📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 মানব মস্তিষ্ক

📄 মানব মস্তিষ্ক


মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় মানুষের মস্তিস্ক বা ব্রেন যখন তৈরি হয়, তখন এর ৩ টি ভাগ থাকে।

১. অগ্রমস্তিষ্ক (Fore brain/Prosencephalon)
২. মধ্যমস্তিষ্ক (Mid brain/Mesencephalon)
৩. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক (Hindbrain/Rhombencephalon)

এই তিনটি অংশ পরে ভাগ হয়ে ৫ টি অংশে পরিণত হয়। এই ৫ টি অংশ থেকে পরে ব্রেনের বিভিন্ন অংশ তৈরি হয়।

ব্রেনের বিকাশের পর্যায়সমূহ:

প্রাথমিক বিভাজন (Primary Division): Prosencephalon
উপ-বিভাজন (Subdivision): Telencephalon
পূর্ণাঙ্গ গঠন (Adult Structure): Cerebrum, Basal ganglia, Hippocampus

উপ-বিভাজন (Subdivision): Diencephalon
পূর্ণাঙ্গ গঠন (Adult Structure): Thalamus, Hypothalamus, Pineal body, Infundibulum

প্রাথমিক বিভাজন (Primary Division): Mesencephalon
উপ-বিভাজন (Subdivision): Mesencephalon
পূর্ণাঙ্গ গঠন (Adult Structure): Crus cerebri, Tectum, Tegmentum

প্রাথমিক বিভাজন (Primary Division): Rhombencephalon
উপ-বিভাজন (Subdivision): Metencephalon
পূর্ণাঙ্গ গঠন (Adult Structure): Pons, Cerebellum

উপ-বিভাজন (Subdivision): Myelencephalon
পূর্ণাঙ্গ গঠন (Adult Structure): Medulla oblongata

ব্রেনের কাজের মূল্য শরীরের কাজের মূল্য থেকে অনেক অনেক বেশি। মানব শরীর পৃথিবীর মত। পৃথিবীর ৩ ভাগের ২ ভাগ পানি, মানব শরীরেরও ৩ ভাগের ২ ভাগ পানি। পৃথিবীর পানির মূল ভান্ডার সমুদ্র আর সমুদ্রের পানির বড় উপাদান সোডিয়াম (সোডিয়াম ক্লোরাইড তথা লবণ)। মানব শরীরের পানিরও বড় উপাদান সোডিয়াম।

মানব শরীর পৃথিবীর মত আর ব্রেন বা চিন্তা শক্তি আকাশের মত। আকাশ যেমন সীমাহীন, চিন্তা শক্তিও সীমাহীন। পৃথিবীর উপরে আকাশের সাতটি স্তর আছে, মানুষের শরীরের আকাশ তথা ব্রেনেরও সাতটি স্তর আছে। উপরে যে ব্রেনের ৫ টি ভাগের কথা বলা হয়েছে, তার কিছু পরে ব্রেন ৭ টি ভাগে ভাগ হয়।

৭. Telencephalon (Cerebrum)
৬. Diencephalon (Thalamus, Hypothalamus)
৫. Diencephalon
৪. Mesencephalon (Midbrain)
৩. Metencephalon (Pons)
২. Metencephalon (Cerebellum)
১. Myelencephalon (Medulla)

আল্লাহ কোরআনে বলেন: "তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন?" [সুরা নূহ ৭১:১৫]। পৃথিবীর তুলনায় আকাশ যেমন সীমাহীন, তেমনি শারীরিক কাজের তুলনায় ব্রেনের কাজের মূল্য সীমাহীন। উদাহরণ স্বরূপ, একজন লেবার শারীরিক পরিশ্রম করে দিনে ধরি ৫০০ টাকা ইনকাম করে। ব্রেনের কাজ করে বিল গেটস দিনে লাখ লাখ ডলার ইনকাম করে।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 ব্রেন ওয়েভস

📄 ব্রেন ওয়েভস


ব্রেন ওয়েভস কি?
হার্টের ইসিজি পরীক্ষা দিয়ে আমরা এর মধ্যে তৈরি হওয়া বিভিন্ন তরঙ্গ দেখতে পাই। ব্রেনের তেমন একটি পরীক্ষা ইইজি (EEG) দিয়ে আমরা ব্রেনের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভিন্ন তরঙ্গ দেখতে পাই। মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলি বৈদ্যুতিক তরঙ্গ যা আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে নিউরন থেকে নিউরনে প্রবাহিত হয়। নিউরন হলো মস্তিষ্কের কোষ। যতক্ষণ আমরা বেঁচে থাকি ততক্ষণ আমাদের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

