📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আলফা তরঙ্গ

📄 আলফা তরঙ্গ


আলফা তরঙ্গ (7 Hz - 13 Hz)

আলফা ওয়েভ এর উপকারিতা:
✓ মনকে শান্ত করে - আলফা ওয়েভ শরীরকে রিলাক্স করে। ব্রেনকে পরিচ্ছন্ন করে, ব্রেন সুষ্ঠভাবে চিন্তা করতে পারে।
✓ সৃজনশীলতা বাড়ায় - লেখক, সাহিত্যিকদের ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকে।
✓ সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায় - ব্রেনে আলফা ওয়েভ কম থাকলে বাম ব্রেনকে একাই সমস্যা চিন্তা করার লোডটা নিতে হয়, আলফা ওয়েভ বেশি থাকলে বাম ও ডান ব্রেনের সংযোগ হয়। অংক করার আগে বা যে কোন সমস্যা সমাধানের আগে ৫-১০ মিনিট কোরআন পড়লে বা শুনলে বা জিকির করলে ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরি হয় এবং এসব সমস্যা সমাধান করা অনেক সহজ হয়।
✓ খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়ায় - গলফ খেলার গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন সবচেয়ে সুন্দর শটটা খেলোয়াড়রা খেলতে পারে।
✓ সুপার লার্নিং - কম পরিশ্রমে তাড়াতাড়ি শেখাকে বলে সুপার লার্নিং। ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন ব্রেনের দুই অংশ মিলে শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে।
✓ ইতিবাচক চিন্তা বাড়ায়, নেতিবাচক চিন্তা কমায়।
✓ বিষন্নতা ও দুশ্চিন্তা কমায় - আলফা ওয়েভ ব্রেনের নিউরনগুলোতে সেরোটোনিন রিলিজ করে।
✓ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
✓ আভ্যন্তরীণ সচেতনতা বাড়ায় - নিজের শরীর ও মনের প্রতি সচেতনতা বাড়ায়।

আলফা লেভেল পড়াশোনা:
গভীর মনোযোগে পড়াশোনা করা, যে গভীর মনোযোগে ব্রেইন এ আলফা ওয়েভ তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগ বাড়ে, পড়া মনে থাকে বেশি এবং ক্লান্তি আসে না। গোছানো নিরিবিলি পরিবেশ এবং ধর্মীয় কাজ যেমন নামাজ ও জিকির আলফা লেভেলে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

কোরআন এবং আলফা তরঙ্গ:
কোরআন পড়লে বা শুনলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়। পড়া শুরু করার আগে কোরআন তিলাওয়াত শোনা খুব উপকারী। এতে একটানা পড়ার ধৈর্য্য হয় (সেরোটোনিনের কারণে), শেখার ক্ষমতা বাড়ে এবং চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

আলফা তরংগ ও শরীরে বিভিন্ন হরমোন বা কেমিক্যাল নিঃসরণ:
১. সেরোটোনিন - বেশি নিঃসরণ হয় (মন ভালো রাখে)।
২. কর্টিসল - কম নিঃসরণ হয় (মানসিক চাপ কমায়)।
৩. গাবা - বেশি নিঃসরণ হয় (মাথা শান্ত করে)।
৪. মেলাটোনিন - বেশি নিঃসরণ হয় (ভালো ঘুম ও সতেজতা)।
৫. DHEA - বেশি নিঃসরণ হয় (বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে)।
৬. গ্রোথ হরমোন - বেশি নিঃসরণ হয় (শরীরের ক্লান্তি কমায়)।
৭. এন্ডোরফিন - বেশি নিঃসরণ হয় (মনে ফুর্তি আনে)।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 থিটা তরঙ্গ

📄 থিটা তরঙ্গ


থিটা তরঙ্গ (4 Hz - 7 Hz)
আলফা লেভেল প্র্যাকটিস করতে করতে মানুষ থিটা লেভেলে পৌঁছায়। থিটা লেভেলে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা লাভ হয়।

থিটা তরঙ্গঃ উপকারিতা:
১. ইতিবাচক মানসিক অবস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।
২. সৃজনশীলতা বা creativity বাড়ায়।
৩. শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় (গবেষণা অনুযায়ী ৩ গুণ পর্যন্ত বাড়ে)।
৪. দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন কমায়।
৫. ব্রেনের স্বচ্ছভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. ব্রেন ও শরীরকে রিলাক্স করে।
৭. মনোযোগ ও ইনটুইশন বাড়ায়।

কিভাবে ব্রেনে থিটা তরংগ বাড়ানো যায়?
দীর্ঘক্ষণ (১ ঘন্টা) গভীর মনোযোগে কোরআন অধ্যয়ন করে বা শুনে, জিকির করে অথবা মেডিটেশন করে।

