📘 বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত 📄 ১.১১: বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই শাস্ত্রের তাৎপর্য

📄 ১.১১: বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই শাস্ত্রের তাৎপর্য


কোনো শাস্ত্রের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নির্ভর করে সমাজে তার প্রয়োজন অনুপাতে। একটি শাস্ত্র সমাজের জন্য যতটা কল্যাণ বয়ে আনার সম্ভাবনা রাখে, তার গুরুত্ব হয়ে থাকে ঠিক ততটা।

বর্তমান সময়টাতে সমগ্র বিশ্ব সম্মিলিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এই যুদ্ধ যেভাবে সামরিক ক্ষেত্রে সংঘটিত হচ্ছে, তদ্রূপ হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রেও। চিন্তার লড়াইয়েও মুসলমানদেরকে আজ প্রতিপক্ষের সম্মিলিত আঘাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মুসলমানদের তাই আবশ্যিক কর্তব্য-আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রের লড়াইয়ের পাশাপাশি চিন্তাযুদ্ধের জন্যও প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

নেতা, রাজনীতিক, আলেম, গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র, মসজিদের ইমাম, খতিবসহ প্রতিজন মুসলমানের কর্তব্য-ইসলামের শত্রুপক্ষের সকল প্রকার ধোঁকা ও অপকৌশল সম্বন্ধে পূর্ণ অবগতি অর্জন করা। আর অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের কৌশল জানার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্র অধ্যয়নের বিকল্প নেই।

এই শাস্ত্রটিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তার চর্চা ব্যাপক করা এখন সময়ের দাবি। কিন্তু বাস্তবতা দেখা যায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কিছু মানুষ মনে করেন, ইসলামের হৃত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য অস্ত্রের লড়াইটাই একমাত্র সমাধান। চিন্তাযুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই। নিঃসন্দেহে তাদের এই চিন্তার সংশোধন প্রয়োজন। সশস্ত্র জিহাদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কোনো মুসলমান সশস্ত্র সংগ্রামের প্রয়োজন অস্বীকার করতে পারে না। সশস্ত্র লড়াই ছাড়া ইসলামের পুনরুজ্জীবন এবং তার স্থায়ীকরণ কখনোই সম্ভব নয়। তবে সেই সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইও চালিয়ে যেতে হবে। সশস্ত্র সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোনোভাবেই চিন্তাযুদ্ধের আবশ্যকতাকে খাটো করা যাবে না। চিন্তাযুদ্ধের প্রয়োজন যদি অস্বীকার করা হয় তবে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে যে লক্ষ্য অর্জন উদ্দেশ্য-আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন সমুন্নত করা-বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্রের লড়াইয়ের মতোই সমান দরকারি চিন্তার লড়াই। অস্ত্র ও চিন্তার লড়াই দুটো যদি সমান তালে লড়ে যাওয়া না হয় এবং দুই যুদ্ধের মধ্যে যদি কোনো প্রকার সম্পর্ক না থাকে তাহলে অস্ত্র ও সৈন্যবলে বলীয়ান বিশাল বাহিনী সামান্য ক্ষুদ্র একটি বাহিনীর বিরুদ্ধেও জয় ছিনিয়ে আনতে সমর্থ হবে না। যদি-বা বিজয় লাভ করে; তবে তা হবে সাময়িকের জন্য। বিজিত জাতিগোষ্ঠীর হৃদয়-মন যদি জয় করা না যায় তবে পাশার দান উলটে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তে।

