📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 বিবেক

📄 বিবেক


ফ্রয়েডের মতে মানুষ তিন ধরনের: ইড (নিম্ন মানসিকতা), ইগো (মাঝারি মানসিকতা) এবং সুপার ইগো বা বিবেক (উন্নত মানসিকতা)।

বিবেক ও ব্রেন:
বিবেক ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল করটেক্সে (Prefrontal Cortex) থাকে এবং আবেগ থাকে লিম্বিক সিস্টেমে। শিক্ষা মানুষকে পরিশোধিত করে এবং বিবেকের জায়গাটি শক্তিশালী করে। বিবেকবান মানুষ সাধারণত মেধাবী হয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধবোধ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা বেশি থাকে।

আবেগ বনাম বিবেক:
আবেগ ইঞ্জিনের মতো যা শক্তি দেয়, আর বিবেক ড্রাইভারের মতো যা নিয়ন্ত্রণ করে। আবেগ যুক্তি মানে না, কিন্তু বিবেক যুক্তি মেনে কাজ করে। জন্তু-জানোয়ারের বিবেক নেই, তাই বিবেকহীন মানুষকে জানোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়।

প্রতারক ও বিবেকের অভাব:
যে মানুষের লজ্জা বা অপরাধবোধ নেই, সে ভয়ঙ্কর প্রতারক হতে পারে। এদের সাইকোলজির ভাষায় 'সোসিওপ্যাথ' (Sociopath) বলা হয়, যারা কোনো অন্যায় করার পর অনুতপ্ত হয় না। বিবেকের শক্তি বাড়াতে জিকির এবং সৎ কাজ সহায়ক, অন্যদিকে পাপ কাজ আবেগকে শক্তিশালী করে বিবেককে দুর্বল করে দেয়। একে 'অ্যামায়গডালা হাইজ্যাক' বলা হয়, যেখানে আবেগ বিবেককে ছাপিয়ে যায়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আবেগের এমায়গডালা

📄 আবেগের এমায়গডালা


ব্রেনে আবেগের অন্যতম কেন্দ্র হলো এমায়গডালা। ভয়, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ, আগ্রাসন, রাগ, ভালোবাসা, ঘৃণা ইত্যাদি আবেগের ব্যাপারগুলো এমায়গডালাতে ঘটে।

লিঙ্গভেদ ও এমায়গডালা:
মেয়েদের এমায়গডালা বেশি সক্রিয়। এজন্য তারা ভয় পায় বেশি, এমনকি একটা তেলাপোকাকেও তারা ডরায়। অন্যদিকে, বিষন্নতা বা দুশ্চিন্তার সময় এমায়গডালাকে বেশি কাজ করতে হয় বলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং রাগ বাড়ে। যাদের এমায়গডালা বেশি সক্রিয়, তারা মানুষের মুখাবয়ব এবং মুখে ভেসে ওঠা আবেগ (ভালোবাসা, ঘৃণা, রাগ ইত্যাদি) খুব ভালো বুঝতে পারে।

বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ:
এমায়গডালা শৈশব থেকেই উন্নত থাকে, তাই শিশুরা সহজেই হাসি-কান্নার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে। কিন্তু শিশুদের প্রিফ্রন্টাল করটেক্স বা বিবেক তখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না বলে তারা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, কেউ পা পিছলে পড়ে গেলে শিশুরা হাসবে, কারণ তারা বিবেক দিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারে না।

এমায়গডালা হাইজ্যাক:
মানুষ যখন প্রচণ্ড রেগে যায়, তখন তথ্যটি বিবেকের কাছে পৌঁছানোর আগেই এমায়গডালা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় 'Amygdala Hijack' বলা হয়। এ অবস্থায় মানুষ বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে বড় ধরনের অপরাধ করে ফেলতে পারে। ঝগড়া বা উত্তেজনার সময় কোরআন তিলাওয়াত শুনলে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয় যা প্রিফ্রন্টাল করটেক্সকে সক্রিয় করে তোলে এবং দ্রুত ঝগড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 জীবনের বিভিন্ন মাত্রা

📄 জীবনের বিভিন্ন মাত্রা


অধিকাংশ মানুষ মনে করে শুধু পড়াশোনা শিখলেই নিজেকে উন্নত করা যায়, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। নিজেকে এবং সন্তানকে উন্নত করার জন্য প্রধানত সাতটি দিকে নজর দিতে হয়:

১. লেখাপড়া বা বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন।
২. মোটা কাজ (শারীরিক পরিশ্রম) করতে শেখা।
৩. সূক্ষ্ম বা কারিগরি কাজ করতে শেখা।
৪. যেকোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে শেখা।
৫. সামাজিক আচরণ, আবেগ প্রকাশ এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা।
৬. নিজের ভাব বা মতামত প্রকাশ করতে শেখা।
৭. মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে শেখা।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 এডাল্ট লাইফের প্রাথমিক সমস্যা

📄 এডাল্ট লাইফের প্রাথমিক সমস্যা


২০ থেকে ৩০ বছর বয়সটা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সে ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা এবং নতুন সংসার শুরু করার মতো ঘটনা ঘটে। তবে এ বয়সে আবেগ বেশি থাকায় মানসিক সমস্যাও বেশি দেখা দেয়।

মানসিক সুস্থতার উপায়:
১. ধর্মীয় কাজ: নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির ব্রেনকে ঠান্ডা রাখে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ায়।
২. যৌক্তিক চিন্তা (Rational Thinking): নেতিবাচক ভাবনা পরিহার করে যৌক্তিক ও ইতিবাচক চিন্তা করা। যেমন—কেউ সালামের উত্তর না দিলে তা ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং মনে করা যে তিনি হয়তো ব্যস্ত বা দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
৩. সমস্যা শেয়ার করা: মানসিক সমস্যাগুলো বন্ধু বা অভিজ্ঞ সিনিয়র কারও কাছে বললে কাউন্সেলিং পাওয়া যায় এবং মনের কষ্ট কমে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00