📄 ইমাম তাউসের তাহাজ্জুদ
দাউদ বিন ইব্রাহীম বলেন, একবার হজ্জের উদ্দেশে চলা এক কাফেলার রাস্তায় বাঘ এসে পড়ে এবং কাফেলার যাত্রায় বাধ সাধে। মানুষ বাঘের ভয়ে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে। শেষ রাতে বাঘ চলে গেলে মানুষ স্বস্তি পায় এবং তারা প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু ইমাম তাউস রহ. নামায পড়তেই থাকেন। তার পুত্র তাকে বলেঃ الا تنام قد نصبت الليل؟ অর্থ: "আপনার সারা রাত ক্লান্তিতে কেটেছে, একটু ঘুমাবেন না?" জবাবে ইমাম তাউস রহ. বলেন :ও من ينام السحر؟ অর্থ: "ভোর রাত্রে ঘুমায় কে?" অর্থাৎ এটা ইবাদতের মোক্ষম সময়, এ সময়ে ঘুমানো উচিত নয়।
📄 উম্মতের জন্য নবীজীর সুপারিশ
হযরত আবু যর গিফারী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যে, তিনি সকাল পর্যন্ত নামাযে একই আয়াত বারবার পড়তে থাকেন। রুকু-সেজদাতে গিয়েও আয়াতটি পড়েন। আয়াতটি হলো:
إِنْ تُعَذِّبُهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ .
অর্থ: যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনার ক্ষমতাও পরিপূর্ণ এবং হিকমতও পরিপূর্ণ।⁵⁴
হযরত আবু যর রা. বলেন, আমি বললাম: يا رسول الله ما زلت تردد هذه الآية حتى اصبح ؟ অর্থ: "হে আল্লাহর রাসূল! ব্যাপার কী যে, আপনি সকাল পর্যন্ত এই এক আয়াত বারবার পড়তে থাকেন?" জবাবে নবীজী বলেন: انى سألت ربى الشفاعة لامتى فاعطانيها وهى نائلة من لا يشرك بالله شيئا -
অর্থ: "আমি আমার প্রভুর কাছে স্বীয় উম্মতের জন্য সুপারিশের অধিকার প্রার্থনা করেছি। তিনি আমাকে তা প্রদান করেছেন। এই শাফায়াত প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি লাভ করবে, যে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না।"
টিকাঃ
৫৪. সূরা মায়িদা: ১১৮।
📄 হযরত উমর রা.-এর বাণী
হিশাম বিন উরওয়া বলেন, হযরত উমর রা. একটি তাত্ত্বিক কথা বলেছেন। তিনি প্রায় বলতেন:
اذا رأيتم الرجل يضيع الصلوة فهو والله لغيرها من حق الله أشد تضييعا -
অর্থ: "যখন তোমরা কাউকে দেখ যে, সে নামায বিনষ্ট করছে অর্থাৎ নামায পড়ছে না, তাহলে আল্লাহর কসম! সে আল্লাহর হক থেকে অন্যদের হক অধিক বিনষ্টকারী হবে।"
📄 নামাযে উদাসীনতার পরিণতি
বুদাইল বিন মায়সালা বলেন:
ان الرجل اذا صلى الصلوة لا يتم ركعوعها ولا سجودها تلف كما يلف الرداء ثم يضرب بها وجهه -
অর্থ: "যে ব্যক্তি নামায পড়ে কিন্তু রুকু-সেজদা ঠিকমত করে না তার নামাযকে চাদরের মত গুটানো হয় অতঃপর তা নামাযীর মুখে ছুঁড়ে মারা হয় অর্থাৎ এমন নামায কবুল হয় না।"