📄 ১.১৪: মুসলিম এবং অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যকার পার্থক্য
উভয়ের এই লড়াই যদিওবা একই প্রকৃতির: বুদ্ধিবৃত্তির; তবু মোটাদাগে কিছু পার্থক্য আছে উভয়ের লড়াইয়ের মধ্যে।
আমাদের চিন্তার লড়াই দীনি দাওয়াতেরই একটি অংশ।
আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সেই মহান লক্ষ্য থেকে ভিন্ন নয়, যার বাস্তবায়নের জন্য নবী-রাসুল প্রেরিত হয়েছিলেন। জাতিগত, গোত্রগত, ব্যক্তিগত কিংবা অঞ্চলগত কোনো উদ্দেশ্য আমাদের চিন্তায় হাজির নেই। বরং আমাদের উদ্দেশ্য তো সেটাই, যা রুস্তমের সামনে রিবয়ী ইবনে আমের উচ্চারণ করেছিলেন :
اللَّهُ ابْتَعَثَنَا لِنُخْرِجَ الْعِبَادَ مِنْ عِبَادَةِ الْعِبَادِ إِلَى عِبَادَةِ رَبِّ الْعِبَادِ وَمِنْ جَوْرِ الْأَدْيَانِ إِلَى عَدْلِ الْإِسْلَامِ، وَمِنْ ضَيْقِ الدُّنْيَا إِلَى سَعَتِهَا
আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, যেন আমরা তার বান্দাদের বান্দার গোলামি থেকে উদ্ধার করে বান্দার রবের গোলামির দিকে ফিরিয়ে দিই। এবং লোকদের যেন অলীক ধর্মের অবিচার থেকে উদ্ধার করে পৌঁছে দিই ইসলামের ন্যায়বিচারে। আর পৃথিবীর সংকীর্ণতা থেকে মানুষের মুক্তি ঘটিয়ে তাদের নিয়ে যেতে পারি পৃথিবীর প্রশস্ততার দিকে।
ইসলামি চিন্তাযুদ্ধের উদ্দেশ্য থাকে এই চিন্তাধারার বিস্তার ঘটানো যে, পৃথিবীর বস্তুনিচয়ের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তায়ালার। জীবন এবং জীবনযাপনের সবকিছু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে প্রদত্ত আমানত। এই জীবন ও তা যাপনের সকল মাধ্যম মানুষকে দেওয়া হয়েছে আল্লাহ তায়ালারই সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য। ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি মানুষ তার জীবন ও সম্পদ ব্যয় করবে আল্লাহ তায়ালার আরেক বান্দার কল্যাণে। পৃথিবীর শান্তি ও শৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখবার জন্য তার প্রতিটি পদক্ষেপ উত্থিত হবে 'আদ-দীন আন-নাসীহা' (কল্যাণকামিতাই হলো দীন) এই বিশ্বাস ও চিন্তাধারার আলোকে।
অপরদিকে অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই পরিচালিত হয় কেবল নিজেদের স্বার্থে। তাদের চিন্তা থাকে কেবল পৃথিবীর সম্পদ আয়ত্ত করা এবং সকল মানুষকে নিজেদের গোলামির শেকলে আবদ্ধ করা। এর বাইরে চিন্তাযুদ্ধের পেছনে তাদের ভিন্ন কোনো লক্ষ্য থাকে না।
মুখে তারা মানবতা, সহমর্মিতা, বিশ্বশান্তি এবং বৈশ্বিক কল্যাণের স্লোগান তোলে বটে; কিন্তু বাস্তবতা হলো—তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের উপর যদি গভীর দৃষ্টিপাত করা হয় তাহলে দেখা যাবে, পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ একটি নির্দিষ্ট জাতির কর্তৃত্বে আনার জন্যই তাদের সকল প্রচেষ্টা। আর এটাই হলো বৈধতা-অবৈধতার সীমা ভুলে গিয়ে তাদের তাবৎ নির্লজ্জ আচরণের রহস্য। তারা সম্পদ ও বিত্তের লোভ দেখিয়ে দুঃস্থ মানুষের সাথে ঈমানের সওদা করে। তারা শরাব এবং শাবাবকে ব্যাপক করে দিয়ে সমাজের ধ্বংসে মেতে ওঠে। ধোঁকা আর প্রতারণা ছাড়া চিন্তার লড়াইয়ে তাদের দ্বিতীয় কোনো অস্ত্র নেই। প্রয়োজনে তারা কাপুরুষের মতো রক্ত প্রবাহিত করতেও দ্বিধা করে না। এই হলো তাদের বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয়।
আরেকটু গভীরে গিয়ে যদি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে এই সত্য সামনে এসে দাঁড়াবে, তাদের তাবৎ চেষ্টাপ্রচেষ্টার লক্ষ্য কেবল কতিপয় জাতি কিংবা মুষ্টিমেয় সম্পদ কবজা করা নয়; বরং তারা সমস্ত পৃথিবীর উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার বাসনা লালন করে। যদিও অতীতে এমন হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবার নয়। অতীতে এদের চেয়ে বড় ও ক্ষমতাধর ফেরাউন 'আমিই তোমাদের সবচেয়ে বড় প্রভু' আওয়াজ তুলেছিল। কিন্তু শেষমেশ তার নসিবে জোটে 'সমুদ্রে নিমজ্জন'। আল্লাহ তায়ালা তাকে নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত করে রেখেছেন কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল অত্যাচারী ও কর্তৃত্বকামী মানুষের জন্য।
📄 গ্রন্থপঞ্জি
-আল-গাজউল ফিকরি, লাজনাতুল মানাহিজ, প্রথম অধ্যায় (দিরাসাত ফিস সাকাফাতিল ইসলামিয়্যাহ)।
-আল-গাজউল ফিকরি ওয়া ওয়াসায়িলুহু, শায়েখ আবদুল আজিজ বিন বাজ।
—আসালিবুল গাজবিল ফিকরি, ড. আলী মুহাম্মদ জারিশা ও উসতায মুহাম্মদ শরিফ জিবাক, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়্যা মদিনা মুনাওয়ারা।
-আল-গাজউল ফিকরি ফি মানাহিজিদ দিরাসাহ, উসতায আলী লাবান, দারুল ওয়াফা, ১৯৯২।
–ইখতারুল গাজবিল ফিকরি, ডক্টর সাবের তায়িমা, আলিমুল কুতুব।
—তাহসিনু মুজতামাইল মুসলিম জিদ্দাল গাজবিল ফিকরি, ডক্টর হামুদ বিন আহমাদ রাহিলী।
-আল-গাজউল ফিকরি, শায়েখ মামদুহ ফাখরি, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়্যা মদিনা মুনাওয়ারা।