📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 চোগলখোরী ও গীবত কি?

📄 চোগলখোরী ও গীবত কি?


চোগলখোরী বলা হয় একের কথা অপরকে বলে উভয়ের মাঝে মনোমালিন্যের সৃষ্টি করা ও ঝগড়া ফাসাদ লাগিয়ে দেয়া।
গীবত আরবী শব্দ যার অর্থ পরনিন্দা, কুৎসা রচনা করা, অন্যের দোষত্রুটির কথা প্রকাশ করা। পরিভাষায় কারো অনুপস্থিতিতে এমন কোন দোষের কথা বলা, যা সে শুনলে মনে কষ্ট ও দুঃখ পাবে। গীবত যে আগুন জ্বালায় চোগলখোরী তাকে বিস্তৃত করে নতুন দিকে ছড়িয়ে দেয়, ইসলামের দৃষ্টিতে এটা মারাত্মক অপরাধ। কেননা ইসলাম যে ধরনের একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ কামনা করে সেই সমাজে চোগলখোর ও গীবতকারীর কোন অস্তিত্ব নেই। গীবতের সংজ্ঞা স্বয়ং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الْغَيْبَةُ؟ قَالُوا : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ قِبْلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ إِنْ كَانَ فِيْهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ مَا تَقُوْلُ فَقَدْ بَهَتَهُ *
আবূ হুরাইরাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কি জান, গীবত কাকে বলে? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তোমার ভাইয়ের এমন কিছু (তার অগোচরে) আলোচনা করা যা সে খারাপ মনে করে। বলা হলো, এ ব্যাপারে আপনার রায় কি? আমি যে দোষের কথাটি বলছি এটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান থাকে? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার মধ্যে এ দোষটি থাকলেই তো বলা হবে যে তুমি তার গীবত করেছো আর এটা যদি তার মধ্যে আদৌ না থাকে তাহলে তুমি তার উপর অপবাদ আরোপ করলে। -মুসলিম, আবূ দাউদ
মুত্তালিব বিন আব্দিল্লাহ বিন হানতার আল-মাখযুমী রযিআল্লাহু আনহু অবহিত করেন:
أَنَّ رَجُلاً سُئِلَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْغِيْبَةُ فَقَالَ أَنْ تُذكَرَ مِنَ الْمَرْءِ مَا يَكْرَهُ أَنْ يَسْمَعَ قَالَ يَارَسُوْلَ اللهِ وَإِنْ كَانَ حَقًّا قَالَ إِذَا قُلْتَ بَاطِلًا فَذَالِكَ الْبُهْتَانُ رواه مالك في المؤطا
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন : গীবত কি? তিনি বললেন: তুমি কোন ব্যক্তির কথা এমনভাবে উল্লেখ করলে যে, তা শুনলে সে অপছন্দ করবে, সে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল- তা যদি সত্য হয়? তিনি বললেন : তুমি যদি বাতিল কথা বলো তবে তা অপবাদ হবে। -মুয়াত্তা মালিক।
অতএব বুঝা গেলো চোগলখোরী হলো এক জনের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে দেয়া এবং গীবত হলো কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে আলোচনা করা; যেটা সে শুনলে মনে কষ্ট পাবে। কুরআন ও হাদীস থেকে চোগলখোরী ও গীবত সম্পর্কে বুঝা যায় এ দু'টি পরস্পর সম্পর্কিত। তাই একত্রিতভাবে ও বিচ্ছিন্নভাবে এ দুটির আলোচনা আসবে।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 চোগলখোরী এক বিরাট অপরাধ এর পরিণতি জাহান্নাম

