📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 মানসিক শক্তি

📄 মানসিক শক্তি


মেধা (Intelligence) এবং মানসিক শক্তি (Mental energy) এক জিনিস নয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রাইভেট কারের গতি বেশি কিন্তু ট্রাকের শক্তি বেশি। প্রাইভেট কারের ড্রাইভার মেধাবী হতে পারেন, কিন্তু ট্রাক চালকের মতো লং ড্রাইভ করার মানসিক শক্তি বা সাহস তার না-ও থাকতে পারে।

সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি মানসিক শক্তি প্রয়োজন। মেধাবী মানুষেরা অনেক সময় অপরাধবোধ বা বিষন্নতায় ভুগে মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে (Mental energy drainage)। অন্যদিকে কম মেধাবী মানুষরা অনেক সময় মানসিকভাবে বেশি শক্ত থাকে।

মানসিক শক্তি বাড়ানোর উপায়:
১. কোরআন বা ধর্মীয় বই পড়া ও জিকির করা।
২. যৌক্তিক চিন্তা করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে শক্তি অপচয় না করা।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সূর্যের আলোতে থাকা।
নামাজ পড়ার জন্যও প্রচুর মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। যাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নামাজ পড়তে কষ্ট হয়, তারা কোরআন তিলাওয়াত শুনলে মানসিক শক্তি ফিরে পেতে পারেন।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 বিবেক

📄 বিবেক


ফ্রয়েডের মতে মানুষ তিন ধরনের: ইড (নিম্ন মানসিকতা), ইগো (মাঝারি মানসিকতা) এবং সুপার ইগো বা বিবেক (উন্নত মানসিকতা)।

বিবেক ও ব্রেন:
বিবেক ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল করটেক্সে (Prefrontal Cortex) থাকে এবং আবেগ থাকে লিম্বিক সিস্টেমে। শিক্ষা মানুষকে পরিশোধিত করে এবং বিবেকের জায়গাটি শক্তিশালী করে। বিবেকবান মানুষ সাধারণত মেধাবী হয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধবোধ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা বেশি থাকে।

আবেগ বনাম বিবেক:
আবেগ ইঞ্জিনের মতো যা শক্তি দেয়, আর বিবেক ড্রাইভারের মতো যা নিয়ন্ত্রণ করে। আবেগ যুক্তি মানে না, কিন্তু বিবেক যুক্তি মেনে কাজ করে। জন্তু-জানোয়ারের বিবেক নেই, তাই বিবেকহীন মানুষকে জানোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়।

প্রতারক ও বিবেকের অভাব:
যে মানুষের লজ্জা বা অপরাধবোধ নেই, সে ভয়ঙ্কর প্রতারক হতে পারে। এদের সাইকোলজির ভাষায় 'সোসিওপ্যাথ' (Sociopath) বলা হয়, যারা কোনো অন্যায় করার পর অনুতপ্ত হয় না। বিবেকের শক্তি বাড়াতে জিকির এবং সৎ কাজ সহায়ক, অন্যদিকে পাপ কাজ আবেগকে শক্তিশালী করে বিবেককে দুর্বল করে দেয়। একে 'অ্যামায়গডালা হাইজ্যাক' বলা হয়, যেখানে আবেগ বিবেককে ছাপিয়ে যায়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আবেগের এমায়গডালা

📄 আবেগের এমায়গডালা


ব্রেনে আবেগের অন্যতম কেন্দ্র হলো এমায়গডালা। ভয়, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ, আগ্রাসন, রাগ, ভালোবাসা, ঘৃণা ইত্যাদি আবেগের ব্যাপারগুলো এমায়গডালাতে ঘটে।

লিঙ্গভেদ ও এমায়গডালা:
মেয়েদের এমায়গডালা বেশি সক্রিয়। এজন্য তারা ভয় পায় বেশি, এমনকি একটা তেলাপোকাকেও তারা ডরায়। অন্যদিকে, বিষন্নতা বা দুশ্চিন্তার সময় এমায়গডালাকে বেশি কাজ করতে হয় বলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং রাগ বাড়ে। যাদের এমায়গডালা বেশি সক্রিয়, তারা মানুষের মুখাবয়ব এবং মুখে ভেসে ওঠা আবেগ (ভালোবাসা, ঘৃণা, রাগ ইত্যাদি) খুব ভালো বুঝতে পারে।

বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ:
এমায়গডালা শৈশব থেকেই উন্নত থাকে, তাই শিশুরা সহজেই হাসি-কান্নার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে। কিন্তু শিশুদের প্রিফ্রন্টাল করটেক্স বা বিবেক তখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না বলে তারা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, কেউ পা পিছলে পড়ে গেলে শিশুরা হাসবে, কারণ তারা বিবেক দিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারে না।

এমায়গডালা হাইজ্যাক:
মানুষ যখন প্রচণ্ড রেগে যায়, তখন তথ্যটি বিবেকের কাছে পৌঁছানোর আগেই এমায়গডালা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় 'Amygdala Hijack' বলা হয়। এ অবস্থায় মানুষ বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে বড় ধরনের অপরাধ করে ফেলতে পারে। ঝগড়া বা উত্তেজনার সময় কোরআন তিলাওয়াত শুনলে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয় যা প্রিফ্রন্টাল করটেক্সকে সক্রিয় করে তোলে এবং দ্রুত ঝগড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 জীবনের বিভিন্ন মাত্রা

📄 জীবনের বিভিন্ন মাত্রা


অধিকাংশ মানুষ মনে করে শুধু পড়াশোনা শিখলেই নিজেকে উন্নত করা যায়, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। নিজেকে এবং সন্তানকে উন্নত করার জন্য প্রধানত সাতটি দিকে নজর দিতে হয়:

১. লেখাপড়া বা বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন।
২. মোটা কাজ (শারীরিক পরিশ্রম) করতে শেখা।
৩. সূক্ষ্ম বা কারিগরি কাজ করতে শেখা।
৪. যেকোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে শেখা।
৫. সামাজিক আচরণ, আবেগ প্রকাশ এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা।
৬. নিজের ভাব বা মতামত প্রকাশ করতে শেখা।
৭. মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে শেখা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00