📄 গীবত একটি মহাপাপ
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মু'মিন বান্দাদেরকে কুধারণা পোষণ করা হতে, অপবাদ দেয়া হতে, গীবত করা হতে এবং অপর লোকদের অন্তরে অযথা ভয় সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করেছেন। এ অপরাধগুলো যেহেতু মানুষ মুখ বা জিহ্বার মাধ্যমে করে থাকে তাই জিহ্বার এ অপ্রিয় কথা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظَلِمَ * الحاضنا আল্লাহ মন্দ কথা প্রকাশ করা ভালোবাসেন না। তবে কারো উপর যুলুম করা হয়ে থাকলে অন্য কথা। -সূরাঃ আন্-নিসা- ১৪৮
অপরদিকে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহ্বার হিফাযাতের উপর জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেনঃ
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ يَضْمَنَ لِي مَا بَيْنَ لِحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَن لَهُ الْجَنَّةَ *
সাহল বিন সা'দ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাকে তার জিহ্বা এবং লজ্জাস্থানের হিফাযাতের প্রতিশ্রুতি দিবে আমি তাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দান করবো। -বুখারী
ইমাম নাববী রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন :
إِعْلَمْ أَنَّهُ يَنْبَغِي لِكُلِّ مُكَلَّفٍ أَنْ يَحْفَظَ لِسَانَهُ عَنْ جَمِيعِ الْكَلَامِ إِلَّا كَلَاماً ظَهَرَتْ فِيْهِ الْمُصْلَحَةُ وَمَتَى اسْتَوَى الْكَلَامُ وَتَرْكُهُ فِي الْمُصْلَحَةِ فَالسُّنَّةُ الْإِمْسَالُ عَنْهُ لِأَنَّهُ قَدْ يَنْجَرُ الْكَلَامُ الْمُبَاحُ إِلى حَرَامِ أَوْ مَكْرُوهِ، وَذَلِكَ كَثِيرٌ فِي الْعَادَةِ وَالسَّلَامَةُ لَا يَعْدِلُهَا شَيْءٌ *
“প্রত্যেক সুস্থ বিবেকসম্পন্ন বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা কর্তব্য। তবে যে কথা বললে উপকার ও কল্যাণ হয় তা বলা কর্তব্য। যখন কথা বলা বা চুপ থাকা উভয়ই উপকার ও কল্যাণের দিক থেকে সমান হয় তখন সুন্নাত তরীকা হলো চুপ থাকা। কেননা কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদিত (মুবাহ্) কথাবার্তাও হারাম ও অপছন্দনীয় কিছু ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত এটাই ঘটে থাকে। নির্দোষ ও নিখুত অবস্থার সমকক্ষ আর কিছুই না।”-রিয়াযুস সালিহীন, ৪র্থ খণ্ড ২৭-২৮ পৃষ্ঠা।
গীবত এমন একটি পাপ। যে পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ না ঘটলে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। এ গীবতের মাধ্যমে যে পাপ হয় তার সাথে মৃত মানুষের গোস্ত খাওয়ার তুলনা করে আল্লাহ বলেন:
وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ *
আর একে অন্যের গীবত করো না, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে তার মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া পছন্দ করে? তোমরা নিজেরাই তো ওটার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে থাকো। -সূরাঃ হুজরাত- ১২
গীবত ও চোগলখোরী ঈমানকেও ধ্বংস করে দেয়। আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী এ ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তা হলো :
عَنْ عُثْمَانِ بْنِ عَفَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : الْغِيْبَةُ وَالَّنِمِيمَةُ يُحَتَانِ الْإِيْمَانَ كَمَا يَعْضِدُ الرَّاعِي الشَّجَرَةَ رواه الأصبهاني
উসমান বিন আফ্ফান রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, রাখাল যেভাবে গাছের পাতা পাড়ে ঠিক সেইভাবে গীবত ও চোগলখোরী ঈমানকে ধ্বংস করে। -আসবাহানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৪৮৫ নং হাদীস।
