📄 স্মরণ শক্তি
স্মরণ শক্তি মূলত ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশের ওপর নির্ভর করে। এটি ডিক্লারেটিভ মেমোরি (Declarative memory) অর্থাৎ তথ্য ও ঘটনা মনে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে দক্ষতা অর্জনের স্মৃতি (Procedural memory) যেমন সাইকেল চালানো, তা নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাসাল গ্যাংগ্লিয়া (Basal ganglia)।
স্মরণ শক্তি বাড়ানোর উপায়:
১. থিটা তরঙ্গ: ব্রেনে থিটা তরঙ্গ থাকলে শেখার ক্ষমতা ৩ গুণ বেড়ে যায়। ৩০ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত শুনলে বা গ্রিন টি খেলে ব্রেনে থিটা তরঙ্গ তৈরি হয় যা হিপ্পোক্যাম্পাসকে সক্রিয় করে।
২. আলফা তরঙ্গ: তথ্য বা সংখ্যা মনে করার সময় চোখ বন্ধ করলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়, যা স্মৃতি থেকে তথ্য উদ্ধার (Retrieval) সহজ করে।
৩. খাবার: তরকারিতে হলুদের সঙ্গে গোল মরিচ খাওয়ার অভ্যাস বৃদ্ধ বয়সে স্মৃতিভ্রংশ রোগ (Alzheimer's Disease) প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন বি-৬ এর অভাব স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়, তাই শাকসবজি ও মাছ খাওয়া জরুরি।
৪. পরিবেশ: উন্নত পরিবেশ যেখানে খেলাধুলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপকরণ আছে, সেখানে মনে রাখার ক্ষমতা ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
📄 চিন্তা গোছায় ব্রেন
জীবনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো ডায়েরিতে লেখার অভ্যাস করা উচিত। এতে পরিকল্পনাগুলো অবচেতন মনে বসে যায় এবং মন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। নামাজ ও কোরআন পাঠ ব্রেনকে শান্ত রাখে এবং নতুন নতুন সৃজনশীল চিন্তার জন্ম দেয়।
অবচেতন মনের ভূমিকা:
ব্রেন ঘুমন্ত অবস্থায়ও জাগ্রত সময়ের মানসিক কাজগুলোকে সাজিয়ে নেয়। তাই যারা ব্রেনের কাজ করেন, তাদের রাতের খাবার ভালো হওয়া প্রয়োজন। কোনো সমস্যা কাগজে লিখলে তা চেতন মন থেকে অবচেতন মনে চলে যায় এবং ঘুমের মধ্যেও ব্রেন সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে থাকে।
মানসিক শক্তি ও ধৈর্য:
'ধৈর্য তিক্ত কিন্তু এর ফল মধুর।' গভীর মনোযোগে পড়লে ব্রেনে সেরোটোনিন নিঃসরণ হয়, যা মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং হতাশা দূর করে। ব্রেন যত বেশি চর্চা করা হয়, নিউরনের ডেনড্রাইটের সংখ্যা তত বাড়ে এবং ব্রেনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একে বলা হয় Plasticity of brain neurons। বেশি পড়াশোনা করলে বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বও উন্নত হয়।
📄 ভাল অভ্যাস তৈরি
মানুষের অভ্যাস তৈরি হয় ব্রেনের ব্যাসাল গ্যাংগ্লিয়া (Basal ganglia) অংশে। একটি অভ্যাস তৈরির তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে:
১. কাজ শুরুর উপলক্ষ (Cue): যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠলে ব্রাশ করা।
২. পুনরাবৃত্তি (Repetition): বারবার কাজটা করার মাধ্যমে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।
৩. পুরস্কার (Reward): কাজটা করার পর মানসিক শান্তি বা আনন্দ পাওয়া।
গবেষণা অনুযায়ী, একটি নতুন অভ্যাস তৈরি করতে গড়ে ৬৬ দিন (১৮ থেকে ২৫৪ দিন) সময় লাগে। কেউ যদি টানা ৬৬ দিন কোনো কাজ (যেমন দৈনিক ৫ ঘণ্টা পড়াশোনা) কষ্ট করে চালিয়ে যায়, তবে তা পরবর্তীতে তার স্বয়ংক্রিয় অভ্যাসে পরিণত হবে এবং তখন তা আর কষ্টসাধ্য মনে হবে না।
📄 জীবনের ছায়া
মানুষ দুটি ছায়া থেকে মানসিক শক্তি সংগ্রহ করে জীবনে এগিয়ে যায়:
১. কালো ছায়া (Black Shadow): মনোবিজ্ঞানী কার্ল জাং-এর মতে, জীবনে পাওয়া আঘাত বা ব্যর্থতা মনের গহীনে কালো ছায়া হয়ে থাকে। মানুষ এই আঘাত থেকে শক্তি সঞ্চয় করে বড় হওয়ার পথে এগিয়ে যায়। অনেক বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক বা সফল ব্যক্তির জীবনের পেছনে দারিদ্র্য বা বড় কোনো আঘাতের গল্প থাকে। যেমন কবি হেলাল হাফিজ বা পাবলো নেরুদার কবিতায় কষ্টের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয়ের কথা বলা হয়েছে। কষ্টের মধ্যে সবর বা ধৈর্য ধরলে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
২. সোনালী ছায়া (Golden Shadow): কোনো সফল বা আদর্শ ব্যক্তিকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে তাকে অনুসরণ করা। মানুষের মধ্যে যে ধরনের সৃজনশীল সম্ভাবনা থাকে, সে সাধারণত সেই ধরনের গুণী মানুষকে শ্রদ্ধা করে বা অনুকরণ করতে চায়। 'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ'—যোগাযোগের মাধ্যমে একজনের মানসিক গুণাগুণ অন্যজনের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।