📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 স্বপ্ন তৈরি, উদ্দীপনা (Motivation)

📄 স্বপ্ন তৈরি, উদ্দীপনা (Motivation)


আগের দিনে অভিভাবকরা পড়াশোনার ব্যাপারে খুব একটা চাপ দিতেন না, কিন্তু শিক্ষকরা স্বপ্ন দেখাতে পারতেন। বর্তমান সময়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ওপর পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ দেন, কিন্তু পড়ার মনস্তাত্ত্বিক রাস্তা বা স্বপ্নটা দেখিয়ে দেন না।

পড়ার জন্য তৈরি করতে হবে মন ও আগ্রহ। উদ্দীপনা তৈরির সঠিক প্রক্রিয়া হলো:
আবেগ (Emotion) → উদ্দীপনা (Motivation) → সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision Making) → আচরণ (Behavior)।
স্বপ্ন বা মোটিভেশন না থাকলে পড়াশোনা কেবল একটি যান্ত্রিক চাপে পরিণত হয়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 অভিজ্ঞতা

📄 অভিজ্ঞতা


অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়—এক কৃষক তার অভিজ্ঞতায় দেখলেন যে তার জমিতে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়। একজন তাত্ত্বিক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এর সপক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক জার্নালের রেফারেন্স আছে কি না। কৃষক তা দিতে পারলেন না, কিন্তু ফলন ঠিকই ভালো হলো।

পড়াশোনার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রফেসর যখন তার দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি বই লেখেন, তখন তা হয় 'টেক্সট বুক'। কিন্তু কেউ যখন শুধু তাত্ত্বিক তথ্যের জোড়াতালি দিয়ে বই লেখেন, তখন তা হয় 'গাইড বই'।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 অবচেতন মন

📄 অবচেতন মন


বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনকে সৃজনশীলতা, অনুপ্রেরণা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের উৎস মনে করেন। সচেতন মন মাত্র ১০% কাজ করে (পরিকল্পনা, বিশ্লেষণ, স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি), অন্যদিকে অবচেতন মন ৯০% নিয়ন্ত্রণ করে (আবেগ, বিশ্বাস, অভ্যাস, দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি)।

অবচেতন মনের শক্তি:
সচেতনভাবে কোনো ভালো পরিকল্পনা বা সৎ চিন্তা করলে তা অবচেতন মনে বসে যায়। অবচেতন মন পরে মানুষকে সেই সাফল্যের দিকে পরিচালনা করে। আমাদের অধিকাংশ ব্যবহার ও সিদ্ধান্ত অবচেতন মনের ওপরই নির্ভরশীল। তাই অবচেতন মনকে সবসময় সৎ চিন্তা ও ভালো পরিকল্পনা দিয়ে সাজানো উচিত।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য

📄 ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য


মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। একটি জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সে বাধা সৃষ্টিকারী প্রধান মানসিক সমস্যাগুলো হলো: মানসিক চাপ (৩০%), দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ (২২%), ঘুমের অসুবিধা (২০%) এবং বিষন্নতা (১৪%)।

শিক্ষকদের করণীয়:
শিক্ষক হবে বন্ধুসুলভ এবং স্বপ্নদ্রষ্টা। ক্লাসে শিক্ষক আনন্দময় পরিবেশে পড়াবেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলবেন। শিক্ষার্থীর আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে একান্তে কথা বলে তাকে সহযোগিতা করবেন।

অভিভাবকদের করণীয়:
পড়ার চাপ সামলাতে সন্তানকে সহযোগিতা করতে হবে। ঘরে তাদের ওপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন না করে সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানের মতামত গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন মানতে অভ্যস্ত করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করণীয়:
খেলার মাঠ ও সহশিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত ট্রেনিং দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্যাতনমুক্ত সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

টিকাঃ
১. Eisenberg, D., Downs, M., & Golberstein, S. (2009). Stigma and help-seeking for mental health among college students. Medical Care Research and Review, 66(5), 522-541.
২. American College Health Association. (2015). National College Health Assessment II: Spring 2015 reference group executive summary. Hanover, MD: Author

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00