📄 আজব সেজদা
ইযাহইয়া বিন ওছাব রহ. হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রা.-এর আজব সেজদার হালাত বয়ান করেছেন। তিনি বলেন:
كان عبد الله بن الزبير يسجد حتى تجيء العصافير فتقع على ظهره ما تحسب إلا أنه جذم حائط
অর্থ: "হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রা. যখন সেজদা করতেন (তখন তা এত লম্বা ও গভীর হত যে,) পাখী এসে তার পিঠকে দেওয়ালের অংশ মনে করে তার পিঠে বসে যেত।"
📄 জাহান্নামের ভয়
উবায়দুল্লাহ বিন ছাওর আতিকী রহ. তার এক ছাত্রের সূত্রে বর্ণনা করেন:
ان مالك بن دينار قام فى الليل يصلى فأخذ بلحيته فقال : ارحم شيبتي من النار فلم يزل في هذا حتى طلع عمود الفجر
অর্থ: "হযরত মালেক বিন দীনার রহ. এক রাতে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করেন। অতঃপর তিনি নিজের দাড়ি ধরে বলেন : ارحم شيبتى من النار অর্থ : “হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে আমার বার্ধক্যের উপর রহম করুন। (বর্ণনাকারী বলেন,) ভোরের উজ্জ্বলতা উদয় হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবে বলতে থাকেন।"
📄 তাহাজ্জুদ ও ইবাদতে বাড়াবাড়ি না করা
হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত আছে, একদা নবীজী বাঁধা একটি রশি দেখে জিজ্ঞাসা করেন: মা হাযা? এটা কী? জবাবে লোকেরা বলল: لفلانة تصلى من الليل فاذا غلبت تعلقت : অর্থ: "অমুক মহিলার রশি। তিনি রাতে নামায পড়েন। যখন ঘুম আসে তখন তাতে ঝুলে পড়েন (যাতে ঘুম ভেঙে যায়)। নবীজী রশি বাঁধার কারণ জেনে বলেন: فلتصل ما عقلত فاذا غلبت فلتنم - অর্থ: "মহিলার উচিত হলো, রশিটি খুলে ফেলা, যা সে বেঁধে রেখেছে। বেশি ঘুম এলে ঘুম পাড়াই উচিত। (কেননা নফস এবং শরীরেরও হক রয়েছে।)"
ফায়েদা: এই ভদ্র মহিলা ছিলেন হযরত যয়নব রা.। মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হয় যে, এটা হযরত যয়নব রা.-এর রশি, যা দুই পিলারের মাঝে বেঁধে রাখা ছিল। যখন তিনি নামায পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যেতেন এবং তার ঘুম পেত, তখন তিনি ঐ রশি ধরে ঝুলতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রশির কাহিনী জেনে বলেন: حلوه ليصل احدكم نشاطه فاذا كسل او فتر قعد وفي حديث زهير : فليقعد অর্থ: "তা খুলে ফেল। তোমাদের যে কেউ নফল পড়ে, সে যেন উদ্যমতা ও প্রফুল্লতার সাথে পড়ে। যখন ক্লান্ত হয়ে যায় তখন বসে পড়বে অর্থাৎ তখন আর নামায পড়বে না; বরং আরাম করে নিবে।"⁵⁷
টিকাঃ
৫৭. মুসলিম, ১: ২৬৬।
📄 নবীজীর তাহাজ্জুদের আমল
সাদ বিন হিশাম আনসারী রহ. বলেন, আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাহাজ্জুদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান: কান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযা সাল্লাল ইশা আল আখেরা তাজুয বেরকাআতাইনি ফিনাম ফিয়াযিউ ইন্দা রাআসিহি সাওয়াকাহু ওয়া তুহুরহু ফাইয়াকুমু ফায়াতাসাওয়াকু ওয়া ইয়াতাওয়াজ্জাউ ছুম্মা ইয়াতাজাওয়াজু রাকাআতাইনি ছুম্মা ইয়াকুমু ফায়ুসাল্লী ছামান রাকআতান ইয়াসওয়ী বাইনাহুন ফি আল কিরাআতি, ওয়া ইউতিরু বিততাসিআতি, ইউসাল্লী রাকাআতাইনি ওয়া হুয়া জালিস ফালমা আসান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া আখা-যুহু আল লাহমু জায়াল তিলাকা আছছুমান সিত্ত রাকআত, ওয়া ইউতিরু বিসসাবিআতি ওয়া ইউসাল্লী রাকাআতাইনি ওয়া হুয়া জালিস ইয়াকরাউ ফিহা বিকুল ইয়া আইয়্যুহা আল কাফিরুন ওয়া ইযা ঝুলঝিলাত-
অর্থ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায শেষে দুই রাকাত নফল পড়তেন। এরপর ঘুম পড়তেন। মিসওয়াক এবং ওজুর পানি শিয়রে রাখতেন। রাতে উঠে মেসওয়াক, ওজু ইত্যাদি করে সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত নামায পড়তেন। পরে আট রাকাত পড়তেন। এর মধ্যে কেরাতের মাত্রা সমান হত। নবম রাকাতকে বেজোড় বানাতেন। এরপর দুই রাকাত বসে পড়তেন। যখন নবীজীর বয়স বেশি হয় এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে যায় তখন তিনি আট রাকাতের পরিবর্তে ছয় রাকাত পড়েন এবং সপ্তম রাকাত বেজোড় পড়তেন। এরপর দুই রাকাত বসে পড়তেন। এ নামাযে সবসময় সূরা যিলযাল এবং সূরা কাফিরুন পড়তেন।" -তহাবী