না।” -সূরা: বানী ইসরাঈল-৩৭।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِّنْ إِيْمَانِ وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مَثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ مِّنْ كِبْرِ *
ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অন্তরে সরিষার সমপরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহঙ্কার আছে সে জান্নাতে যাবে না। -মুসলিম, মিশকাত হাদীস নং ৫১০৮।
প্রতিহিংসার কারণেও পরচর্চা হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তির প্রতি যখন লোকদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তারা তাকে সম্মান প্রদর্শন করে, তার প্রশংসা করে, তখন এতে হিংসুকের মনে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে উঠে। সে কামনা করে, লোকটি যে মর্যাদা ও ভালোবাসা লাভ করেছে তা যেন তার হাতছাড়া হয়ে যায়। অন্য কিছু করতে না পারলেও সে তার গীবত চর্চায় মেতে উঠে, যাতে লোকজন তার সান্নিধ্যে যাওয়া ত্যাগ করে। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّا الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَابَ، أَوْقَالَ : الْعُشْبَ» رواه أبوا داؤد
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা মানুষের ভালো গুণগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমনভাবে আগুন শুকনা কাট জ্বালিয়ে ফেলে। অথবা তিনি কাঠের পরিবর্তে শুকনো ঘাসের কথা বলেছিলেন। -আবূ দাউদ; রিয়াযুস সলেহীন ১৫৬৯ নং হাঃ
হাসি-তামাশা, ক্রীড়া-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও মানুষ কারো গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়তে পারে। সময় কাটানোই এর মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে। অথচ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا تُمَارُ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحُهُ وَلَا تَعِدُهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَه رواه الترمذى
ইবনু আব্বাস রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করবে না। তার সাথে বিদ্রুপ করবে না এবং তাকে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা খেলাফ (ভঙ্গ) করবে না। –তিরমিযী, আনওয়ারুল হাদীস নং ৫৮৮।
অপরকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান করার কারণেও গীবতচর্চা হতে পারে। এটা সামনা-সামনিও হতে পারে এবং অনুপস্থিতিতেও হতে পারে।
গীবতের আরো যে তিনটি সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে তার মধ্যে বাহ্যত কল্যাণের উপাদান নিহিত থাকলেও শাইতন এর সাথে ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত করে দেয়। বিশিষ্ট পর্যায়ের ধর্মভীরু লোকের মধ্যেই এই তিন প্রকারের কারণ সীমাবদ্ধ।
• কোন দীনদার ব্যক্তির মধ্যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তার কোন ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত হয়ে অবাক বিস্ময়ে এ কথা বলা যে, এই লোকটি থেকে এরূপ ত্রুটি প্রকাশ পাবে তা আমরা আশা করিনি। নামোল্লেখ করে এরূপ বলা হলে তা গীবত হিসেবে গণ্য হবে এবং মন্তব্যকারী গুনাহগার হবে। অবশ্য নামোল্লেখ না করে কিছু বললে তাতে গীবত হবে না।
• কোন দীনদার ব্যক্তির ভুল-ত্রুটি লক্ষ্য করে তার প্রতি দয়ার উদ্রেক হওয়া এবং তার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমেও গীবত হতে পারে। যেমন কোন ব্যক্তিকে কোন সমালোচনাযোগ্য কাজে লিপ্ত দেখে তার প্রতি দয়া ও দুঃখ প্রকাশার্থে এভাবে বলা যে, তার জন্য বড়ই আফসোস হয়, সে এরূপ বিপদে জড়িয়ে পড়েছে। দুঃখ প্রকাশ করার দৃষ্টিকোণ থেকে যদিও যথার্থ মনে হয়, কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামোল্লেখ করায় তা গীবতের পর্যায়ে চলে যায়।