সামরিক সামর্থ্যের বিবেচনায় মুসলমানেরা এখন অমুসলিমদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। বলা যায়-শত্রুর সাথে শক্তির বিচারে তাদের অবস্থান অসম। এমতাবস্থায় চিন্তাযুদ্ধের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রয়াসে লিপ্ত হওয়া মুসলমানদের জন্য পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক জরুরি। সমরবিদেরা মনে করেন-যুদ্ধ এখন রণাঙ্গনে হয়ে থাকে বিশ ভাগ। আর যুদ্ধের আশি ভাগ সংঘটিত হয় মিডিয়াতে। এই যখন অবস্থা, তখন জমানার নাজুকতা, সময়ের প্রয়োজনীয়তা এবং নিজেদের আত্মরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই সম্পর্কে উদাসীন থাকা আমাদের জন্য কোনোভাবেই উচিত নয়।

বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্র-বিগত ৩০-৪০ বছর যাবৎ আরবের দেশগুলোতে স্বতন্ত্র শাস্ত্রের মর্যাদা লাভ করে আসছে। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বের সাথে এই শাস্ত্রের পাঠদান করা হয়। প্রফেসরগণ লেকচার তৈরি করেন, ক্লাসে সেমিনারে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোচনা করেন। এই বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীরা সেখানে পিএচডিও করে থাকেন। বহু রচনা এবং পিএচডি থিসিস তাদের গ্রন্থভান্ডারে যুক্ত হয়েছে বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়নি। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র শাস্ত্রের মর্যাদা দিয়ে সকল দীনি ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্রের পঠন-পাঠন শুরু করা অতীব জরুরি।

📘 বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত 📄 ১.১২: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্রের মধ্যকার পার্থক্য

📄 ১.১২: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্রের মধ্যকার পার্থক্য


কিছু মানুষ তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্র দুটিকে গুলিয়ে ফেলেন এবং উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যটা নির্ণয় করে উঠতে পারেন না। অথচ উভয়ের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। প্রাথমিক পর্যায়ে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে পৃথিবীর প্রচল বিভিন্ন ধর্মের পরিচয় তুলে ধরা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। ইসলাম, ইহুদি, ক্রিশ্চিয়ান, হিন্দু প্রভৃতি ধর্মের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মতাদর্শ এবং তাদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনা ও উপাসনার রীতি-প্রকৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই হয়ে থাকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের প্রাথমিক উদ্দেশ্য।

বিপরীতে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইশাস্ত্রে কোনো জাতির আকিদা বা বিশ্বাসগত আলোচনা মুখ্য নয়; বরং আলাপ-আলোচনা ও গবেষণা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্ধান করা হয়- আমাদের শত্রুপক্ষ কারা? কোন পথে তারা ইসলামের বিনাশ সাধনে ব্যাপৃত হয়েছে, ইসলামের মূল উপড়ে ফেলতে কোন কোন উপায় তারা অবলম্বন করেছে এবং তাদের চিন্তার গতিপ্রকৃতি কীরূপ—এসব নিয়েই আলোচনা করা হয় এই শাস্ত্রে।

📘 বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত 📄 ১.১৩: সামরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যকার পার্থক্য

📄 ১.১৩: সামরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যকার পার্থক্য


একাধিক বিবেচনায় সামরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। এই নির্ণীত পার্থক্যগুলোর দিকে তাকালে আমাদের কাছে এও স্পষ্ট হয়ে যাবে, কোন যুদ্ধের প্রভাব কত গভীর এবং কোনটির ক্ষতি কত সুদূরপ্রসারী।

সামরিক লড়াই : শত্রু হয়ে থাকে পরিচিত এবং প্রকাশ্য।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : শত্রুর কোনো পরিচয় জানা থাকে না। উপরন্তু তার আক্রমণ হয়ে থাকে গোপনে। মুখ লুকিয়ে।

সামরিক লড়াই: শত্রুর প্রস্তুতি এবং শক্তিমত্তার পরিমাণ অনুমান করে নেওয়া সম্ভব হয়।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : বিরোধীপক্ষের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ের তা জানার কোনো উপায় থাকে না। এবং তার আক্রমণের গতিবিধি সম্বন্ধেও জানা যায় না কিছু।

