📄 ভাল অভ্যাস তৈরি
মানুষের অভ্যাস তৈরি হয় ব্রেনের ব্যাসাল গ্যাংগ্লিয়া (Basal ganglia) অংশে। একটি অভ্যাস তৈরির তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে:
১. কাজ শুরুর উপলক্ষ (Cue): যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠলে ব্রাশ করা।
২. পুনরাবৃত্তি (Repetition): বারবার কাজটা করার মাধ্যমে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।
৩. পুরস্কার (Reward): কাজটা করার পর মানসিক শান্তি বা আনন্দ পাওয়া।
গবেষণা অনুযায়ী, একটি নতুন অভ্যাস তৈরি করতে গড়ে ৬৬ দিন (১৮ থেকে ২৫৪ দিন) সময় লাগে। কেউ যদি টানা ৬৬ দিন কোনো কাজ (যেমন দৈনিক ৫ ঘণ্টা পড়াশোনা) কষ্ট করে চালিয়ে যায়, তবে তা পরবর্তীতে তার স্বয়ংক্রিয় অভ্যাসে পরিণত হবে এবং তখন তা আর কষ্টসাধ্য মনে হবে না।
📄 জীবনের ছায়া
মানুষ দুটি ছায়া থেকে মানসিক শক্তি সংগ্রহ করে জীবনে এগিয়ে যায়:
১. কালো ছায়া (Black Shadow): মনোবিজ্ঞানী কার্ল জাং-এর মতে, জীবনে পাওয়া আঘাত বা ব্যর্থতা মনের গহীনে কালো ছায়া হয়ে থাকে। মানুষ এই আঘাত থেকে শক্তি সঞ্চয় করে বড় হওয়ার পথে এগিয়ে যায়। অনেক বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক বা সফল ব্যক্তির জীবনের পেছনে দারিদ্র্য বা বড় কোনো আঘাতের গল্প থাকে। যেমন কবি হেলাল হাফিজ বা পাবলো নেরুদার কবিতায় কষ্টের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয়ের কথা বলা হয়েছে। কষ্টের মধ্যে সবর বা ধৈর্য ধরলে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
২. সোনালী ছায়া (Golden Shadow): কোনো সফল বা আদর্শ ব্যক্তিকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে তাকে অনুসরণ করা। মানুষের মধ্যে যে ধরনের সৃজনশীল সম্ভাবনা থাকে, সে সাধারণত সেই ধরনের গুণী মানুষকে শ্রদ্ধা করে বা অনুকরণ করতে চায়। 'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ'—যোগাযোগের মাধ্যমে একজনের মানসিক গুণাগুণ অন্যজনের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।
📄 মানসিক শক্তি
মেধা (Intelligence) এবং মানসিক শক্তি (Mental energy) এক জিনিস নয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রাইভেট কারের গতি বেশি কিন্তু ট্রাকের শক্তি বেশি। প্রাইভেট কারের ড্রাইভার মেধাবী হতে পারেন, কিন্তু ট্রাক চালকের মতো লং ড্রাইভ করার মানসিক শক্তি বা সাহস তার না-ও থাকতে পারে।
সফলতার জন্য মেধার পাশাপাশি মানসিক শক্তি প্রয়োজন। মেধাবী মানুষেরা অনেক সময় অপরাধবোধ বা বিষন্নতায় ভুগে মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে (Mental energy drainage)। অন্যদিকে কম মেধাবী মানুষরা অনেক সময় মানসিকভাবে বেশি শক্ত থাকে।
মানসিক শক্তি বাড়ানোর উপায়:
১. কোরআন বা ধর্মীয় বই পড়া ও জিকির করা।
২. যৌক্তিক চিন্তা করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে শক্তি অপচয় না করা।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সূর্যের আলোতে থাকা।
নামাজ পড়ার জন্যও প্রচুর মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। যাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নামাজ পড়তে কষ্ট হয়, তারা কোরআন তিলাওয়াত শুনলে মানসিক শক্তি ফিরে পেতে পারেন।
📄 বিবেক
ফ্রয়েডের মতে মানুষ তিন ধরনের: ইড (নিম্ন মানসিকতা), ইগো (মাঝারি মানসিকতা) এবং সুপার ইগো বা বিবেক (উন্নত মানসিকতা)।
বিবেক ও ব্রেন:
বিবেক ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল করটেক্সে (Prefrontal Cortex) থাকে এবং আবেগ থাকে লিম্বিক সিস্টেমে। শিক্ষা মানুষকে পরিশোধিত করে এবং বিবেকের জায়গাটি শক্তিশালী করে। বিবেকবান মানুষ সাধারণত মেধাবী হয় এবং তাদের মধ্যে অপরাধবোধ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা বেশি থাকে।
আবেগ বনাম বিবেক:
আবেগ ইঞ্জিনের মতো যা শক্তি দেয়, আর বিবেক ড্রাইভারের মতো যা নিয়ন্ত্রণ করে। আবেগ যুক্তি মানে না, কিন্তু বিবেক যুক্তি মেনে কাজ করে। জন্তু-জানোয়ারের বিবেক নেই, তাই বিবেকহীন মানুষকে জানোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়।
প্রতারক ও বিবেকের অভাব:
যে মানুষের লজ্জা বা অপরাধবোধ নেই, সে ভয়ঙ্কর প্রতারক হতে পারে। এদের সাইকোলজির ভাষায় 'সোসিওপ্যাথ' (Sociopath) বলা হয়, যারা কোনো অন্যায় করার পর অনুতপ্ত হয় না। বিবেকের শক্তি বাড়াতে জিকির এবং সৎ কাজ সহায়ক, অন্যদিকে পাপ কাজ আবেগকে শক্তিশালী করে বিবেককে দুর্বল করে দেয়। একে 'অ্যামায়গডালা হাইজ্যাক' বলা হয়, যেখানে আবেগ বিবেককে ছাপিয়ে যায়।