প্রশান্ত আত্মা:
মানুষ যখন অস্থির থাকে তখন ব্রেনে বিটা ওয়েভ থাকে। জিকির বা নামাজের মাধ্যমে আলফা ওয়েভ তৈরি হয় যা আত্মাকে প্রশান্ত করে। যারা দীর্ঘদিন গভীর মনোযোগে ইবাদত করেন, তাদের জাগ্রত অবস্থাতেও থিটা ওয়েভ পাওয়া যায়।

মাথা ব্যথায় আলফা ও থিটা ওয়েভ:
মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথায় ব্রেন ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেড়ে যায় (৯০-২০০ Hz)। কোরআন তিলাওয়াত শুনলে এই ফ্রিকোয়েন্সি কমে আলফা (৮-১২ Hz) বা থিটা (৩-৭ Hz) পর্যায়ে চলে আসে, ফলে মাথা ব্যথা কমে।

হাফেজী (কোরআন মুখস্থ) ছোট বেলায় কেন?
ছোট বেলায় ব্রেনে থিটা ওয়েভ প্রাকৃতিকভাবেই বেশি থাকে, তাই পড়া দ্রুত মনে থাকে। বড় হয়েও দীর্ঘক্ষণ জিকির বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে থিটা ওয়েভ তৈরি করে মুখস্থ করা সম্ভব।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ডেল্টা তরঙ্গ

📄 ডেল্টা তরঙ্গ


ডেল্টা তরঙ্গ (< 4 Hz)
সবচেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ হলো ডেল্টা তরঙ্গ। গভীর ঘুমে এই তরঙ্গ ব্রেনে প্রাধান্য পায়। এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে এই তরঙ্গ বেশি থাকে। ডেল্টা তরঙ্গের পর্যাপ্ত উৎপাদন আমাদের সতেজ হতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করে।

শারীরিক বৃদ্ধি:
রাতের ঘুম ভালো হলে ডেল্টা ব্রেন ওয়েভ সক্রিয় হয়, যা গ্রোথ হরমোন রিলিজ করতে সাহায্য করে। ফলে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ভালো হয়।

অবচেতন মন:
ডেল্টা তরঙ্গ আমাদের অবচেতন বা অচেতন মনে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। এটি আধ্যাত্মিকতার প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। ডেল্টা অবস্থায় বাহ্যিক জগতের সঙ্গে যোগাযোগ কমে এবং নিজের মনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ে।

বয়স জনিত পরিবর্তন (এজিং প্রসেস):
ডেল্টা ওয়েভ মেলাটোনিন এবং DHEA নামক অ্যান্টি-এজিং হরমোন নিঃসরণ ঘটায় যা বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে। এছাড়া এ সময় স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে যায়।

ড্রাগস এবং অ্যালকোহল:
কিছু ওষুধ এবং অ্যালকোহল মস্তিষ্কের ডেল্টা তরঙ্গ উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এ কারণে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা গভীর ঘুমের স্তরে যেতে পারে না এবং তাদের শরীরের ক্ষয় পূরণ ঠিকমতো হয় না।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ব্যায়াম

📄 ব্যায়াম


ব্যায়ামের সময় ব্রেনে ৫ টি কেমিক্যাল রিলিজ হয়:
১. সেরোটোনিন – মন ভালো করে, বিষন্নতা কমায়।
২. নরইপিনেফরিন – ব্রেনকে সজাগ করে, স্মরণ শক্তি বাড়ায়।
৩. এন্ডোরফিন – মনে ফুর্তি আনে।
৪. ডোপামিন – মোটিভেশন বাড়ায়।
৫. BDNF – নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়, ফলে ব্রেন বেশি কাজ করে।

ডিপ্রেশনে ব্যায়ামের ভূমিকা:
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে ব্রেনে সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যা ডিপ্রেশন দূর করে। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হাঁটলে বা রোদে হাঁটাহাঁটি করলে বিষন্নতা অনেকটা কমে যায়।

স্মরণ শক্তি ও হিপ্পোক্যাম্পাস:
৬-৮ সপ্তাহের নিয়মিত ব্যায়ামে ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশে নতুন সক্রিয় কোষের সংখ্যা ২-৩ গুণ বাড়ে। এতে শেখার ক্ষমতা ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট (দিনে ৩০ মিনিট, ৫ দিন) অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করা উচিত।

মনে ফুর্তি ও এন্ডোরফিন:
ব্যায়াম বা দৌড়ানোর ৩০ মিনিট পর এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। মাঝারি গতির হাঁটায় ১ ঘণ্টা পর এটি নিঃসৃত হয়। এটি মনে প্রাকৃতিক আনন্দের অনুভূতি দেয়। এছাড়া রোদে হাঁটাহাঁটি করলে মেয়েদের পিরিয়ডের আগের ব্যথা (PMS) কমে যায়।

মোটিভেশন বা উদ্দীপনা:
ব্যায়ামের ফলে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা উদ্দীপনা বা মোটিভেশন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00