• আল্লাহর ওয়াস্তে ক্রোধ বা অভিমান করতে গিয়েও গীবতের সূত্রপাত হতে পারে। যেমন, কোন ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে দেখা গেলো বা শোনা গেলো। তখন তার প্রতি সহমর্মিতার দরুণ রাগ বা অভিমানের উদ্রেক হয়। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামোল্লেখ করে রাগ বা অভিমান ব্যক্ত করলে তা গীবতে পর্যবসিত হয়, নামোল্লেখ না করে তা করা হলে গীবতের পর্যায়ে পড়ে না। এখানে উত্তম পন্থা হলো, অপরের নিকট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রোধ বা অভিমান প্রকাশ না করে বরং একান্তে তার সামনেই অভিমান প্রকাশ করা। এতে উভয়ই গুনাহ থেকে রক্ষা পেতে পারে।
-গীবতের তাৎপর্য ও তার বিধান আল্লামা মওদুদী ৮৪-৮৬ পৃষ্ঠা

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 গীবতকারীর পরিণতি

📄 গীবতকারীর পরিণতি


মহান রাব্বুল আলামীন গীবতকারীর ভয়াবহ পরিণতির কথা বলে তাদেরকে হুশিয়ারী করে দিয়েছেন। তিনি সূরা হুমাযাহ এর মধ্যে গীবতকারী সম্পর্কে বলেনঃ
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ * দুর্ভোগ বা কঠিন শাস্তি প্রত্যেক ঐ সমস্ত লোকদের জন্য যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের গীবত বা পরণিন্দা করে। -সূরা: হুমাযাহ- ১
আল্লামা ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ বলেন : আল্লাহর আয়াতের অর্থ হলো : চরম দুর্ভোগ রয়েছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে অগোচরে অন্যের গীবত করে এবং সাক্ষাতে ধিক্কার দেয়।
ইবনু আব্বাস রযিআল্লাহু আনহু বলেন : এর অর্থ হলো খোঁটাদানকারী এবং গীবতকারী। রাবী বিন আনাস রযিআল্লাহু আনহু বলেন, সামনে মন্দ বলাকে (هُمَزَة) হুমাযাহ এবং অসাক্ষাতে নিন্দে করাকে (لُمَزَة) লুমাযাহ বলে।
কাতাদাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন যে, এর ভাবার্থ হলো, মুখের ভাষায় এবং চোখের ইশারায় আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট দেয়া। মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন : (هُمَزَة) হুমাযার অর্থ হলো হাত এবং চোখ দ্বারা কষ্ট দেয়া এবং (لُمَزَة) লুমাযার অর্থ হলো মুখ বা জিহ্বা দ্বারা কষ্ট দেয়া। -তাফসীরে ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ৭০৯-৭১০ পৃষ্ঠা
শব্দ দুটির অর্থ যেটাই হোক না কেন এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। গীবতের পরিণতি সম্পর্কে সূরা হুজরাতের ১২ নং আয়াতে যা বলা হয়েছে এবং এর ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনু কাসীর যে সমস্ত হাদীস উল্লেখ করেছেন পাঠকের খিদমাতে তা পেশ করা হলোঃ
وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابُ رَّحِيم *
তোমাদের কেউ একে অপরের পশ্চাতে গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার গোস্ত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই মনে করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ তাওবাহ গ্রহণকারী পরম দয়ালু। -সূরাঃ হুজরাত ১২ আয়াত
আল্লামা ইবনু কাসীর এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন : অর্থাৎ তোমরা তোমাদের মৃত ভাই এর গোস্ত খেতে যেমন ঘৃণাবোধ কর, গীবতকে এর থেকেও বেশী ঘৃণা করা তোমাদের উচিত। যেমন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কিছু দান করার পর তা ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বলেছেন:
كَالْكَلْبِ يَقِيُّ ثُمَّ يَرْجِعُ فِي قَيْئِهِ *
