📄 রমযানের তাহাজ্জুদ নামায
আবু সালমা বিন আব্দুর রহমান হযরত আয়েশা রা.-কে রমযান মাসে নবীজীর তাহাজ্জুদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে হযরত আয়েশা রা. বলেন:
মা কান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াযিদু ফী রমাদান ওয়ালা ফী গাইরিহি আলা এহাদী আশারা রকাআতান ইউসাল্লী আরবায়া ফালা তাসআল আন হুসনিহিন ওয়া তুলিহিন ছুম্মা ইউসাল্লী আরবায়া ফালা তাসআল আন হুসনিহিন ওয়া তুলিহিন ছুম্মা ইউসাল্লী ছালাছা-
অর্থ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান এবং গায়রে রমযানে ১১ রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ নামাযের অবস্থা ও দীর্ঘতা তুমি জানতে চেয়ো না। এরপর আবার চার রাকাত পড়তেন। তুমি এর অবস্থা ও দীর্ঘতা জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।" হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম: يار سول الله تنام قبل ان توتر ؟ অর্থ: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর না পড়েই শুয়ে পড়লেন?" জবাবে নবীজী বলেন: يا عائشة ان عينى تنامان ولا ينام قلبي অর্থ: "হে আয়েশা! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায় কিন্তু অন্তর ঘুমায় না।"
📄 পরিবারকে তাহাজ্জুদের জন্য ডেকে দেয়া
হযরত যায়েদ বিন আসলাম তাঁর পিতার সূত্রে হযরত উমর রা.-এর রাতের আমল সম্পর্কে বর্ণনা করেন: ان عمر كان يصلى من الليل ماشاء الله حتى إذا كان من اخر الليل أيقظ اهله ও يقول : الصلوة ও يتلو هذه الآية وأمر اهلك بالصلوة
অর্থ: হযরত উমর রা. রাতে আল্লাহর তাওফিক অনুযায়ী নামায পড়তেন। শেষ রাতে এসে তার পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং বলতেন, নামায পড়, নামায পড়। অতঃপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করতেন- وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى . এবং নিজ পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ কর এবং নিজেও তাতে অবিচলিত থাক। আমি তোমার কাছে রিযিক চাই না। রিযিক তো আমিই দিব। আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ারই।⁵⁸
টিকাঃ
৫৮. সূরা তোয়াহা: ১৩২।
📄 ফেরেশতা ও শয়তানের ঝগড়া
আব্দুল্লাহ বলেন, যদি কোনো লোকের রাতে নির্দিষ্ট সময়ে উঠার মামুল থাকে কিন্তু কোনো দিন ঘুম বেশি হওয়ায় ঐ নির্দিষ্ট সময়ে উঠতে না পারে, তখন তার কাছে এক ফেরেশতা এসে বলে: قم فاذكر ربك وصل ما قدر لك - অর্থ: "উঠ উঠ, তোমার প্রভুর কথা স্মরণ কর এবং তোমার ভাগে যে পরিমাণ নামায লেখা আছে তা পড়।"
শয়তান ফেরেশতার এই আহ্বানকে উড়িয়ে দিয়ে বলে: فان عليك ليلا، هل تسمع صوتا؟ অর্থ: "ঘুমাও, এখনও ঢের রাত আছে। তুমি কোনো আওয়াজ শুনছ? অর্থাৎ সকলে ঘুমিয়ে আছে, কেউ উঠেনি; অতএব তুমিও ঘুমিয়ে থাক।"
এরপর ফেরেশতা ও শয়তান ঝগড়া করতে থাকে। ফেরেশতা বলে, তুমি কল্যাণ প্রকাশকারী হও। শয়তান বলে, মন্দ প্রকাশকারী হও। এরপর যদি লোকটি ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে, তাহলে সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। আর যদি সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে শয়তান তার কাছে এসে তার গায়ে হাত বুলায় এরপর তার কানে পেশাব করে দেয় (যাতে ফেরেশতার আওয়াজ তার কানে না পৌছে)। এভাবে ঘুমিয়ে এক সময় সে সকালের আলো দেখে এবং পেরেশান ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে।
📄 রমযানের শেষ দশকে পরিবারদের জাগানো
হযরত আলী রা. বলেন: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يوقظ أهله في العشر الأواخر من رمضان - অর্থ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে (রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে) তার পরিবারবর্গকে (ঘুম থেকে) জাগিয়ে দিতেন।"