মৃত্যু মানুষের গোস্ত খাওয়া যেরূপ নিন্দনীয় তার চাইতে গীবত করা হলো অপছন্দনীয় কাজ। যা সমুদ্রের সমস্ত পানিকেও নষ্ট করে দেয় এবং তা যিনার চাইতেও বড় অপরাধ। মহানাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গীবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উম্মাতে মুহাম্মাদীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا ؟ قَالَ : الرَّجُلُ لَيَنْرِنِي فَيَتُوْبُ فَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ فَيَتُوبُ فيغفر الله وأن صاحب الغيبة لا يغفر له حتى يغفرها له صاحبه رواه البيهقي
আবূ সাঈদ ও জাবির রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তাঁরা উভয়ে বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : গীবত যিনার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! গীবত কিভাবে যিনার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কোন মানুষ যিনা করে তাওবাহ করে ফেলে, আর আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করে নেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সে তাওবাহ করে ফেলে আর আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যে পর্যন্ত না যার গীবত করা হয়েছে সে নিজে মাফ করে দেয়। -বাইহাকী।
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ الذَنْبِ أَعْظَمْ؟ قَالَ : أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ إِذَا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ أَنْ تَقْتُلُ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَأْكُلَ مَعَكَ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ : أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ متفق عليه
ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, সবচেয়ে বড় পাপ কোন্টি? তিনি বললেন : আল্লাহর সাথে শির্ক করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, তারপর কোন্টি বড় পাপ? তিনি বললেন : তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে এ ভয়ে তুমি তাকে যদি হত্যা কর। আমি বললাম, তারপর কোন্টি বড় পাপ? তিনি বললেন : তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। -বুখারী, মুসলিম, তাওযীহুল আহকাম ৭ম খণ্ড ৩৩৫ পৃষ্ঠা।।
📄 চোগলখোরী কথা ও গীবতের বাক্যালাপ শ্রবণ নিষেধ
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَإِذَا سَمِعُوا الَّلَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ * “কোন ব্যক্তি কাউকে গীবত করতে শুনলে তাকে বাধা দিবে।” -সূরা: আল-কাসাস- ৫৫।
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ * “(তারাই মু'মিন) যারা বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকে।” -সূরাঃ মু'মিনূন- ৩।
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادُ كُلَّ أُوْلَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلاً * “জেনে রাখ, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তঃকরণ সব কিছুর জন্যই জওয়াবদিহি করতে হবে।” -সূরাঃ বানী-ইসরাঈল- ৩৬
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثِ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ * “তুমি যখন দেখবে লোকেরা আমার আয়াতসমূহের দোষ-ত্রুটি খুঁজছে, তখন তাদের নিকট থেকে সরে যাও যতক্ষণ তারা এই প্রসঙ্গের কথাবার্তা বন্ধ করে অন্য কোন কথায় মগ্ন না হয়। শাইতন যদি কখনো তোমাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, তবে যখনি তোমার এই ভুলের অনুভূতি হবে আর এই যালিমদের কাছে বসবে না।” -সূরাঃ আল-আন'আম-৬৮।
আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গীবত করতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন এবং গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। যা বুখারীর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّمِيمَةِ وَنَهَى الْغَيْبَةِ وَعَنِ الْاِسْتِماعِ الْغَيْبَةِ .
