📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 উম্মতের জন্য নবীজীর সুপারিশ

📄 উম্মতের জন্য নবীজীর সুপারিশ


হযরত আবু যর গিফারী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যে, তিনি সকাল পর্যন্ত নামাযে একই আয়াত বারবার পড়তে থাকেন। রুকু-সেজদাতে গিয়েও আয়াতটি পড়েন। আয়াতটি হলো:
إِنْ تُعَذِّبُهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ .

অর্থ: যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনার ক্ষমতাও পরিপূর্ণ এবং হিকমতও পরিপূর্ণ।⁵⁴

হযরত আবু যর রা. বলেন, আমি বললাম: يا رسول الله ما زلت تردد هذه الآية حتى اصبح ؟ অর্থ: "হে আল্লাহর রাসূল! ব্যাপার কী যে, আপনি সকাল পর্যন্ত এই এক আয়াত বারবার পড়তে থাকেন?" জবাবে নবীজী বলেন: انى سألت ربى الشفاعة لامتى فاعطانيها وهى نائلة من لا يشرك بالله شيئا -

অর্থ: "আমি আমার প্রভুর কাছে স্বীয় উম্মতের জন্য সুপারিশের অধিকার প্রার্থনা করেছি। তিনি আমাকে তা প্রদান করেছেন। এই শাফায়াত প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি লাভ করবে, যে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না।"

টিকাঃ
৫৪. সূরা মায়িদা: ১১৮।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 হযরত উমর রা.-এর বাণী

📄 হযরত উমর রা.-এর বাণী


হিশাম বিন উরওয়া বলেন, হযরত উমর রা. একটি তাত্ত্বিক কথা বলেছেন। তিনি প্রায় বলতেন:
اذا رأيتم الرجل يضيع الصلوة فهو والله لغيرها من حق الله أشد تضييعا -

অর্থ: "যখন তোমরা কাউকে দেখ যে, সে নামায বিনষ্ট করছে অর্থাৎ নামায পড়ছে না, তাহলে আল্লাহর কসম! সে আল্লাহর হক থেকে অন্যদের হক অধিক বিনষ্টকারী হবে।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 নামাযে উদাসীনতার পরিণতি

📄 নামাযে উদাসীনতার পরিণতি


বুদাইল বিন মায়সালা বলেন:
ان الرجل اذا صلى الصلوة لا يتم ركعوعها ولا سجودها تلف كما يلف الرداء ثم يضرب بها وجهه -

অর্থ: "যে ব্যক্তি নামায পড়ে কিন্তু রুকু-সেজদা ঠিকমত করে না তার নামাযকে চাদরের মত গুটানো হয় অতঃপর তা নামাযীর মুখে ছুঁড়ে মারা হয় অর্থাৎ এমন নামায কবুল হয় না।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 নামায দাঁড়িপাল্লা স্বরূপ

📄 নামায দাঁড়িপাল্লা স্বরূপ


সালেম বিন যা'দ বলেন, হযরত সালমান ফারসী রা. বলতেন:
الصلوة مكيال فمن أوفى أوفى له، ومن طفف فقد علمتم ما قال الله في المطففين -

অর্থ: "নামায দাঁড়িপাল্লা স্বরূপ। যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে, আল্লাহ তাকে পূর্ণ সওয়াব প্রদান করবেন। আর যে ব্যক্তি নামাযে কমতি রাখবে, তাহলে তোমরা জান যে, আল্লাহ তা'আলা মাপে কমকারীদের সম্বন্ধে কী বলেছেন।"

ফায়েদা: মাপে কম দেওয়া সম্পর্কে আল্লাহ পাক একটি সূরা নাযিল করেছেন। সে সূরার নাম: সূরা মুতাফফিফীন। এ সূরার প্রথম দিকে আল্লাহ এক শ্রেণীর লোকের বর্ণনা দিয়েছেন, যারা অন্যের থেকে নিজের প্রাপ্য উসূল করার ব্যাপারে বড়ই তৎপর থাকে, একটুও সময় দেয় না এবং মাপেও কোনো ছাড় দেয় না; পূর্ণমাত্রায় মেপে নেয়। কিন্তু অন্যের হক দেওয়ার বেলায় গড়িমসি করে এবং মাপেও হেরফের করে। আল্লাহ পাক এমন লোকদেরকে সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। এ সতর্কবাণী কেবল মাপের সাথেই সম্পৃক্ত নয়; বরং যে কোনো হকই এর আওতাভুক্ত। মাপে কম দেয়া সম্পর্কিত আয়াতগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ . অর্থ: (১) বহু দুঃখ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়।
الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ - (2) : যারা মানুষের নিকট থেকে যখন মেপে নেয়, পূর্ণমাত্রায় নেয়।
وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ - (৩) : মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কমিয়ে দেয়।⁵⁵

টিকাঃ
৫৫. সূরা মুতাফফিফীন: ১-৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px