📄 খাওয়া
বার বার অল্প অল্প খাওয়ার উপকারিতা:
১. খাওয়ার পর এন্ডোরফিন রিলিজ হয় যা মন ফুর্তিতে রাখে।
২. ব্রেনে গ্লুকোজ সাপ্লাই অনবরত থাকে, ফলে ব্রেন ভালো কাজ করে।
৩. ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত ওজন কমে।
৪. স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কম নিঃসৃত হয়।
পরিশ্রমের ধরন ও খাওয়া:
যারা ব্রেনের কাজ করেন, তাদের রাতের খাবার ভালো হওয়া দরকার কারণ ব্রেন ঘুমের মধ্যেও তথ্য গুছিয়ে রাখার কাজ করে। অন্যদিকে শারীরিক পরিশ্রমী ব্যক্তিদের দুপুরের খাবার ভালো হওয়া উচিত কারণ তারা দিনের বেলায় শক্তি খরচ করেন।
রাগ বা মন খারাপের সময় খাবার:
কারো খুব রাগ উঠলে বা মন খারাপ হলে চকলেট, টক বা ঝাল খাবার খেলে এন্ডোরফিন নিঃসরণের মাধ্যমে রাগ দ্রুত কমে যায়।
চা:
সবুজ চা-তে (Green Tea) প্রচুর পরিমাণে L-theanine থাকে যা ব্রেনে ডোপামিন নিঃসরণ করে। এটি ব্রেনে থিটা ওয়েভ তৈরি করে যা স্মরণ শক্তি ও শেখার ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
📄 সেরোটোনিন
সেরোটোনিন হলো সুখের কেমিক্যাল। পড়ার সময় কিছুক্ষণ পর বোরিং লাগার কারণ হলো ব্রেনে সেরোটোনিন কমে যাওয়া। কোরআন তিলাওয়াত শোনা বা জিকির করার মাধ্যমে এটি বাড়ানো সম্ভব।
সেরোটোনিনের ভূমিকা:
১. পায়চারী বা হাঁটা: চিন্তার সময় মানুষ পায়চারী করে কারণ হাঁটার সময় সেরোটোনিন তৈরি হয় যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
২. ডিপ্রেশন প্রতিরোধ: সেরোটোনিন কমে গেলে মানুষ নিরাশ হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার চিন্তা করে। কোরআন পড়া, ব্যায়াম এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এটি বাড়ানো যায়।
৩. ক্লাস রিফ্রেশমেন্ট: একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত প্রতি ২০ মিনিট পর গল্প বা মজার আলোচনার মাধ্যমে ক্লাস রিফ্রেশ করা।
বিনা ওষুধে বিষন্নতা দূর করার উপায়:
১. গভীর মনোযোগে ইবাদত বা মেডিটেশন।
২. আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া।
৩. রোদে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়াম।
৪. মনের কষ্ট বিশ্বস্ত কারো কাছে শেয়ার করা।
৫. স্থান পরিবর্তন বা বায়ু বদল।
সেরোটোনিন এবং ইতিবাচক চিন্তা:
ব্রেন শান্ত থাকলে পজিটিভ চিন্তা আসে। ইতিবাচক চিন্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো জটিল কাজকে "জটিল" না ভেবে "নতুন কিছু শেখার সুযোগ" হিসেবে দেখা উচিত।
📄 মেলাটোনিন
মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাবে ঘুম ভালো হয়। এটি শরীরের ক্ষয় পূরণ করে, সতেজতা দেয় এবং চেহারায় বয়সের ছাপ কমায়।
ঘুম ও পড়াশোনার আদর্শ সময়:
১. রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা: ঘুমানোর শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় মেলাটোনিন সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয়। দিনের ঘুমে আলোর কারণে মেলাটোনিন নিঃসৃত হয় না।
২. ভোর ৩টা থেকে সকাল ৮টা: পড়াশোনার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় মনোযোগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
রাতের প্রহর বিভাজন:
প্রথম প্রহর (৬টা-৯টা): সবাই জাগে।
দ্বিতীয় প্রহর (৯টা-১২টা): ভোগী বা বিলাসী মানুষ জাগে।
তৃতীয় প্রহর (১২টা-৩টা): তস্কর বা চোর জাগে।
চতুর্থ প্রহর (৩টা-৬টা): যোগী বা ইবাদতকারী জাগে।
মেলাটোনিন পিনিয়াল গ্ল্যান্ড (Pineal Gland) থেকে নিঃসৃত হয় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
📄 ডোপামিন
ডোপামিন হলো পুরস্কারের হরমোন। কোনো কাজ শেষ করলে বা লক্ষ্য অর্জন করলে ব্রেনে ডোপামিন নিঃসরণ হয় যা আমাদের শান্তি ও আনন্দ দেয়।
ডোপামিনের কার্যকারিতা:
১. লক্ষ্য নির্ধারণ: প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জন করলে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা স্মৃতিশক্তি ও মোটিভেশন বাড়ায়।
২. কাজের আনন্দ: কাজের সঙ্গে যখন মন যুক্ত হয় (যেমন শিল্পী বা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে), তখন ডোপামিন বেশি নিঃসৃত হয়।
৩. অধ্যাবসায়ের আনন্দ: লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টার সময় ডোপামিন বেশি নিঃসৃত হয়। একেই বলা হয় অন্বেষণের আনন্দ।
ভালো ও খারাপ নেশা:
খারাপ নেশা (স্মোকিং, ড্রাগস, অতিরিক্ত ইন্টারনেট) সাময়িক আনন্দ দিলেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে। অন্যদিকে ভালো অভ্যাস বা নেশা (বই পড়া, ব্যায়াম, ধ্যান, সৃষ্টিশীল কাজ) ডোপামিন নিঃসরণ করে দীর্ঘস্থায়ী উপকার দেয়।
ধার্মিকেরা কেন সুখী?
ধর্ম মানুষকে জীবনের অর্থ এবং লক্ষ্য বলে দেয়। ইবাদতের মাধ্যমে ব্রেনে ডোপামিন ও সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যা সামাজিক সম্পর্ক ও মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।