এটা ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করার পর পুনরায় তা ভক্ষণ করে। তিনি আরো বলেন : لَيْسَ لَنَا مِثْلُ السوء খারাপ দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য সমীচীন নয়।
নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : كُلَّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ مَالَهُ وَعِرْضَةً وَدَمَةٌ حَسْبِ امْرِي مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمِ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক মুসলমানের উপর প্রত্যেক মুসলমানের সম্পদ, মান-সম্মান ও রক্ত হারাম। মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অন্য মুসলমান ভাইকে ঘৃণা করে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
عَنْ أَبِي بُرْزَةَ الْأَسْلَمِي قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا مَعْشَرَ مَنْ أَمِنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يُدْخِلِ الإِيْمَانَ فِي قَلْبِهِ لَا تَعْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتُهُمْ فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعَ عَوْرَاتَهُمْ يَتَّبِعُ اللَّهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ يَتَّبِعَ اللهُ عورته يَفْصَحُهُ فِي بَيْتِهِ رَوَاهُ أَبُودَاؤُدَ
আবূ বুরযাহ আসলামী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে ঐ লোকদের দল! যারা শুধু মুখে ঈমান এনেছো কিন্তু অন্তরে ঈমান রাখোনি। তোমরা মুসলমানদের গীবত করো না, তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে না। যে ব্যক্তি তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর আল্লাহ যাদের দোষ প্রকাশ করে দিবেন তারা তাদের পরিবার পরিজনদের কাছেও মন্দ লোক বলে বিবেচিত ও লজ্জিত হবে। -আবূ দাউদ, তাফসীর ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৩ পৃষ্ঠা।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِي عَلَيْ قَبْرَيْنِ يَعَذِّبُ صَاحِباهُمَا فَقَالَ إِنَّهُمَا لَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ وَبَلَى أما أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَعْتابُ النَّاسَ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ لَا يَتَأَذَّى مِنَ الْبَوْلِ فَدَعَا بِجَرِيدَةٍ رَطَبَةٍ أَوْ بِجَرِيدَتَيْنِ فَكَسَرَهُمَا ثُمَّ أَمَرَ بِكُلِّ كَسَرَةٍ فَغَرِسَتْ عَلَى قَبْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّهُ سَيَهُونَ مِنْ عَذَابِهِمَا مَا كَانَتَا رُطَبَتَيْنِ أَوْ لَمْ تَيْبَسَا *
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রযিআল্লাহু আনহু বলেন: আমরা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি দু'টি কবরের নিকট পৌঁছলেন। কবরবাসীদ্বয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন : এই ব্যক্তিদ্বয়কে কোন গুরুতর অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। হ্যাঁ, তাদের একজন মানুষের গীবত করতো এবং অপরজন প্রস্রাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। তিনি তাজা একটি খেজুর শাখা বা দু'টি শাখা আনতে বললেন। তিনি তা দুই টুকরা করে ভাংলেন, অতঃপর তা দুই কবরের উপর গেড়ে দিতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: যতক্ষণ এই ডাল দু'টি তাজা থাকবে অথবা শুকিয়ে না যাবে, ততক্ষণ এদের হাল্কা শাস্তি হবে। -মুসনাদে আহমাদ, ইমাম তবারানী রহিমাহুল্লাহ-এর আল-মুজামুল কবীর, আওসাত ও সগীর; আদাবুল মুফরাদের ৭৪০ নং হাদীস। হাদীসটি সহীহ্ লিগাইরিহী।