বিজ্ঞানীরা কমপক্ষে পাঁচ ধরণের মস্তিষ্কের তরঙ্গ চিহ্নিত করেছেন: ডেল্টা তরঙ্গ, থিটা তরঙ্গ, আলফা তরঙ্গ, বিটা তরঙ্গ এবং গামা তরঙ্গ। বিভিন্ন ধরণের মস্তিষ্কের তরঙ্গ একই সাথে আমাদের মস্তিস্কে উপস্থিত থাকতে পারে তবে এক ধরণের তরঙ্গ সাধারণত যে কোনও সময় মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপকে প্রাধান্য দেয়। এই ধরণের মস্তিষ্কের তরঙ্গের প্রতিটি ফ্রিকোয়েন্সি প্রতি সেকেন্ড (হার্টজ) এ পরিমাপ করা হয়।

তরঙ্গ সমূহের ফ্রিকোয়েন্সি সীমা:
১. ডেল্টা: ০.১ থেকে ৩ হার্টজ (গভীর ঘুম, স্বপ্নহীন অবস্থা)
২. থিটা: ৪ থেকে ৭ হার্টজ (তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব, সৃজনশীলতা)
৩. আলফা: ৮ থেকে ১২ হার্টজ (শান্ত অবস্থা, শিথিলতা)
৪. বিটা: ১৩ থেকে ৪০ হার্টজ (ব্যস্ত মন, সক্রিয় চিন্তা)
৫. গামা: ৪০ হার্টজ এর বেশি (সমস্যা সমাধান, উচ্চ একাগ্রতা)

এই মস্তিষ্কের তরঙ্গের প্রতিটির একটি নির্দিষ্ট কার্য রয়েছে। বিটা তরঙ্গ হলো চেতনা এবং যুক্তির তরঙ্গ। আপনি যখন স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং শান্ত অবস্থার মধ্যে থাকবেন তখন আলফা তরঙ্গগুলি প্রাধান্য পায়। আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন বা সম্মোহনের সময় থিটা তরঙ্গ বাড়তে পারে। গভীর ঘুমের সময় ডেল্টা তরঙ্গগুলি প্রাধান্য পায়।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 আলফা তরঙ্গ

📄 আলফা তরঙ্গ


আলফা তরঙ্গ (7 Hz - 13 Hz)

আলফা ওয়েভ এর উপকারিতা:
✓ মনকে শান্ত করে - আলফা ওয়েভ শরীরকে রিলাক্স করে। ব্রেনকে পরিচ্ছন্ন করে, ব্রেন সুষ্ঠভাবে চিন্তা করতে পারে।
✓ সৃজনশীলতা বাড়ায় - লেখক, সাহিত্যিকদের ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকে।
✓ সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায় - ব্রেনে আলফা ওয়েভ কম থাকলে বাম ব্রেনকে একাই সমস্যা চিন্তা করার লোডটা নিতে হয়, আলফা ওয়েভ বেশি থাকলে বাম ও ডান ব্রেনের সংযোগ হয়। অংক করার আগে বা যে কোন সমস্যা সমাধানের আগে ৫-১০ মিনিট কোরআন পড়লে বা শুনলে বা জিকির করলে ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরি হয় এবং এসব সমস্যা সমাধান করা অনেক সহজ হয়।
✓ খেলাধুলায় দক্ষতা বাড়ায় - গলফ খেলার গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন সবচেয়ে সুন্দর শটটা খেলোয়াড়রা খেলতে পারে।
✓ সুপার লার্নিং - কম পরিশ্রমে তাড়াতাড়ি শেখাকে বলে সুপার লার্নিং। ব্রেনে আলফা ওয়েভ বেশি থাকাকালীন ব্রেনের দুই অংশ মিলে শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে।
✓ ইতিবাচক চিন্তা বাড়ায়, নেতিবাচক চিন্তা কমায়।
✓ বিষন্নতা ও দুশ্চিন্তা কমায় - আলফা ওয়েভ ব্রেনের নিউরনগুলোতে সেরোটোনিন রিলিজ করে।
✓ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
✓ আভ্যন্তরীণ সচেতনতা বাড়ায় - নিজের শরীর ও মনের প্রতি সচেতনতা বাড়ায়।

