📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ডেল্টা তরঙ্গ

📄 ডেল্টা তরঙ্গ


ডেল্টা তরঙ্গ (< 4 Hz)
সবচেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ হলো ডেল্টা তরঙ্গ। গভীর ঘুমে এই তরঙ্গ ব্রেনে প্রাধান্য পায়। এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে এই তরঙ্গ বেশি থাকে। ডেল্টা তরঙ্গের পর্যাপ্ত উৎপাদন আমাদের সতেজ হতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করে।

শারীরিক বৃদ্ধি:
রাতের ঘুম ভালো হলে ডেল্টা ব্রেন ওয়েভ সক্রিয় হয়, যা গ্রোথ হরমোন রিলিজ করতে সাহায্য করে। ফলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ভালো হয়।

অবচেতন মন:
ডেল্টা তরঙ্গ আমাদের অবচেতন বা অচেতন মনে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। এটি আধ্যাত্মিকতার প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। ডেল্টা অবস্থায় বাহ্যিক জগতের সঙ্গে যোগাযোগ কমে এবং নিজের মনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে।

বয়স জনিত পরিবর্তন (এজিং প্রসেস):
ডেল্টা ওয়েভ মেলাটোনিন এবং DHEA নামক অ্যান্টি-এজিং হরমোন নিঃসরণ ঘটায় যা বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে। এছাড়া এ সময় স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে যায়।

ড্রাগস এবং অ্যালকোহল:
কিছু ওষুধ এবং অ্যালকোহল মস্তিষ্কের ডেল্টা তরঙ্গ উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এ কারণে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা গভীর ঘুমের স্তরে যেতে পারে না এবং তাদের শরীরের ক্ষয় পূরণ ঠিকমতো হয় না।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ব্যায়াম

📄 ব্যায়াম


ব্যায়ামের সময় ব্রেনে ৫ টি কেমিক্যাল রিলিজ হয়:
১. সেরোটোনিন – মন ভালো করে, বিষন্নতা কমায়।
২. নরইপিনেফরিন – ব্রেনকে সজাগ করে, স্মরণ শক্তি বাড়ায়।
৩. এন্ডোরফিন – মনে ফুর্তি আনে।
৪. ডোপামিন – মোটিভেশন বাড়ায়।
৫. BDNF – নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়, ফলে ব্রেন বেশি কাজ করে।

ডিপ্রেশনে ব্যায়ামের ভূমিকা:
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে ব্রেনে সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যা ডিপ্রেশন দূর করে। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাঁটলে বা রোদে হাঁটাহাঁটি করলে বিষন্নতা অনেকটা কমে যায়।

স্মরণ শক্তি ও হিপ্পোক্যাম্পাস:
৬-৮ সপ্তাহের নিয়মিত ব্যায়ামে ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশে নতুন সক্রিয় কোষের সংখ্যা ২-৩ গুণ বাড়ে। এতে শেখার ক্ষমতা ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট (দিনে ৩০ মিনিট, ৫ দিন) অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করা উচিত।

মনে ফুর্তি ও এন্ডোরফিন:
ব্যায়াম বা দৌড়ানোর ৩০ মিনিট পর এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। মাঝারি গতির হাঁটায় ১ ঘণ্টা পর এটি নিঃসৃত হয়। এটি মনে প্রাকৃতিক আনন্দের অনুভূতি দেয়। এছাড়া রোদে হাঁটাহাঁটি করলে মেয়েদের পিরিয়ডের আগের ব্যথা (PMS) কমে যায়।

মোটিভেশন বা উদ্দীপনা:
ব্যায়ামের ফলে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা উদ্দীপনা বা মোটিভেশন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 খাওয়া

📄 খাওয়া


বার বার অল্প অল্প খাওয়ার উপকারিতা:
১. খাওয়ার পর এন্ডোরফিন রিলিজ হয় যা মন ফুর্তিতে রাখে।
২. ব্রেনে গ্লুকোজ সাপ্লাই অনবরত থাকে, ফলে ব্রেন ভালো কাজ করে।
৩. ব্লাড গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত ওজন কমে।
৪. স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কম নিঃসৃত হয়।

পরিশ্রমের ধরন ও খাওয়া:
যারা ব্রেনের কাজ করেন, তাদের রাতের খাবার ভালো হওয়া দরকার কারণ ব্রেন ঘুমের মধ্যেও তথ্য গুছিয়ে রাখার কাজ করে। অন্যদিকে শারীরিক পরিশ্রমী ব্যক্তিদের দুপুরের খাবার ভালো হওয়া উচিত কারণ তারা দিনের বেলায় শক্তি খরচ করেন।

রাগ বা মন খারাপের সময় খাবার:
কারো খুব রাগ উঠলে বা মন খারাপ হলে চকলেট, টক বা ঝাল খাবার খেলে এন্ডোরফিন নিঃসরণের মাধ্যমে রাগ দ্রুত কমে যায়।

চা:
সবুজ চা-তে (Green Tea) প্রচুর পরিমাণে L-theanine থাকে যা ব্রেনে ডোপামিন নিঃসরণ করে। এটি ব্রেনে থিটা ওয়েভ তৈরি করে যা স্মরণ শক্তি ও শেখার ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 সেরোটোনিন

📄 সেরোটোনিন


সেরোটোনিন হলো সুখের কেমিক্যাল। পড়ার সময় কিছুক্ষণ পর বোরিং লাগার কারণ হলো ব্রেনে সেরোটোনিন কমে যাওয়া। কোরআন তিলাওয়াত শোনা বা জিকির করার মাধ্যমে এটি বাড়ানো সম্ভব।

সেরোটোনিনের ভূমিকা:
১. পায়চারী বা হাঁটা: চিন্তার সময় মানুষ পায়চারী করে কারণ হাঁটার সময় সেরোটোনিন তৈরি হয় যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
২. ডিপ্রেশন প্রতিরোধ: সেরোটোনিন কমে গেলে মানুষ নিরাশ হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার চিন্তা করে। কোরআন পড়া, ব্যায়াম এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এটি বাড়ানো যায়।
৩. ক্লাস রিফ্রেশমেন্ট: একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারে। তাই শিক্ষকের উচিত প্রতি ২০ মিনিট পর গল্প বা মজার আলোচনার মাধ্যমে ক্লাস রিফ্রেশ করা।

বিনা ওষুধে বিষন্নতা দূর করার উপায়:
১. গভীর মনোযোগে ইবাদত বা মেডিটেশন।
২. আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া।
৩. রোদে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়াম।
৪. মনের কষ্ট বিশ্বস্ত কারো কাছে শেয়ার করা।
৫. স্থান পরিবর্তন বা বায়ু বদল।

সেরোটোনিন এবং ইতিবাচক চিন্তা:
ব্রেন শান্ত থাকলে পজিটিভ চিন্তা আসে। ইতিবাচক চিন্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো জটিল কাজকে "জটিল" না ভেবে "নতুন কিছু শেখার সুযোগ" হিসেবে দেখা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00