আল্লামা ইবনু কাসীর মি'রাজের রাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শাস্তির ঘটনা দেখেছেন সে সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَّهُمْ أَظْفَارٌ مِّنْ نَّحَاسِ يَخَشِمُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ هُؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسَ وَيَقُعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ *
আনাস বিন মালিক রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মিরাজের রাত্রিতে আমি একদল লোকের নিকট দিয়ে গমন করছিলাম। লোকগুলোর তামার নখ রয়েছে ঐগুলো নিয়ে তারা নিজেদের চেহারা ও বক্ষ খামচাচ্ছিল। আমি বললাম, জিবরাঈল আলাহিস সালাম এরা কারা? জিবরাঈল আলাহিস সালাম বললেন, এরা তারাই যারা লোকদের গোস্ত খেতো অর্থাৎ গীবত করতো এবং সম্মানীদের অসম্মান করতো। -আবূ দাউদ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِثْنَا مَا رَأَيْتَ لَيْلَةَ أَسْرِي بِكَ؟ قَالَ : ثُمَّ انْطَلَقَ بِي إِلَى خَلْقٍ مِّنْ خَلْقِ اللَّهِ كَثِيرِ رِجَالٍ وَنِسَاءِ مُوَكَّلٌ بِهِمْ رِجَالٌ يَعْمِدُونَ إِلَى عِرْضِ جَنْبِ أَحَدِهِمْ فَيَجِنُّونَ مِنْهُ الْجِنَّةَ مِثْلَ النِّعَلِ ثُمَّ يَضَعُونَهَا فِي فِي أَحَدِهِمْ فَيُقَالُ لَهُ كُلِّ كما أَكَلْتُ وَهُوَ يَجِدُ مِنْ أَكْلِهِ الْمَوْتُ يَا مُحَمَّدٌ لَوْ يَجِدُ الْمَوْتِ وَهُوَ يَكْرَهُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ : يَا جِبْرَائِيلَ مَنْ هُؤُلَاءِ؟ قَالَ : هُؤُلَاءِ الْهَمَّارُونَ وَاللَّمَارُونَ أَصْحَابُ النَّمِيمَةِ فِيقَالُ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَهُوَ يَكْرَهُ عَلَى أَكْلِ لَحْمِهِ *
আবু সাঈদ খুদরী রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি মি'রাজের রাত্রিতে যা দেখেছিলেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, জিবরাঈল আলাহিস সালাম আমাকে বহু লোকের সমাবেশের পার্শ্ব দিয়ে নিয়ে গেলেন যাদের মধ্যে পুরুষও ছিল এবং নারীও ছিল। ফেরেশতারা তাদের পার্শ্বদেশের গোশত কেটে নিচ্ছেন অতঃপর তাদেরকে তা খেতে বাধ্য করছেন। আর বলা হচ্ছে, দুনিয়ায় যেরূপ খেতে এখন তদ্রূপ খাও অথচ সে মৃত খাবার খাবে, হে মুহাম্মাদ! যদিও তার অপছন্দনীয় মৃত তাকে গ্রাস করে। আমি তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জিবরাঈল আলাহিস সালাম উত্তরে বললেন : এরা হলো ঐসব লোক যারা ছিলো তিরস্কারকারী, গীবতকারী এবং চোগলখোরী। বলা হচ্ছে, তোমাদের কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তা অপছন্দ করছ। অথচ তাদের নিজের গোস্ত খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। -ইবনু আবী হাতিম, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৪ পৃষ্ঠা।
এরপর আল্লামা ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ মুসনাদে আবী দাউদ আত্-তয়ালিসীর একটি দুর্বল হাদীস পেশ করেন, তাতে আছে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলকে রোযা রাখতে বলায় সবাই রোযা রাখলো। সবাইকে তিনি ইফতারের অনুমতি দান করেন কিন্তু দুজন মহিলাকে অনুমতি দেননি বরং বললেন, তারাতো রোযা রাখেননি যারা মানুষের গোস্ত খায় তারা কি রোযাদার হতে পারে? যদি রোযা রেখে থাকে তারা যেন বমি করে। তারা বমি করলে রক্তপিণ্ড বের হয়। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলে তিনি বললেন : তারা যদি ঐ অবস্থায় মারা যেত তাহলে জাহান্নামে যেত। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের গোশত খাওয়া দ্বারা গীবত করা বুঝিয়েছেন অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন :
عَنْ سَعْدٍ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ أَمِرُوا بِصِيَامٍ فَجَاءَ رَجُلٌ فِي نِصْفِ النَّهَارِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلَانَةً وَفَلَانَةً قَدْ بَلَغْنَا الْجَهْدُ فَأَعْرَضُ عَنْهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ ادْعُهُمَا فَجَاءَ بِعَسٍ أَوْ قَدَحٍ فَقَالَ لِاِحْدَاهُمَا قَيْنِي فَقَاعَتْ لَحْمًا وَدَمَا عَبِيْطًا وَقَيْحًا وَقَالَ لِلْاُخْرَى مِثْلَ ذٰلِكَ ثُمَّ قَالَ : اِنَّ هٰتَيْنِ صَامَتَا عَمَّا أَحَلَّ اللهُ لَهُمَا وَأَفْطَرْنَا عَلَى مَا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِمَا اَتَتْ اِحْدَاهُمَا لِلْاُخْرَى فَلَمْ تَزَالَا تَأْكُلَانِ لُحُوْمَ النَّاسِ حَتَّى امْتَلَاَتْ أَجْوَافُهُمَا قَيْحًا رَوَاهُ أَحْمَدُ *
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম সা'দ হতে বর্ণিত যে, তাদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দেয়া হলো। এক ব্যক্তি দুপুরের দিকে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক মহিলা মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়ে গেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'বার কিংবা তিনবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর বললেন : তাদেরকে ডাকো। একটি পিয়ালা নিয়ে আসা হলে তাদের একজনকে বললেন: বমি করো, সে গোশত, রক্ত, পুঁজ বমি করলো। অপর জনকে বলা হলে সেও অনুরূপ করলো। অতঃপর নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এ দুজন আল্লাহর হালাল কৃত বস্তু দিয়ে রোযা রেখেছে আর আল্লাহর হারামকৃত বস্তু দিয়ে ইফতার করেছে। তারা একজন অপর জনের কাছে এসে সর্বদা মানুষের গোশত খেয়েছে অর্থাৎ গীবত করেছে। এভাবে তাদের পেট পুঁজে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। -মুসনাদে আহমাদ, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা
অতঃপর আল্লামা ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে মায়িয রযিআল্লাহু আনহু-এর হাদীস বর্ণনা করেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ مَاعِزًا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى قَالَهَا أَرْبَعًا فَلَمَّا كَانَ فِي الْخَامِسَةِ قَالَ : وَتَدْرِي مَا الزِّنَا ؟ قَالَ : نَعَمْ أَتَيْتُ مِنْهَا حَرَامًا مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنْ امْرَأَتِهِ حَلَالاً ، قَالَ : مَا تُرِيدُ إِلَى قَوْلِ هَذَا؟ قَالَ : أُرِيدُ أَنْ تُطَهَرْنِي ، قَالَ : فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدَخَلْتَ ذَلِكَ مِنْكَ فِي ذَلِكَ مِنْهَا كَمَا يَغِيْبُ الْمِيْلُ فِي الْمَكَحَلَةِ وَالرَّشَا فِي الْبِئْرِ؟ قَالَ : نَعَمْ يَا رَسُولَ الله قَالَ : فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ فَرَجَمَ، فَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلَيْنِ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ : أَلَمْ تَرَ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعُهُ نَفْسَهُ حَتَّى رُحِمَ رَجَمَ الْكَلْبِ؟ ثُمَّ سَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى مَر بِجَيْفَةٍ حِمَارٍ فَقَالَ : أَيْنَ فَلَانٌ وَفُلَانٌ؟ انْزِلَا فَكُلَا مِنْ جِيفَةٍ هَذَا الْحِمَارَ فَقَالَا : غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يُؤْكَلُ هَذَا؟ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَانِلْتُمَا مِنْ أَخِيكُمَا أَنِفَا أَشَدُّ أَكْلًا مِنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ الْأَنَ لَفِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ يَنْغَمِسٌ فِيهَا *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, মায়িয রযিআল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যেনা করেছি। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নিলে পঞ্চম বারে বললেন : যেনা কাকে বলে তুমি কি তা জান? তিনি বললেন : হ্যাঁ, মানুষ তার হালাল স্ত্রীর সাথে যা করে আমি হারাম স্ত্রীলোকের সাথে ঠিক তাই করেছি। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এখন তোমার উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন : আমাকে আপনি গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি তোমার গুপ্তাঙ্গকে এরূপভাবে প্রবেশ করিয়েছিলে যেরূপভাবে শলকা সুরমাদানীর মধ্যে এবং বালতির রশি কুয়ার মধ্যে প্রবেশ করে? তিনি বললেন : হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজম করার নির্দেশ দিলে তাকে রজম করা হলো। অতঃপর নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজন লোককে বলাবলি করতে শুনলেন, এ লোকটিকে দেখো আল্লাহ তার দোষ গোপন করেছিলেন কিন্তু সে নিজেই নিজেকে ছাড়লো না ফলে কুকুরের মতো তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে চলতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর পথে একটি মৃত গাধা দেখলেন অতঃপর তিনি বললেনঃ অমুক অমুক ব্যক্তিরা কোথায়? তোমরা নেমে এ মৃত গাধার গোশত ভক্ষণ করো। তারা বললো : হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন! এটা কি খাওয়ার যোগ্য? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা তোমাদের ভাইয়ের দোষ বর্ণনা করছিলে এটা এর থেকেও জঘণ্য ছিল। যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! সে তো এখন জান্নাতের নদীতে সাঁতার দিচ্ছে। -মুসনাদে আবু ইয়ালা- সহীহ্ সানাদে; ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা
عَنْ قَيْسٍ قَالَ كَانَ عُمَرُو بْنُ الْعَاصِ يَسِيرُ مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَمَرَّ عَلَى بَغْلٍ مَيْتَ قَدْ انْتَفخَ فَقَالَ وَاللهِ لَأَنْ يَأْكُلَ أَحَدُكُمْ هُذَا حَتَّى يَمْلَأُ بَطْنَهُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ مُسْلِمٍ *
কয়িস রহিমাহুল্লাহ বলেন : আমর ইবনুল আস রযিআল্লাহু আনহু তার কতক সঙ্গীসহ সফর করছিলেন। তিনি একটি মৃত খচ্চরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যা ফুলে উঠেছিল। তিনি বলেন : আল্লাহর শপথ! তোমাদের কেউ যদি তা পেট পুরে আহারও করে তবুও সেটা তার কোন মুসলমানের গোস্ত খাওয়ার চেয়ে উত্তম। -আল-আদাবুল মুফরাদ ৭৪১ নং হাদীস। সানাদ সহীহ।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَفَعَتْ رِيحٌ جَيْفَةٍ مُنْتِنَةٍ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَدْرُونَ مَا هُذِهِ الرِّيحُ هُذِهِ رِيحُ الَّذِينَ يَعْتَابُونَ النَّاسَ *
জাবির বিন আব্দিল্লাহ রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমরা এক সফরে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এমন সময় মৃত পঁচা দুর্গন্ধময় বাতাস বইতে শুরু করলো। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটা কিসের দুর্গন্ধ তা কি তোমরা জান? এটা হলো ঐ লোকদের দুর্গন্ধ যারা মানুষের গীবত করে। -মুসনাদে আহমাদ, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা, আল্লামা আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى سَفَرٍ فَهَاجَتْ رِيحٌ مِنتَنَةٍ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ نَفَرًا مِنَ الْمُنَافِقِينَ اغْتَابُوا نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَلِذَلِكَ بَعَثَتْ هَذِهِ الرِّيحُ رواه عبد بن حميد في مسنده - لابن كثير جـ ٤ ، صـ ٢٧٥ .