📄 চোগলখোরী এক বিরাট অপরাধ এর পরিণতি জাহান্নাম


কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ চোগলখোরী সম্পর্কে বলেনঃ
هَمَّازٍ مَشَاء بِنَمِيمٍ * যারা লোকদের প্রতি বিদ্রুপ প্রদর্শন, চোগলখোরী করে বেড়ায়। -সূরা: কলম- ১১
ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ নামীমাহ বা চোগলখোরী সম্পর্কে বলেন:
بَابُ النَّمِيمَةُ مِنَ الْكَبَائِرِ * অনুচ্ছেদ : চোগলখোরী কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত। অতঃপর ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করেন :
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَعْضِ حَيْطَانِ الْمَدِينَةِ فَسَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذِّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا فَقَالَ يُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ كَبِيرٍ وَإِنَّهُ لَكَبِيرٌ كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ رواه البخاري *
ইবনু আব্বাস রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার কোন প্রাচীর বেষ্টিত বাগানে বের হলে সেখানে দুজন লোকের শব্দ শুনতে পেলেন। তাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তাদের এ শাস্তি বড় কোন কাজের জন্য নয়। তবে অপরাধের বিবেচনায় তা খুব মারাত্মক। দু'জনের একজন প্রস্রাব হতে পর্দা তথা সতর্ক থাকতো না এবং অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। -বুখারী ২য় খণ্ড ৮৯৪ পৃষ্ঠা
عَنْ هَمَّامٍ كُنَّا مَعَ حُذَيْفَةَ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ رَجُلًا يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى عُثْمَانَ فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةٌ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَاتُ *
হাম্মাম হতে বর্ণিত; আমরা হুযাইফাহ রযিআল্লাহু আনহু-এর সাথে ছিলাম, তাকে বলা হলো, এক ব্যক্তি জনগণের কথা উসমান রযিআল্লাহু আনহু-এর কানে পৌঁছায়। হুযাইফাহ রযিআল্লাহু আনহু বললেন : আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। চোগলখোর জান্নাতে যেতে পারবে না। -বুখারী ২য় খণ্ড ৮৯৫ পৃষ্ঠা
বুখারী ও মুসলিমের যৌথ বর্ণনায় রয়েছে:
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامُ متفق عليه
হুযাইফাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নাম্মাম বা চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। -বুখারী, মুসলিম
عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا الْعَضْهُ هِيَ النَّمِيمَةُ الْقَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ رواه مسلم
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদের অবহিত করবো না- আযহ কি? তা হচ্ছে চোগলখোরী অর্থাৎ মানুষের মাঝে মিথ্যা কথা ও অপবাদ ছড়ানো। -মুসলিম, রিয়াযুস সলিহীন ১৫৩৮ নং হাদীস।
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِشِرَارِكُمْ الْمَشَاءُونَ بِالنَّمِيمَةِ وَالْمُفْسِدُونَ بَيْنَ الْأَحِبَّةِ رواه أحمد আমি কি তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও দুষ্ট লোক সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবো না? তারা হলো, চোগলখোর এবং বন্ধুদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টিকারী লোক। -মুসনাদে আহমাদ
ان أبغضكم إلى الله المشاعون بالنميمة المفرقون بين الإخوان الملتمسون للبراء الغشرات رواه الطبراني
তোমাদের মধ্যকার সেই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক অভিশপ্ত যে চোগলখোরী করে বেড়ায়, ভাইদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং উত্তম লোকদের দোষ খুঁজে বেড়ায়। -তবারানী মু'জামুল ওয়াসীত ও সগীর
ইমাম বুখারী তার আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেনঃ
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخِيَارِكُمْ قَالُوا : بَلَى قَالَ : الَّذِينَ إِذَا رُقَوْا ذكر الله أَفَلَا أُخْبِرُكُمْ. بِشِرَارِكُمْ قَالُوا : بَلَى قَالَ : الْمَشَّاءُونَ بِالنَّمِيمَةِ الْمُفْسِدُونَ بَيْنَ الْأَحِبَّةِ الْبَاغُوْنَ لِلْبَرَاءِ الْعَنَتِ رواه البخارى فى أدب المفرد وحسنه الألباني
আসমা বিনতু ইয়াযীদ রযিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যকার উৎকৃষ্ট লোকদের সম্পর্কে অবহিত করবো না? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন: যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। তিনি আরো বললেন: আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যেকার নিকৃষ্ট লোকদের সম্পর্কে সংবাদ দিবো না? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন : যারা চোগলখোরী করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে এবং ভাল লোকদের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। -বুখারী আদাবুল মুফরাদ, আল্লামা আল-বানী হাদীসটি হাসান বলেছেন, সহীহ আদাবুল মুফরাদ হাদীস নং ২৪৬/৩২৩ পৃষ্ঠা ৯৭
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : النَّمِيمَةُ وَالشَّيْمَةُ وَالْحَمِيَّةُ فِي النَّارِ وفي لفظ : إِنَّ النَّمِيمَةَ وَالْحِقْدَ فِي النَّارِ لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ مُسْلِمِ رواه الطبراني *
ইবনু উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, চোগলখোরী গালিগালাজ ও আভিজাত্যের দম্ভ (যারা এসব কাজে লিপ্ত তারা) জাহান্নামে যাবে।
অপর বর্ণনায় আছে, চোগলখোরী ও হিংসা জাহান্নামের উপযোগী এবং এদুটো কোন মুসলিমের অন্তরে একত্রে অবস্থান করতে পারে না। -তবারানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৪৮০ নং হাদীস।
عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : «أَلَا إِنَّ الْكِذْبَ يُسَوَّدُ الْوَجْهَ، وَالنَّمِيمَةُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» *
আবূ বুরযাহ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, সাবধান! মিথ্যা কথা মানুষের মুখকে কালিমা লিপ্ত করে আর চোগলখোরী কবর আযাবের কারণ হয়ে যাবে। -আবূ ইয়ালা, তাবারানী, ইবনু হিব্বান, বাইহাকী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৪৮১।
উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোচনায় বুঝা গেল চোগলখোরী এক জঘণ্য অপরাধ এবং এর পরিণতি জাহান্নাম। বিধায় সকল মু'মিন' মুসলিমদেরকে এ অপরাধ হতে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 গীবত একটি মহাপাপ