আলফা লেভেল পড়াশোনা:
গভীর মনোযোগে পড়াশোনা করা, যে গভীর মনোযোগে ব্রেইন এ আলফা ওয়েভ তৈরি হয়। এর ফলে মনোযোগ বাড়ে, পড়া মনে থাকে বেশি এবং ক্লান্তি আসে না। গোছানো নিরিবিলি পরিবেশ এবং ধর্মীয় কাজ যেমন নামাজ ও জিকির আলফা লেভেলে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

কোরআন এবং আলফা তরঙ্গ:
কোরআন পড়লে বা শুনলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়। পড়া শুরু করার আগে কোরআন তিলাওয়াত শোনা খুব উপকারী। এতে একটানা পড়ার ধৈর্য্য হয় (সেরোটোনিনের কারণে), শেখার ক্ষমতা বাড়ে এবং চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

আলফা তরংগ ও শরীরে বিভিন্ন হরমোন বা কেমিক্যাল নিঃসরণ:
১. সেরোটোনিন - বেশি নিঃসরণ হয় (মন ভালো রাখে)।
২. কর্টিসল - কম নিঃসরণ হয় (মানসিক চাপ কমায়)।
৩. গাবা - বেশি নিঃসরণ হয় (মাথা শান্ত করে)।
৪. মেলাটোনিন - বেশি নিঃসরণ হয় (ভালো ঘুম ও সতেজতা)।
৫. DHEA - বেশি নিঃসরণ হয় (বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে)।
৬. গ্রোথ হরমোন - বেশি নিঃসরণ হয় (শরীরের ক্লান্তি কমায়)।
৭. এন্ডোরফিন - বেশি নিঃসরণ হয় (মনে ফুর্তি আনে)।

📘 ব্রেন ওয়েভস > 📄 থিটা তরঙ্গ

📄 থিটা তরঙ্গ


থিটা তরঙ্গ (4 Hz - 7 Hz)
আলফা লেভেল প্র্যাকটিস করতে করতে মানুষ থিটা লেভেলে পৌঁছায়। থিটা লেভেলে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা লাভ হয়।

থিটা তরঙ্গঃ উপকারিতা:
১. ইতিবাচক মানসিক অবস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।
২. সৃজনশীলতা বা creativity বাড়ায়।
৩. শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় (গবেষণা অনুযায়ী ৩ গুণ পর্যন্ত বাড়ে)।
৪. দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন কমায়।
৫. ব্রেনের স্বচ্ছভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. ব্রেন ও শরীরকে রিলাক্স করে।
৭. মনোযোগ ও ইনটুইশন বাড়ায়।

কিভাবে ব্রেনে থিটা তরংগ বাড়ানো যায়?
দীর্ঘক্ষণ (১ ঘন্টা) গভীর মনোযোগে কোরআন অধ্যয়ন করে বা শুনে, জিকির করে অথবা মেডিটেশন করে।

প্রশান্ত আত্মা:
মানুষ যখন অস্থির থাকে তখন ব্রেনে বিটা ওয়েভ থাকে। জিকির বা নামাজের মাধ্যমে আলফা ওয়েভ তৈরি হয় যা আত্মাকে প্রশান্ত করে। যারা দীর্ঘদিন গভীর মনোযোগে ইবাদত করেন, তাদের জাগ্রত অবস্থাতেও থিটা ওয়েভ পাওয়া যায়।

মাথা ব্যথায় আলফা ও থিটা ওয়েভ:
মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথায় ব্রেন ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেড়ে যায় (৯০-২০০ Hz)। কোরআন তিলাওয়াত শুনলে এই ফ্রিকোয়েন্সি কমে আলফা (৮-১২ Hz) বা থিটা (৩-৭ Hz) পর্যায়ে চলে আসে, ফলে মাথা ব্যথা কমে।

হাফেজী (কোরআন মুখস্থ) ছোট বেলায় কেন?
ছোট বেলায় ব্রেনে থিটা ওয়েভ প্রাকৃতিকভাবেই বেশি থাকে, তাই পড়া দ্রুত মনে থাকে। বড় হয়েও দীর্ঘক্ষণ জিকির বা তিলাওয়াতের মাধ্যমে থিটা ওয়েভ তৈরি করে মুখস্থ করা সম্ভব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00