📄 তাহাজ্জুদ আঁকড়ে ধরার আহ্বান
হাবীব বিন আবু সাবেত বলেন, হযরত উমর রা. বলতেন: عليكم بالغنيمة الباردة : الصيام فى الشتاء وقيام الليل -
অর্থ: "তোমরা দু'টি শীতল গনীমত আঁকড়ে ধরবে। (১) শীতকালে রোযা (২) রাতে তাহাজ্জুদ আদায়।"
📄 রাতে তাহাজ্জুদ পড়লে সকাল সুন্দর হয়
মুবারক বিন ফুযালা রহ. বলেন, আমি হযরত হাসান বসরী রহ. হতে শুনেছি। তিনি নবীজীর দু'জন সাহাবী বা ততযুগের দুই মুসলমানের আলাপ বর্ণনা করেন যে, একজন অপরজনকে বলে: يا اخي اخبرني عنك اذا صبت من الليل حظا أليس تصبح أخف ظهره ও أثلজ صدرا وامثل رجاء اذا لم تصبه؟
অর্থ: "ভাই বলোতো, যে রাতে তুমি তাহাজ্জুদ পড়, সেই রাত পরবর্তী সকাল কী ঐ রাতের পরবর্তী সকাল হতে সুন্দর, মনোরম ও প্রশান্তিদায়ক মনে হয় না যে রাতে তুমি উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে পার না"। জবাবে অপর লোক বলে, অবশ্যই এমনটা হয়।
📄 নবীজীর রাতের আমল পর্যবেক্ষণ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার পিতা আব্বাস রা. একদিন আমাকে বলেন, তুমি নবীজীর বাসায় গিয়ে রাত যাপন কর। তোমার কাজ হবে, রাত জেগে নবীজীর রাতের আমল পর্যবেক্ষণ করা যে, তিনি রাতে কী কী আমল করেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, সুতরাং আব্বাজানের নির্দেশে আমি একদিন নবীজীর পেছনে ইশার নামায পড়ি। নামাযের পরে সমস্ত মুসল্লি চলে যায়। আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। নবীজী আমাকে আবছা দেখে জিজ্ঞাসা করেন, কে? আব্দুল্লাহ? আমি বলি, জি হুজুর, আমি। তিনি জানতে চান, ব্যাপার কী? আমি বলি, আমাকে আব্বাজান নির্দেশ দিয়েছেন আপনার ঘরে রাত কাটানোর জন্য। নবীজী বললেন, চলো ঘরে যাই। নবীজী ঘরে ঢুকে বলেন, আব্দুল্লাহ? বিছানা বিছাও। খেজুরের ছাল ভর্তি একটি বালিশ আনলেন। এরপর নবীজী মাঝারিভাবে দুই রাকাত নামায পড়লেন। এরপর শয্যায় গিয়ে শুয়ে পড়েন। এক সময় আমি নবীজীর নাক ডাকের আওয়াজ শুনতে পাই।
কিছুক্ষণ পর নবীজী জাগ্রত হয়ে বিছানায় উঠে বসেন। আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে ইমরানের আয়াত انَّ فِي خَلْقِ السَّمُوت وَالْأَرْضِ হতে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করেন। তিনবার সুবহানাল্লাহ বলে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং ইস্তেঞ্জার প্রয়োজন সেরে মেসওয়াক করেন। ওজু করেন। দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামায পড়েন। এ দুই রাকাত বেশি লম্বাও ছিল না আবার বেশি সংক্ষিপ্তও ছিল না। এরপর নবীজী আবার শয্যায় এসে ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর নাক ডাকার শব্দও শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর আবার জাগ্রত হয়ে বিছানায় উঠে বসেন এবং পূর্বের মত আয়াত তেলাওয়াত করেন। তিন বার সুবহানাল্লাহ বলেন। এরপর উঠে মেসওয়াক করেন, ওজু করেন এবং মাঝারি ধরনের দুই রাকাত নামায পড়েন। এরপর শয্যায় এসে শুয়ে পড়েন। আমি নবীজীর নাক ডাকার আওয়াজ শুনি। খানিক পরে আবার সজাগ হন এবং পূর্বের মত সব কাজ করেন। এরপর ছয় রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়েন। এরপর সুবহে সাদিক হলে দুই রাকাত ফজরের সুন্নত পড়েন। নামায শেষে একটি লম্বা দোয়া করেন। তিনি বলেন:
اللهم اجعل في بصری نورا، وفي سمعي نورا وفي قلبي نورا ও من امامی نورا ও من خلفی نورا وعن يسارى نورا، واجعل لي يوم القيامة نورا ও عظم لی نورا
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার চোখে নূর দাও। কানে নূর দাও। অন্তরে নূর দাও। সামনে নূর দাও। পেছনে নূর দাও। উপরে নূর দাও। নীচে নূর দাও। ডানে নূর দাও। বামে নূর দাও। তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন আমাকে নূর দিও। আমার নূরকে বাড়িয়ে দাও।”
📄 নামাযে দীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর ফায়দা
মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
طول القيام في الصلوة يهون من سكرات الموت
অর্থ: "নামাযে দীর্ঘ সময় দাঁড়ালে তা মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ করে দেয়।"