📄 গীবত একটি মহাপাপ


আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মু'মিন বান্দাদেরকে কুধারণা পোষণ করা হতে, অপবাদ দেয়া হতে, গীবত করা হতে এবং অপর লোকদের অন্তরে অযথা ভয় সৃষ্টি করা হতে নিষেধ করেছেন। এ অপরাধগুলো যেহেতু মানুষ মুখ বা জিহ্বার মাধ্যমে করে থাকে তাই জিহ্বার এ অপ্রিয় কথা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظَلِمَ * الحاضنا আল্লাহ মন্দ কথা প্রকাশ করা ভালোবাসেন না। তবে কারো উপর যুলুম করা হয়ে থাকলে অন্য কথা। -সূরাঃ আন্-নিসা- ১৪৮
অপরদিকে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহ্বার হিফাযাতের উপর জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেনঃ
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ يَضْمَنَ لِي مَا بَيْنَ لِحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَن لَهُ الْجَنَّةَ *
সাহল বিন সা'দ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাকে তার জিহ্বা এবং লজ্জাস্থানের হিফাযাতের প্রতিশ্রুতি দিবে আমি তাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দান করবো। -বুখারী
ইমাম নাববী রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন :
إِعْلَمْ أَنَّهُ يَنْبَغِي لِكُلِّ مُكَلَّفٍ أَنْ يَحْفَظَ لِسَانَهُ عَنْ جَمِيعِ الْكَلَامِ إِلَّا كَلَاماً ظَهَرَتْ فِيْهِ الْمُصْلَحَةُ وَمَتَى اسْتَوَى الْكَلَامُ وَتَرْكُهُ فِي الْمُصْلَحَةِ فَالسُّنَّةُ الْإِمْسَالُ عَنْهُ لِأَنَّهُ قَدْ يَنْجَرُ الْكَلَامُ الْمُبَاحُ إِلى حَرَامِ أَوْ مَكْرُوهِ، وَذَلِكَ كَثِيرٌ فِي الْعَادَةِ وَالسَّلَامَةُ لَا يَعْدِلُهَا شَيْءٌ *
“প্রত্যেক সুস্থ বিবেকসম্পন্ন বয়ঃপ্রাপ্ত ব্যক্তির অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা কর্তব্য। তবে যে কথা বললে উপকার ও কল্যাণ হয় তা বলা কর্তব্য। যখন কথা বলা বা চুপ থাকা উভয়ই উপকার ও কল্যাণের দিক থেকে সমান হয় তখন সুন্নাত তরীকা হলো চুপ থাকা। কেননা কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদিত (মুবাহ্) কথাবার্তাও হারাম ও অপছন্দনীয় কিছু ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত এটাই ঘটে থাকে। নির্দোষ ও নিখুত অবস্থার সমকক্ষ আর কিছুই না।”-রিয়াযুস সালিহীন, ৪র্থ খণ্ড ২৭-২৮ পৃষ্ঠা।
গীবত এমন একটি পাপ। যে পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ না ঘটলে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। এ গীবতের মাধ্যমে যে পাপ হয় তার সাথে মৃত মানুষের গোস্ত খাওয়ার তুলনা করে আল্লাহ বলেন:
وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ *
আর একে অন্যের গীবত করো না, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে তার মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া পছন্দ করে? তোমরা নিজেরাই তো ওটার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে থাকো। -সূরাঃ হুজরাত- ১২
গীবত ও চোগলখোরী ঈমানকেও ধ্বংস করে দেয়। আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী এ ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তা হলো :
عَنْ عُثْمَانِ بْنِ عَفَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : الْغِيْبَةُ وَالَّنِمِيمَةُ يُحَتَانِ الْإِيْمَانَ كَمَا يَعْضِدُ الرَّاعِي الشَّجَرَةَ رواه الأصبهاني
উসমান বিন আফ্ফান রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, রাখাল যেভাবে গাছের পাতা পাড়ে ঠিক সেইভাবে গীবত ও চোগলখোরী ঈমানকে ধ্বংস করে। -আসবাহানী, আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব ৩য় খণ্ড ১৪৮৫ নং হাদীস।
মৃত্যু মানুষের গোস্ত খাওয়া যেরূপ নিন্দনীয় তার চাইতে গীবত করা হলো অপছন্দনীয় কাজ। যা সমুদ্রের সমস্ত পানিকেও নষ্ট করে দেয় এবং তা যিনার চাইতেও বড় অপরাধ। মহানাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গীবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উম্মাতে মুহাম্মাদীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন:
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ الْغِيْبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا ؟ قَالَ : الرَّجُلُ لَيَنْرِنِي فَيَتُوْبُ فَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ فَيَتُوبُ فيغفر الله وأن صاحب الغيبة لا يغفر له حتى يغفرها له صاحبه رواه البيهقي
আবূ সাঈদ ও জাবির রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তাঁরা উভয়ে বলেন : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : গীবত যিনার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! গীবত কিভাবে যিনার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কোন মানুষ যিনা করে তাওবাহ করে ফেলে, আর আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করে নেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সে তাওবাহ করে ফেলে আর আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যে পর্যন্ত না যার গীবত করা হয়েছে সে নিজে মাফ করে দেয়। -বাইহাকী।
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ الذَنْبِ أَعْظَمْ؟ قَالَ : أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ إِذَا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ أَنْ تَقْتُلُ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَأْكُلَ مَعَكَ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ : أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ متفق عليه
ইবনু মাসউদ রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, সবচেয়ে বড় পাপ কোন্টি? তিনি বললেন : আল্লাহর সাথে শির্ক করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, তারপর কোন্টি বড় পাপ? তিনি বললেন : তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে এ ভয়ে তুমি তাকে যদি হত্যা কর। আমি বললাম, তারপর কোন্টি বড় পাপ? তিনি বললেন : তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। -বুখারী, মুসলিম, তাওযীহুল আহকাম ৭ম খণ্ড ৩৩৫ পৃষ্ঠা।।