জাবির বিন আবদিল্লাহ রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমরা একবার এক সফরে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, হঠাৎ দুর্গন্ধময় বাতাস বইতে শুরু করে। তখন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটা হলো একদল মুনাফিকদের দুর্গন্ধ যারা মুসলমানের গীবত করে। -মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়িদ, তাফসীর ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা।
আল্লামা সুদ্দী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, এক সফরে সালমান রযিআল্লাহু আনহু দুজন লোকের সাথে ছিলেন যাঁদের তিনি খিদমাত করতেন। তাঁরা তাঁকে খেতে দিতেন। একবার সালমান রযিআল্লাহু আনহু শুয়ে পড়েছিলেন, ইতিমধ্যে যাত্রীদল তথা হতে প্রস্থান করেন। পরবর্তী বিশ্রামস্থলে পৌছে ঐ দুই ব্যক্তি দেখেন যে সালমান রযিআল্লাহু আনহু আসেননি। কাজেই বাধ্য হয়ে তাঁদেরকে নিজেদের হাতেই তাঁবু খাটাতে হয়। তাই তাঁরা রাগান্বিত হয়ে বলেন, সালমানের কাজতো এটাই যে, অপরের রান্নাকৃত খাবার খাবে এবং অপরের খাটানো তাঁবুতে বিশ্রাম করবে (অর্থাৎ নিজে কিছুই করবে না)। কিছুক্ষণ পর সালমান রযিআল্লাহু আনহু আসলেন ঐদুই ব্যক্তির নিকট তরকারী ছিল না। সুতরাং তাঁরা তাঁকে বললেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তুমি আমাদের জন্য কিছু তরকারী নিয়ে এসো। তিনি গিয়ে বললেন : হে আল্লাহর রসূল আমার সঙ্গীদ্বয় আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। যদি আপনার কাছে তরকারী থাকে তাহলে আমাকে দিন।
قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يَصْنَعُ أَصْحَابَكَ بِأَدَمِهِمْ ؟ قَدْ انْتَدَمُوا فَرَجَعَ سَلْمَانُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِخَيْرِهِمَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْطَلَقَا حَتَّى أَتَيَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَا : وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَصَبْنَا طَعَامًا مُنْذُ نَزَلْنَا ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمَا قَدِ انْتَدَمْتُمَا بِسَلْمَانَ بِقُولِكُمَا ، قَالَ : وَنَزَلَتْ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيْهِ مَيْتًا *
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাঁরা তরকারী কি করবে? তারা তরকারী তো পেয়েই গেছে। সালমান রযিআল্লাহু আনহু ফিরে গেলেন এবং গিয়ে সঙ্গীদ্বয়কে ঐকথা বললেন। তাঁরা উঠে তখন নিজেরাই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বললেন : হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে তো তরকারী নেই এবং আপনি তা পাঠানওনি। তখন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন : তোমরাতো সালমান রযিআল্লাহু আনহু-এর গোশতের তরকারী খেয়েছো। যেহেতু তোমরা তার সম্পর্কে এরূপ এরূপ কথা বলেছো! রাবী বলেন: ঐ সময় এ আয়াতটি নাযিল হয়- “তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?” -ইবনু আবী হাতিম, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৫-২৭৬ পৃষ্ঠা।
হাফিয যিয়াআ মাকদেসী তাঁর মুখতার গ্রন্থে বর্ণনা করেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كَانَتِ الْعَرَبُ تَخْدِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فِي الْأَسْفَارِ وَكَانَ مَعَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا رَجُل يَخْدِمُهُمَا فَنَامَا فَاسْتَيْقَظَا وَلَمْ يَهَي لَهُما طَعَامًا فَقَالَ : إِنَّ هَذَا لَقَوْم فَأَيْقَظَاهُ فَقَالَا لَهُ : ائْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُل لَّهُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقْرَنَانِكَ السَّلَامَ وَيَسْتَدِمَانِكَ فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّهُمَا قَدِ انْتَدَمَا فَجَاءَا فَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَيِّ شَيْءٍ انْتَدَمْنَا ؟ فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : بِلَحْمِ أَخِيكُمَا وَالَّذِي نَفْسِي بَيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى لَحْمُهُ بَيْنَ تَنَايَا كُمَا فَقَالَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا اسْتَغْفِرْ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَرَاهُ فَلْيَسْتَغْفِرُ لَكُما *
