📄 অবচেতন মন
বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনকে সৃজনশীলতা, অনুপ্রেরণা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের উৎস মনে করেন। সচেতন মন মাত্র ১০% কাজ করে (পরিকল্পনা, বিশ্লেষণ, স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি), অন্যদিকে অবচেতন মন ৯০% নিয়ন্ত্রণ করে (আবেগ, বিশ্বাস, অভ্যাস, দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি)।
অবচেতন মনের শক্তি:
সচেতনভাবে কোনো ভালো পরিকল্পনা বা সৎ চিন্তা করলে তা অবচেতন মনে বসে যায়। অবচেতন মন পরে মানুষকে সেই সাফল্যের দিকে পরিচালনা করে। আমাদের অধিকাংশ ব্যবহার ও সিদ্ধান্ত অবচেতন মনের ওপরই নির্ভরশীল। তাই অবচেতন মনকে সবসময় সৎ চিন্তা ও ভালো পরিকল্পনা দিয়ে সাজানো উচিত।
📄 ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। একটি জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টিকারী প্রধান মানসিক সমস্যাগুলো হলো: মানসিক চাপ (৩০%), দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ (২২%), ঘুমের অসুবিধা (২০%) এবং বিষন্নতা (১৪%)।
শিক্ষকদের করণীয়:
শিক্ষক হবে বন্ধুসুলভ এবং স্বপ্নদ্রষ্টা। ক্লাসে শিক্ষক আনন্দময় পরিবেশে পড়াবেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলবেন। শিক্ষার্থীর আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে একান্তে কথা বলে তাকে সহযোগিতা করবেন।
অভিভাবকদের করণীয়:
পড়ার চাপ সামলাতে সন্তানকে সহযোগিতা করতে হবে। ঘরে তাদের ওপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন না করে সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানের মতামত গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন মানতে অভ্যস্ত করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করণীয়:
খেলার মাঠ ও সহশিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত ট্রেনিং দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্যাতনমুক্ত সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
টিকাঃ
১. Eisenberg, D., Downs, M., & Golberstein, S. (2009). Stigma and help-seeking for mental health among college students. Medical Care Research and Review, 66(5), 522-541.
২. American College Health Association. (2015). National College Health Assessment II: Spring 2015 reference group executive summary. Hanover, MD: Author