সামরিক লড়াই: রক্ষণাত্মক প্রস্তুতি নিতে বেগ পেতে হয় না।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : প্রতিরোধ করা কঠিনতর হয়ে দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ অনায়াসেই তাদের হামলার শিকার হয়ে পড়ে।

সামরিক লড়াই: প্রতিপক্ষের টার্গেটে নিশানা করা যায় সহজেই।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই: টার্গেট সাধারণত চোখের আড়ালেই থাকে।

সামরিক লড়াই : সাময়িক হয়ে থাকে। দুই চারদিন, খুব বেশি হলে মাস কিংবা বছর অতিক্রান্ত হবার পর তা ক্ষান্ত হয়ে আসে।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : শতকের পর শতক ধরে চলতে থাকে।

সামরিক লড়াই : আক্রমণ হয় মানুষের দেহ, ভবন, স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিতে। ফলে ক্ষতি হয় কেবল বস্তুগত।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : দেহ নয়; বরং আঘাতটা নেমে আসে চিন্তা-চেতনা এবং মন ও মননের উপর। ক্ষতিও হয়ে থাকে সামরিক লড়াইয়ের চেয়ে তীব্র ও গভীর। চিন্তা, আদর্শ এবং বিশ্বাসে দৈন্য দেখা দেয়। আর বস্তুগত ক্ষতি তো হয়ই।

সামরিক লড়াই: নগর-বন্দর-রাষ্ট্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বেদখল হয়ে পড়ে ভূমি।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : ব্যক্তির চিন্তা ও আদর্শ ছিনতাই হয়ে যায়।

সামরিক লড়াই: শরীর রক্তাক্ত হয়, দেহ হয় লাশ।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই: আক্রান্ত হয় রুহ ও আত্মা।

সামরিক লড়াই : শরীরের ক্ষত হয় দৃশ্যমান এবং তার প্রতিকারও সম্ভব হয়।
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই : কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের ক্ষতটা থাকে অদৃশ্য। এবং সেই ক্ষতের চিকিৎসার কোনো গরজ না আক্রান্তের অনুভূত হয়, না আর কারুর।

📘 বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইতিবৃত্ত 📄 ১.১৪: মুসলিম এবং অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যকার পার্থক্য

📄 ১.১৪: মুসলিম এবং অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মধ্যকার পার্থক্য


উভয়ের এই লড়াই যদিওবা একই প্রকৃতির: বুদ্ধিবৃত্তির; তবু মোটাদাগে কিছু পার্থক্য আছে উভয়ের লড়াইয়ের মধ্যে।

আমাদের চিন্তার লড়াই দীনি দাওয়াতেরই একটি অংশ।
আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সেই মহান লক্ষ্য থেকে ভিন্ন নয়, যার বাস্তবায়নের জন্য নবী-রাসুল প্রেরিত হয়েছিলেন। জাতিগত, গোত্রগত, ব্যক্তিগত কিংবা অঞ্চলগত কোনো উদ্দেশ্য আমাদের চিন্তায় হাজির নেই। বরং আমাদের উদ্দেশ্য তো সেটাই, যা রুস্তমের সামনে রিবয়ী ইবনে আমের উচ্চারণ করেছিলেন :

اللَّهُ ابْتَعَثَنَا لِنُخْرِجَ الْعِبَادَ مِنْ عِبَادَةِ الْعِبَادِ إِلَى عِبَادَةِ رَبِّ الْعِبَادِ وَمِنْ جَوْرِ الْأَدْيَانِ إِلَى عَدْلِ الْإِسْلَامِ، وَمِنْ ضَيْقِ الدُّنْيَا إِلَى سَعَتِهَا

আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, যেন আমরা তার বান্দাদের বান্দার গোলামি থেকে উদ্ধার করে বান্দার রবের গোলামির দিকে ফিরিয়ে দিই। এবং লোকদের যেন অলীক ধর্মের অবিচার থেকে উদ্ধার করে পৌঁছে দিই ইসলামের ন্যায়বিচারে। আর পৃথিবীর সংকীর্ণতা থেকে মানুষের মুক্তি ঘটিয়ে তাদের নিয়ে যেতে পারি পৃথিবীর প্রশস্ততার দিকে।

