📄 ইশার ওজু দ্বারা ফরজ পড়া
আব্দুর রায্যাক রহ. বলেন, আমি স্বীয় পিতাকে বলতে শুনেছি:
كان وهب ربما صلى الصبح بوضوء العشاء ও كان يقول : ما أحدثت لرمضان شيئا قط
অর্থ: "ওহাব বিন মুনাব্বেহ (যিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও বুযুর্গ ছিলেন) বেশির ভাগ সময় ইশার ওজু দ্বারা ফজরের নামায পড়তেন। তিনি নিজেই বলতেন : ما احدث لرمضان شيئا قط আমি রমযানে কোনো নতুন আমল করি না। অর্থাৎ রমযান ও গায়রে রমযানে সবসময় আমার মামুল একই থাকে।
ফায়েদা : ইবাদতের ক্ষেত্রে বড়দের রমযান-গায়রে রমযান সমান ছিল। তারা রমাযানেও যেমন বেশি ইবাদত করতেন, তেমনি গায়রে রমযানেও বেশি বেশি ইবাদত করতেন। এমন হত না যে, রমযানে বেশি ইবাদত করতেন আর অন্য সময়ে কম করতেন; বরং সবসময় সমান তথা বেশি ইবাদত করতেন।
📄 রাতভর এক রাকাতও শেষ না হওয়া
আমর বিন উতবা সম্পর্কে তার পরিবারের কোনো এক মহিলা বর্ণনা করেন যে, আমর বিন উতবা মসজিদে নফল নামায পড়তেন না। এক রাতে তিনি মসজিদে ইশার নামায পড়ে ঘরে আসেন এবং তাহাজ্জুদ নামাযে লিপ্ত হয়ে যান। যখন তেলাওয়াত করতে করতে এই আয়াতে পৌছন :
وَانْذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ
অর্থ: “(হে রাসূল!) তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিনের বিষাদ সম্পর্কে, যখন বেদম কষ্টে মানুষের কলিজা মুখে এসে যাবে।”⁵³ তখন কাঁদতে থাকেন। কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। আল্লাহ পাক যতক্ষণ চান ঐ অবস্থায় থাকেন। পরে কিছুটা হুঁশ ফিরে এলে আবার দাঁড়িয়ে ঐ আয়াত বারবার পড়তে থাকেন। আবার কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যান। এভাবে চলে সকাল পর্যন্ত। এতে করে না কোনো নামায পুরো হয়, না এক রাকাতও শেষ হয় অর্থাৎ পুরো রাত নামায পড়েও এক রাকাত শেষ হয় না।
টিকাঃ
৫৩. সূরা মু'মিন: ১৮।
📄 জুমুআর দিন পুরো রাত তাহাজ্জুদ পড়া
হিশাম বিন যিয়াদ তার ভাই আলা বিন যিয়াদের আখেরাতের ভয় ও রাতের ইবাদত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- "আলা বিন যিয়াদ একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল লোক ছিলেন। প্রতি জুমুআর রাতে তিনি রাতভর তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন। এক রাতে অলসতাবশত ঘুমিয়ে যান এবং তার কন্যাকে বলে রাখেন, এতটা বাজলে আমাকে ডেকে দিও। মেয়ে বলে, ঠিক আছে। এক ব্যক্তি স্বপ্নে তার কাছে আসে এবং তার কপালের চুল ধরে বলে: يا ابن زياد! قم فاذكر الله يذكرك অর্থ: "হে ইবনে যিয়াদ! ওঠ। আল্লাহকে স্মরণ কর, তাহলে আল্লাহও তোমাকে স্মরণ করবেন।" বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার সেই চুলগুলো খাড়াই থাকে।
📄 প্রতিদিন ৪০০ রাকাত নামায আদায়
সিয়ার বিন হাতেম রহ. বলেন, যিয়ামের প্রতিদিনের মামুল ছিল ৪০০ রাকাত নামায পড়া। আমি বেশির ভাগ তার কাছে গেলে তার বাঁদী বলত: هر في طحينه لم يفرغ منه بعد অর্থ: "তিনি নিজের যাতা পেষণের কাজে লিপ্ত আছেন; এখনও ফারেগ হননি।"