📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 অক্সিটোসিন

📄 অক্সিটোসিন


অক্সিটোসিন হলো বন্ধন, আদর, আবেগ এবং ভালোবাসার হরমোন (Oxytocin is a hormone for bonding, cuddling, passion, love)।

স্তন দুগ্ধ পান করানোর সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক:
যে সব প্রাণীরা সন্তানকে স্তন দুগ্ধ পান করায়, তাদের লিম্বিক (আবেগ) সিস্টেম উন্নত এবং তারা সন্তানকে মহব্বত করে। মাছের লিম্বিক সিস্টেম নেই বললেই চলে, তাই সন্তানের প্রতি তাদের মমত্ববোধও কম। বৈজ্ঞানিকভাবে 'মাছের মায়ের আবার পুত্রশোক' বাগধারাটি সত্য। মায়ের বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় অক্সিটোসিন বের হয় বলে সে বাচ্চাকে খুব আদর করে।

যাদের অক্সিটোসিন হরমোন বেশি, তারা শিশু খুব পছন্দ করে। ছোট বাচ্চা পেলে মেয়েরা তাদের খুব আদর করে; ছেলেদের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে তবে কম, যা প্রমাণ করে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অক্সিটোসিন বেশি। যেসব পুরুষের মধ্যে অক্সিটোসিন হরমোন বেশি থাকে, তারা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সৎ ও অনুগত থাকে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আয়োডিন

📄 আয়োডিন


মেধার বিকাশে আয়োডিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিকেলে পড়ার সময় আমি আয়োডিন এবং ব্রেন ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম যা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

আয়োডিনের অভাব ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ:
সমুদ্র থেকে দূরবর্তী জেলাগুলোতে খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাবের কারণে শরীরে থাইরয়েড হরমোন তৈরি কম হয়। এই হরমোন ভ্রূণ অবস্থা থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মায়ের আয়োডিনের অভাব থাকলে বাচ্চার ব্রেনের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, ফলে বাচ্চার বুদ্ধি কম হয়।

জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব:
এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সংসদে আলোচনা হয় এবং ১৯৯০ সালের দিকে আইন পাস হয় যে, আয়োডিন যুক্ত না করে বাজারে লবণ বিক্রি করা যাবে না। এর ফলে দেশে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু (Cretin baby) এবং গলগণ্ড বা ঘ্যাগের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 পড়াশোনায় মনোযোগ

📄 পড়াশোনায় মনোযোগ


শতকরা ২৫ ভাগ মানুষের জন্মগতভাবে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার প্রবণতা থাকে, বাকি ৭৫ ভাগ মানুষকে কৌশলে বা ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মনোযোগ তৈরি করতে হয়। পড়াশোনায় মনোযোগের জন্য ব্রেনে আলফা তরঙ্গ প্রয়োজন। পড়তে বসার আগে ৫ মিনিট কোরআন পড়লে বা জিকির করলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়, যা মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।

মনোযোগের দুটি প্রধান দিক:
১. নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ফোকাস করা।
২. অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা।

মাছি ও হাতির গল্প:
একটি মাছি হাতির কানের কাছে ভনভন করছিল। হাতি শান্ত ছিল। হাতি মাছিকে বলল, 'আমার পঞ্চেন্দ্রিয় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে না, আমি আমার মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করি। যখন যেটা করি, তখন সেটাতেই পূর্ণ মনোযোগ দেই।' এটাই শান্ত থাকার মূলমন্ত্র।

পড়ার তীব্রতা ও গতি:
পড়ার প্রতি আগ্রহ বা তীব্রতা যত বাড়বে, তত কম সময়ে বেশি পড়া হবে। পরীক্ষার সময় পড়ার তীব্রতা বাড়ে বলে পড়া দ্রুত হয়। পড়াশোনার পরিমাণ = (পড়ার প্রতি আগ্রহ বা তীব্রতা)² × সময় / বাধা। বাধা বলতে মোবাইল ব্যবহার বা মানসিক বিক্ষিপ্ততাকে বোঝায়।

পড়াশোনায় মনোযোগের উপায়:
১. পড়তে বসার আগে ৫-১০ মিনিট কোরআন পড়া বা জিকির করা।
২. পড়ার পরিবেশ গুছিয়ে রাখা এবং টার্গেট লিখে রাখা।
৩. ক্লাসে পড়ানোর আগে বিষয়টি একবার দেখে নেওয়া এবং ক্লাস শেষে পুনরায় পড়া।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 স্মরণ শক্তি

📄 স্মরণ শক্তি


স্মরণ শক্তি মূলত ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশের ওপর নির্ভর করে। এটি ডিক্লারেটিভ মেমোরি (Declarative memory) অর্থাৎ তথ্য ও ঘটনা মনে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে দক্ষতা অর্জনের স্মৃতি (Procedural memory) যেমন সাইকেল চালানো, তা নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাসাল গ্যাংগ্লিয়া (Basal ganglia)।

স্মরণ শক্তি বাড়ানোর উপায়:
১. থিটা তরঙ্গ: ব্রেনে থিটা তরঙ্গ থাকলে শেখার ক্ষমতা ৩ গুণ বেড়ে যায়। ৩০ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত শুনলে বা গ্রিন টি খেলে ব্রেনে থিটা তরঙ্গ তৈরি হয় যা হিপ্পোক্যাম্পাসকে সক্রিয় করে।
২. আলফা তরঙ্গ: তথ্য বা সংখ্যা মনে করার সময় চোখ বন্ধ করলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়, যা স্মৃতি থেকে তথ্য উদ্ধার (Retrieval) সহজ করে।
৩. খাবার: তরকারিতে হলুদের সঙ্গে গোল মরিচ খাওয়ার অভ্যাস বৃদ্ধ বয়সে স্মৃতিভ্রংশ রোগ (Alzheimer's Disease) প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন বি-৬ এর অভাব স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়, তাই শাকসবজি ও মাছ খাওয়া জরুরি।
৪. পরিবেশ: উন্নত পরিবেশ যেখানে খেলাধুলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপকরণ আছে, সেখানে মনে রাখার ক্ষমতা ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00