📘 চোগলখোর ও গীবতকারীর পরিনতি > 📄 চোগলখোরী কথা ও গীবতের বাক্যালাপ শ্রবণ নিষেধ

📄 চোগলখোরী কথা ও গীবতের বাক্যালাপ শ্রবণ নিষেধ


আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَإِذَا سَمِعُوا الَّلَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ * “কোন ব্যক্তি কাউকে গীবত করতে শুনলে তাকে বাধা দিবে।” -সূরা: আল-কাসাস- ৫৫।
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ * “(তারাই মু'মিন) যারা বেহুদা কাজ থেকে দূরে থাকে।” -সূরাঃ মু'মিনূন- ৩।
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادُ كُلَّ أُوْلَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلاً * “জেনে রাখ, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তঃকরণ সব কিছুর জন্যই জওয়াবদিহি করতে হবে।” -সূরাঃ বানী-ইসরাঈল- ৩৬
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثِ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ * “তুমি যখন দেখবে লোকেরা আমার আয়াতসমূহের দোষ-ত্রুটি খুঁজছে, তখন তাদের নিকট থেকে সরে যাও যতক্ষণ তারা এই প্রসঙ্গের কথাবার্তা বন্ধ করে অন্য কোন কথায় মগ্ন না হয়। শাইতন যদি কখনো তোমাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়, তবে যখনি তোমার এই ভুলের অনুভূতি হবে আর এই যালিমদের কাছে বসবে না।” -সূরাঃ আল-আন'আম-৬৮।
আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গীবত করতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন এবং গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। যা বুখারীর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে:
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّمِيمَةِ وَنَهَى الْغَيْبَةِ وَعَنِ الْاِسْتِماعِ الْغَيْبَةِ .
আব্দুল্লাহ বিন উমার রযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন ঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোগলখোরী করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি গীবত করতে ও গীবতের কথা শুনতেও নিষেধ করেছেন। -বুখারী
আল্লাহ সকল মু'মিন মুসলমানদেরকে গীবত চোগলখোরী করা হতে এবং গীবতের কথা শুনা হতে রক্ষা করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00