আব্দুল্লাহ বিন উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন ঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোগলখোরী করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি গীবত করতে ও গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। -বুখারী
আল্লাহ সকল মু'মিন মুসলমানদেরকে গীবত চোগলখোরী করা হতে এবং গীবতের কথা শুনা হতে রক্ষা করুন।
📄 কটাক্ষমূলক কথা বলাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত
কাউকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করে কথা বলা যাবে না, কেননা এটা গীবতের অন্তর্ভূক্ত। স্বয়ং নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কটাক্ষ ও ইঙ্গিত মূলক কথা হলে তিনি বলেন:
عَنْ حَسَانِ بْنِ الْمَخَارِقِ أَنَّ امْرَأَةً دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَلَمَّا قَامَتْ لِتَخْرُجَ أَشَارَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِيَدِهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ إِنَّهَا قَصِيرَةُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْتَبْتَهَا *
হাসসান বিন মাখারিক রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একদা একজন মহিলা আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা-এর নিকট আগমন করে। যখন মহিলাটি ফিরে যেতে উদ্যত হয় তখন আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা মহিলাটির দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন : মহিলাটি খুবই খাট। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন : তুমি তার গীবত করলে। -ইবনু জারীর, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৩ পৃষ্ঠা
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَسْبُكَ مِنْ صَفِيَّةِ كَذَا وَكَذَا تَعْنِي قَصِيرَةً فَقَالَ لَقَدْ قُلْتَ كَلِمَةً لَوْ مَزَجَتْ بِمَاءِ الْبَحْرِ لَمَرْجَتْهُ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِنِي
আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি একদিন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম : সফিয়্যার এ গুণটিই তো আপনার জন্য যথেষ্ট। (এই বলে আয়িশাহ রযিআল্লাহু আনহা তাঁর খাটো হওয়ার বিষয়টি বুঝাচ্ছিলেন।) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তুমি এমন একটি কথা বললে যে, এটা যদি সমূদ্রের পানিতে মিশিয়ে দেয়া হয় তাহলে এটা সমূদ্রের পানিকেও নষ্ট করে ছাড়বে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড ২৭৩ পৃষ্ঠা
📄 যে সব কারণে গীবত চর্চা হয়
'আমল বিনষ্টকারী নেকী ভক্ষণকারী গীবত হতে বাঁচতে হলে যে কারণে গীবত সংঘটিত হয় তা নির্ণয় করে পরিহার করতে হবে। এজন্য তার উৎসর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিভিন্ন কারণে গীবতচর্চা হয়ে থাকে, তার মধ্যে আটটি কারণ সর্বসাধারনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তিনটি কারণ উচ্চ পর্যায়ের দীনদার ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মনের ঝাল মিটানোর জন্য একে অপরের দোষচর্চা করা। অর্থাৎ কোন কারণে কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি রুষ্ট হলে উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তার দোষ বর্ণনা করতে থাকে এবং মনের ক্ষোভ মিটাতে থাকে। এই ক্রোধ গীবত বা পরণিন্দার অন্যতম কারণ। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَيْسَ الشَدِيدُ بِالصُّرْعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রকৃত বলবান ও বীরপুরুষ সে নয়, যে কুস্তিতে কাউকে হারিয়ে দেয়। প্রকৃত বীরপুরুষ হলো সেই ব্যক্তি, সে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারে (ক্রোধ দমন করতে পারে)। -বুখারী হাদীস নং ৫৬৭৪।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَوْصِنِي، قَالَ : لَا تَغْضَبْ فَرَدَّدَ مِرَارًا ، قَالَ : لَا تَغْضَبْ *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: একদনি জনৈক লোক নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলো, আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: রাগান্বিত হয়ো না। লোকটি বার বারই নসীহত করার জন্য (নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরয করতে লাগলো। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও প্রত্যেকবারই বলতে থাকেন, রাগান্বিত হয়ো না। -বুখারী হাদীস নং ৫৬৭৬।
মানুষ কখনো অন্যদের দেখাদেখি গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং অপরের সাথে তাল মিলাতে থাকে। যেমন নিজের কোন বন্ধু বা সহযোগী কারো দোষচর্চা করতে লাগলে সে মনে করে, আমি যদি তার সাথে তাল না মিলাই তবে সে অসন্তুষ্ট হবে। তাই সঙ্গদোষে সেও দোষচর্চায় লিপ্ত হয়ে পড়ে।