আনাস বিন মালিক রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আরবরা সফরে এসে অপরকে খিদমাত করত। আবূ বাকর ও উমার রযিআল্লাহু আনহুমা-এর সাথে এক ব্যক্তি ছিলেন। যিনি তাঁদের দু'জনের খিদমাত করেন। তাঁরা ঘুমিয়ে গেলেন। অতঃপর ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, তিনি তাঁদের খাবার তৈরী করেননি। তাঁরা বললেন : এতো দেখছি খুবই ঘুমাতে পারে? তাঁরা তাকে জাগিয়ে দিয়ে বললেন : তুমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট যেয়ে বলো, আবূ বাকর ও উমার রযিআল্লাহু আনহুমা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তরকারী চেয়েছেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাঁরা তো তরকারী পেয়েই গেছে। তাঁরা দুজন এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কিসের দ্বারা আমরা তরকারী পেলাম? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের ভাইয়ের গোশতের দ্বারা! ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তার গোস্ত তোমাদের দাঁতে লেগে থাকতে দেখেছি। তারা দুজনে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে তোমরা তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলো। -কিতাবুল মুখতার যিয়া মাকদিসী; তাফসীর ইবনু কাসীর ৪র্থ খন্ড ২৭৬ পৃষ্ঠা
অতঃপর আল্লামা ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ একটি অত্যন্ত গারীব হাদীস বর্ণনা করেন যে-
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم : مَنْ أَكَلَ مِنْ لَحْمِ أَخِيهِ فِي الدُّنْيَا قَرَّبَ اللَّهُ إِلَيْهِ لَحْمُهُ فِي الْآخِرَةِ شاه بلادو رد * فيقال له كله ميتا كما أكلته حيا قَالَ : فيأكله ويصلح ويصي
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত খেয়েছে অর্থাৎ গীবত করেছে কিয়ামাতের দিন ঐ গোশত তার নিকট আল্লাহ পেশ করবেন এবং তাকে বলা হবে তুমি জীবিত অবস্থায় যেমন তার গোশত খেয়েছিলে এখন তেমনই মৃত অবস্থায় তার গোশত ভক্ষণ করো। তখন সে ভীষণ চীৎকার ও হায় হুতাস করবে। তাকে জোরপূর্বক ঐ গোশত খাওয়ানো হবে। -মুসনাদে আবু ইয়ালা, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৬ পৃষ্ঠা
عَنْ يَعْلَى بْنِ سَيَابَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أنه عهد النبي صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَتَى عَلَى قَبْرٍ يُعَذِّبُ صَاحِبَهُ فَقَالَ : إِنَّ هَذَا كَانَ يَأْكُلُ لُحُومَ النَّاسَ ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ رَطَبَةٍ فَوَضَعَهَا عَلَى قَبْرِهِ وَقَالَ : لَعَلَّهُ أَنْ يَخَفِّفَ عَنْهُ مَا دَامَتْ هَذِهِ رطبة *
ইয়ালা বিন সাইয়াবাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; (তিনি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছেন)। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কবরের নিকটে এলেন, যার অধিবাসীকে আযাব দেয়া হচ্ছিল। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ব্যক্তি মানুষের গোস্ত খেত (গীবত করতো) তারপর তিনি একটা কাঁচা ডাল আনতে বললেন। তিনি ডালটিকে কবরের ওপর পুঁতে দিয়ে বললেন: এটা যতক্ষণ কাঁচা থাকবে, ততক্ষণ আশা করা যায়, তার কবরের আযাব কিছুটা লাঘব হবে।-মুসনাদে আহমাদ, তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ১৪৮৪ নং।
এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন : واتقوا الله তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। অর্থাৎ তাঁকে ভয় করে তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চল এবং তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়। আল্লাহ তাওবাহ্ক্বারীর তাওবাহ্ কবুল করেন। যে তার দিকে ফিরে আসে এবং তাঁর উপর নির্ভরশীল হয় আল্লাহ তার উপর দয়া করেন, যেহেতু তিনি তাওবাহ কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00