📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ডোপামিন

📄 ডোপামিন


ডোপামিন হলো পুরস্কারের হরমোন। কোনো কাজ শেষ করলে বা লক্ষ্য অর্জন করলে ব্রেনে ডোপামিন নিঃসরণ হয় যা আমাদের শান্তি ও আনন্দ দেয়।

ডোপামিনের কার্যকারিতা:
১. লক্ষ্য নির্ধারণ: প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জন করলে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা স্মৃতিশক্তি ও মোটিভেশন বাড়ায়।
২. কাজের আনন্দ: কাজের সঙ্গে যখন মন যুক্ত হয় (যেমন শিল্পী বা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে), তখন ডোপামিন বেশি নিঃসৃত হয়।
৩. অধ্যাবসায়ের আনন্দ: লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টার সময় ডোপামিন বেশি নিঃসৃত হয়। একেই বলা হয় অন্বেষণের আনন্দ।

ভালো ও খারাপ নেশা:
খারাপ নেশা (স্মোকিং, ড্রাগস, অতিরিক্ত ইন্টারনেট) সাময়িক আনন্দ দিলেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে। অন্যদিকে ভালো অভ্যাস বা নেশা (বই পড়া, ব্যায়াম, ধ্যান, সৃষ্টিশীল কাজ) ডোপামিন নিঃসরণ করে দীর্ঘস্থায়ী উপকার দেয়।

ধার্মিকেরা কেন সুখী?
ধর্ম মানুষকে জীবনের অর্থ এবং লক্ষ্য বলে দেয়। ইবাদতের মাধ্যমে ব্রেনে ডোপামিন ও সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যা সামাজিক সম্পর্ক ও মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 এন্ডোরফিন

📄 এন্ডোরফিন


এন্ডোরফিন হলো শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক (Natural Painkiller)। এর গঠন অনেকটা মরফিনের মতো, তবে এটি ক্ষতিকর বা আসক্তি সৃষ্টিকারী নয়।

এন্ডোরফিনের উৎস ও কাজ:
১. ব্যায়াম: ভারী ব্যায়ামের ৩০ মিনিট পর এবং দ্রুত হাঁটার ১ ঘণ্টা পর এটি নিঃসৃত হয়, যা মনে প্রবল আনন্দ বা 'ইউফোরিয়া' তৈরি করে।
২. ধর্মীয় কাজ: গভীর মনোযোগে নামাজ বা জিকির করলে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। ধার্মিক ব্যক্তিদের প্রশান্তি বা আনন্দের এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
৩. ব্যথানাশক: এটি শুধু মনে আনন্দই দেয় না, বরং শারীরিক ব্যথা কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর। হার্টের ব্যথায় বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় এটি প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে।

মরফিনের সাথে পার্থক্য হলো, মরফিনে আসক্তি (Addiction) তৈরি হয়, কিন্তু এন্ডোরফিনে কোনো আসক্তি তৈরি হয় না, বরং এটি মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 অক্সিটোসিন

📄 অক্সিটোসিন


অক্সিটোসিন হলো বন্ধন, আদর, আবেগ এবং ভালোবাসার হরমোন (Oxytocin is a hormone for bonding, cuddling, passion, love)।

স্তন দুগ্ধ পান করানোর সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক:
যে সব প্রাণীরা সন্তানকে স্তন দুগ্ধ পান করায়, তাদের লিম্বিক (আবেগ) সিস্টেম উন্নত এবং তারা সন্তানকে মহব্বত করে। মাছের লিম্বিক সিস্টেম নেই বললেই চলে, তাই সন্তানের প্রতি তাদের মমত্ববোধও কম। বৈজ্ঞানিকভাবে 'মাছের মায়ের আবার পুত্রশোক' বাগধারাটি সত্য। মায়ের বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় অক্সিটোসিন বের হয় বলে সে বাচ্চাকে খুব আদর করে।

যাদের অক্সিটোসিন হরমোন বেশি, তারা শিশু খুব পছন্দ করে। ছোট বাচ্চা পেলে মেয়েরা তাদের খুব আদর করে; ছেলেদের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে তবে কম, যা প্রমাণ করে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অক্সিটোসিন বেশি। যেসব পুরুষের মধ্যে অক্সিটোসিন হরমোন বেশি থাকে, তারা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সৎ ও অনুগত থাকে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আয়োডিন

📄 আয়োডিন


মেধার বিকাশে আয়োডিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিকেলে পড়ার সময় আমি আয়োডিন এবং ব্রেন ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম যা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

আয়োডিনের অভাব ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ:
সমুদ্র থেকে দূরবর্তী জেলাগুলোতে খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাবের কারণে শরীরে থাইরয়েড হরমোন তৈরি কম হয়। এই হরমোন ভ্রূণ অবস্থা থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মায়ের আয়োডিনের অভাব থাকলে বাচ্চার ব্রেনের বিকাশ ঠিকমতো হয় না, ফলে বাচ্চার বুদ্ধি কম হয়।

জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব:
এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সংসদে আলোচনা হয় এবং ১৯৯০ সালের দিকে আইন পাস হয় যে, আয়োডিন যুক্ত না করে বাজারে লবণ বিক্রি করা যাবে না। এর ফলে দেশে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু (Cretin baby) এবং গলগণ্ড বা ঘ্যাগের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00