পরিণাম চিন্তার বশবর্তী হয়েও কেউ গীবতে লিপ্ত হতে পারে যেমন কোন ব্যক্তির আশঙ্কা হলো যে, তার বিরুদ্ধে অমুক ব্যক্তি কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট কুৎসা করতে পারে বা সাক্ষ্য দিতে পারে। তাই সে আগেভাগেই তার প্রতিপক্ষের কুৎসা শুরু করে দেয় যাতে তার প্রতিপক্ষের কথা গ্রহণযোগ্য না হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির মনে একটি ধারণা সৃষ্টি হয়ে থাকে যে, লোকটি তার বিরুদ্ধে অযাচিত কথা বলছে।
কোন দোষ থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যেও কেউ গীবতের চর্চায় লিপ্ত হতে পারে। যেমন কেউ তার প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করে বললো, অমুকও এরূপই করেছে অথবা বলতে পারে যে, সেও আমার সাথে শরীক ছিল এবং আমি একান্তই নিরুপায় ছিলাম।
দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيْثِ، وَلَا تَحَسَّسُوا ، وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوْا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا ، وَلَا تَدَابَرُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا كَمَا أَمَرَكُمْ الْمُسْلِمُ أَخُوْ الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ، اَلتَّقْوَى هُهُنَا التَّقْوَى هُهُنَا، وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ بِحَسْبِ امْرِى مِنَ الشَّرِ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ : دَمُهُ، وَعِرْضُهُ، وَمَالَهُ إِنَّ اللهَ لَا يَفْظُرُ إِلَى أَجْسَادِكُمْ وَلَا إِلَى صُورِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ. وَأَعْمَالِكُمْ *
وَفِي رِوَايَة : «لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَسَّسُوا وَلَا تَنَاجَشُوْا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا» *
وَفِي رِوَايَةِ : لَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا ، وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا *
وَفِي رِوَايَة : «لَا تَهَاجَرُوا وَلَا يَبِعْ بَعْضُ كُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ» *
আবূ হুরাইরা রযিআল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাবধান! অযথা ধারণা করা থেকে বিরত থাক। কেননা অযথা ধারণা পোষণ করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। মানুষের দোষ অনুসন্ধান করো না; পরস্পরের ত্রুটি অনুসন্ধানে লেগে যেয়ো না। পরস্পর হিংসা পোষণ করো না; যোগাযোগ বন্ধ করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাকো, যেভাবে তোমাদের হুকুম করা হয়েছে, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করতে পারে না, তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞা করতে পারে না। তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতি এখানে। এই বলে তিনি তাঁর বুকের দিকে ইশারা করলেন। কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা বা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত, মান-মর্যাদা ও ধন-সম্পদ হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ তোমাদের শরীর ও চেহারার দিকে দৃষ্টি দিবেন না। বরং দৃষ্টি দিবেন তোমাদের অন্তর ও 'আমালের প্রতি
আর এক বর্ণনায় আছে, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, ছিদ্রান্বেষণ করো না, দোষ অনুসন্ধান করো না, অন্যের উপর দিয়ে দর কষাকষি করো না। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই সম্পর্ক গড়ে তোল। অপর বর্ণনায় আছে, সম্পর্কচ্ছেদ করো না, খোঁজ-খবর নেয়া বন্ধ করো না, হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করো। একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর দিয়ে অপরজন যেন ক্রয়-বিক্রয় না করে। -মুসলিম, রিয়াযুস সलेহীন ১৫৭০ নং হাদীস।
عَنْ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : «إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ الْمُسْلِمِينَ أَفْسَدْتَهُمْ أَوْكَيْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ» رواه أبو داؤد
মুয়াবিয়াহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যদি তুমি মুসলিমদের দোষ অনুসন্ধানে লেগে যাও, তবে তুমি তাদেরকে কোন ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলবে। অথবা তাদেরকে ফ্যাসাদে জড়িয়ে ফেলার উপক্রম করবে। -হাদীসটি সহীহ; আবু দাউদ।
অহঙ্কার, আত্মগর্ব ও ঔদ্ধত্যের কারণেও কেউ পরচর্চায় জড়িয়ে পড়তে পারে এবং অন্যদের হীন ও নিজেকে সম্ভ্রান্ত বলে জাহির করতে পারে। যেমন, কারো এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি নিরেট মূর্খ, তার উত্তম বোধশক্তি নেই। অর্থাৎ তার কথার লক্ষ্য এই যে, সেই সত্যিকারের জ্ঞানী এবং অন্যরা খুব কমই জ্ঞাত।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولاً *
অর্থাৎ- “তুমি পৃথিবীতে অহঙ্কার করে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায়ও পৌঁছতে পারবে না।” -সূরা: বানী ইসরাঈল-৩৭।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِّنْ إِيْمَانِ وَلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مَثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ مِّنْ كِبْرِ *
ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অন্তরে সরিষার সমপরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহঙ্কার আছে সে জান্নাতে যাবে না। -মুসলিম, মিশকাত হাদীস নং ৫১০৮।
প্রতিহিংসার কারণেও পরচর্চা হয়ে থাকে। কোন ব্যক্তির প্রতি যখন লোকদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তারা তাকে সম্মান প্রদর্শন করে, তার প্রশংসা করে, তখন এতে হিংসুকের মনে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে উঠে। সে কামনা করে, লোকটি যে মর্যাদা ও ভালোবাসা লাভ করেছে তা যেন তার হাতছাড়া হয়ে যায়। অন্য কিছু করতে না পারলেও সে তার গীবত চর্চায় মেতে উঠে, যাতে লোকজন তার সান্নিধ্যে যাওয়া ত্যাগ করে। নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : «إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّا الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَابَ، أَوْقَالَ : الْعُشْبَ» رواه أبوا داؤد
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা মানুষের ভালো গুণগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমনভাবে আগুন শুকনা কাট জ্বালিয়ে ফেলে। অথবা তিনি কাঠের পরিবর্তে শুকনো ঘাসের কথা বলেছিলেন। -আবূ দাউদ; রিয়াযুস সলেহীন ১৫৬৯ নং হাঃ
হাসি-তামাশা, ক্রীড়া-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও মানুষ কারো গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়তে পারে। সময় কাটানোই এর মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে। অথচ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا تُمَارُ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحُهُ وَلَا تَعِدُهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفَه رواه الترمذى
ইবনু আব্বাস রযিআল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত; নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করবে না। তার সাথে বিদ্রুপ করবে না এবং তাকে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা খেলাফ (ভঙ্গ) করবে না। –তিরমিযী, আনওয়ারুল হাদীস নং ৫৮৮।
অপরকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান করার কারণেও গীবতচর্চা হতে পারে। এটা সামনা-সামনিও হতে পারে এবং অনুপস্থিতিতেও হতে পারে।
গীবতের আরো যে তিনটি সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে তার মধ্যে বাহ্যত কল্যাণের উপাদান নিহিত থাকলেও শাইতন এর সাথে ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত করে দেয়। বিশিষ্ট পর্যায়ের ধর্মভীরু লোকের মধ্যেই এই তিন প্রকারের কারণ সীমাবদ্ধ।
• কোন দীনদার ব্যক্তির মধ্যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তার কোন ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত হয়ে অবাক বিস্ময়ে এ কথা বলা যে, এই লোকটি থেকে এরূপ ত্রুটি প্রকাশ পাবে তা আমরা আশা করিনি। নামোল্লেখ করে এরূপ বলা হলে তা গীবত হিসেবে গণ্য হবে এবং মন্তব্যকারী গুনাহগার হবে। অবশ্য নামোল্লেখ না করে কিছু বললে তাতে গীবত হবে না।
• কোন দীনদার ব্যক্তির ভুল-ত্রুটি লক্ষ্য করে তার প্রতি দয়ার উদ্রেক হওয়া এবং তার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমেও গীবত হতে পারে। যেমন কোন ব্যক্তিকে কোন সমালোচনাযোগ্য কাজে লিপ্ত দেখে তার প্রতি দয়া ও দুঃখ প্রকাশার্থে এভাবে বলা যে, তার জন্য বড়ই আফসোস হয়, সে এরূপ বিপদে জড়িয়ে পড়েছে। দুঃখ প্রকাশ করার দৃষ্টিকোণ থেকে যদিও যথার্থ মনে হয়, কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামোল্লেখ করায় তা গীবতের পর্যায়ে চলে যায়।
• আল্লাহর ওয়াস্তে ক্রোধ বা অভিমান করতে গিয়েও গীবতের সূত্রপাত হতে পারে। যেমন, কোন ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে দেখা গেলো বা শোনা গেলো। তখন তার প্রতি সহমর্মিতার দরুণ রাগ বা অভিমানের উদ্রেক হয়। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামোল্লেখ করে রাগ বা অভিমান ব্যক্ত করলে তা গীবতে পর্যবসিত হয়, নামোল্লেখ না করে তা করা হলে গীবতের পর্যায়ে পড়ে না। এখানে উত্তম পন্থা হলো, অপরের নিকট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রোধ বা অভিমান প্রকাশ না করে বরং একান্তে তার সামনেই অভিমান প্রকাশ করা। এতে উভয়ই গুনাহ থেকে রক্ষা পেতে পারে।
-গীবতের তাৎপর্য ও তার বিধান আল্লামা মওদুদী ৮৪-৮৬ পৃষ্ঠা