ইসলামি চিন্তাযুদ্ধের উদ্দেশ্য থাকে এই চিন্তাধারার বিস্তার ঘটানো যে, পৃথিবীর বস্তুনিচয়ের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তায়ালার। জীবন এবং জীবনযাপনের সবকিছু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে প্রদত্ত আমানত। এই জীবন ও তা যাপনের সকল মাধ্যম মানুষকে দেওয়া হয়েছে আল্লাহ তায়ালারই সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য। ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি মানুষ তার জীবন ও সম্পদ ব্যয় করবে আল্লাহ তায়ালার আরেক বান্দার কল্যাণে। পৃথিবীর শান্তি ও শৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখবার জন্য তার প্রতিটি পদক্ষেপ উত্থিত হবে 'আদ-দীন আন-নাসীহা' (কল্যাণকামিতাই হলো দীন) এই বিশ্বাস ও চিন্তাধারার আলোকে।

অপরদিকে অমুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই পরিচালিত হয় কেবল নিজেদের স্বার্থে। তাদের চিন্তা থাকে কেবল পৃথিবীর সম্পদ আয়ত্ত করা এবং সকল মানুষকে নিজেদের গোলামির শেকলে আবদ্ধ করা। এর বাইরে চিন্তাযুদ্ধের পেছনে তাদের ভিন্ন কোনো লক্ষ্য থাকে না।

মুখে তারা মানবতা, সহমর্মিতা, বিশ্বশান্তি এবং বৈশ্বিক কল্যাণের স্লোগান তোলে বটে; কিন্তু বাস্তবতা হলো—তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের উপর যদি গভীর দৃষ্টিপাত করা হয় তাহলে দেখা যাবে, পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ একটি নির্দিষ্ট জাতির কর্তৃত্বে আনার জন্যই তাদের সকল প্রচেষ্টা। আর এটাই হলো বৈধতা-অবৈধতার সীমা ভুলে গিয়ে তাদের তাবৎ নির্লজ্জ আচরণের রহস্য। তারা সম্পদ ও বিত্তের লোভ দেখিয়ে দুঃস্থ মানুষের সাথে ঈমানের সওদা করে। তারা শরাব এবং শাবাবকে ব্যাপক করে দিয়ে সমাজের ধ্বংসে মেতে ওঠে। ধোঁকা আর প্রতারণা ছাড়া চিন্তার লড়াইয়ে তাদের দ্বিতীয় কোনো অস্ত্র নেই। প্রয়োজনে তারা কাপুরুষের মতো রক্ত প্রবাহিত করতেও দ্বিধা করে না। এই হলো তাদের বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয়।

আরেকটু গভীরে গিয়ে যদি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে এই সত্য সামনে এসে দাঁড়াবে, তাদের তাবৎ চেষ্টাপ্রচেষ্টার লক্ষ্য কেবল কতিপয় জাতি কিংবা মুষ্টিমেয় সম্পদ কবজা করা নয়; বরং তারা সমস্ত পৃথিবীর উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার বাসনা লালন করে। যদিও অতীতে এমন হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবার নয়। অতীতে এদের চেয়ে বড় ও ক্ষমতাধর ফেরাউন 'আমিই তোমাদের সবচেয়ে বড় প্রভু' আওয়াজ তুলেছিল। কিন্তু শেষমেশ তার নসিবে জোটে 'সমুদ্রে নিমজ্জন'। আল্লাহ তায়ালা তাকে নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত করে রেখেছেন কেয়ামত পর্যন্ত আগত সকল অত্যাচারী ও কর্তৃত্বকামী মানুষের জন্য।

ফন্ট সাইজ
15px
17px