📄 মধ্যরাতে নবীজীর তিন দোয়া
হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যরাতে তিনটি দোয়া করতেন। যথা-
১. نامت العيون وغارت النجوم ও انت الحى القيوم لا يوارى منك ليل ساج ولا سماء ذات ابراج ولا ارض ذات مهاد ولا بحر لجى ولا ظلمات بعضها فوق بعض تعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور – অর্থ: “চোখ ঘুমিয়ে পড়েছে। তারকারাজি অস্ত গেছে। তুমি চিরঞ্জীব, চির অধিষ্টাতা। তোমার থেকে না ধীরে ধীরে আগত রাত গোপন, না বুরুজবিশিষ্ট আসমান, না বিস্তৃত জমিন তোমার নজর থেকে গোপন আছে। গোপন নেই ঐ গভীর সমুদ্র, যার অন্ধকার একের পর এক। তুমি দৃষ্টির খেয়ানত সম্পর্কে জান এবং অন্তরের গোপনীয়তা সম্পর্কে অবহিত।"
২. اللهم انى اشهد لك بما شهدت به على نفسك ও شهدت به ملائكتك وانبيائك ও أولو العلم ও من لم يشهد بما شهدت به فاكتب شهادتی مکان شهادته، انت السلام ও منك السلام تباركت ذا الجلال والاكرام - অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সেই সাক্ষ্য দিচ্ছি, যা তুমি স্বয়ং নিজের সত্ত্বার উপর দিয়েছ। তোমার সঙ্গে তোমার ফেরেশতারা সে সাক্ষ্য দিয়েছে। তোমার নবীগণ এবং জ্ঞানীগণ দিয়েছেন। আর যারা সাক্ষ্য দেয়নি তুমি আমার সাক্ষ্যকে তাদের সাক্ষ্যের স্থলাভিষিক্ত কর। নিশ্চয় তুমিই শান্তি, শান্তি তোমার পক্ষ হতেই আসে। হে মর্যাদা ও সম্মানের অধিপতি, তুমি বড়ই বরকতময়।”
৩. اللهم انى اسئلك فكاك رقبتي من النار অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে আমার গর্দানকে জাহান্নাম হতে মুক্তির আবেদন পেশ করছি।”
📄 বিতর নামাযে দোয়া
হযরত আলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে ঘুম থেকে উঠতেন, তখন মিসওয়াক করতেন এবং এই আয়াত পড়তেন:
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَ النَّهَارِ لَآيَاتٍ للأُولَى الْأَلْبَابِ
অর্থ: নিশ্চয় আসমান-জমিনের সৃষ্টি ও রাত-দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।⁵¹
হযরত আলী রা. আরও বলেন, নবীজী শেষ রাতে বিতর পড়তেন। বিতর নামাযে তিনি এভাবে দোয়া করতেন:
اللهم اجعل في بصرى نورا ومن خلفى نورا ومن تحتى نورا ومن فوقی নورا ও من يميني নورا واعطنى نورا -
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার চোখে নূর দেন। পেছনে নূর দেন। নীচে নূর দেন। উপরে নূর দেন। ডানে নূর দেন। আমাকে নূর প্রদান করুন।"
টিকাঃ
৫১. সূরা আলে ইমরান: ১৯০।
📄 তাহাজ্জুদ ফরজ হওয়ার আশঙ্কা
হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে হযরত আয়েশা রা. নবীজীর পেছনে সাহাবীদের তাহাজ্জুদ পড়ার প্রেরণার নজিরবিহীন ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في بعض حجره فراه ناس، فجاءوا فصلوا بصلاته من وراء الحجاب فلما كانت الليلة الثانية فعلوا مثل ذلك حتى فعلوا ثلاث ليال فلما كانت الليلة الرابعة لم يصل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكانه ذلك فلما أصبحوا قالوا : يا رسول الله، انتظرناك رجاء ان تخرج فقال : انى خشيت ان يكتب عليكم قيام الليل -
অর্থ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর কোনো এক কামরায় তাহাজ্জুদ নামায পড়েন। কতিপয় সাহাবী নবীজীকে নামায পড়তে দেখে তারাও এসে পর্দার আড়াল হতে নামাযে শরীক হন। দ্বিতীয় রাতেও এমনটি ঘটে। তিন রাত পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকে। চতুর্থ রাতে নবীজী ঐ নির্দিষ্ট স্থানে নামায পড়েন না। সকালে লোকজন বলে, হুজুর! রাতে আমরা আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। আশা ছিল আপনি বাইরে তাশরীফ আনবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
-انى خشيت ان يكتب عليكم قيام الليل
অর্থ: "আমার আশঙ্কা হয় যে, তোমাদের উপর তাহাজ্জুদ যেন আবার ফরজ না করা হয়। অর্থাৎ আমার ভয় হয় যে, তোমরা যেভাবে আগ্রহ নিয়ে প্রতিদিন তাহাজ্জুদ পড়ছ, তাতে আল্লাহ এই নামায তোমাদের উপর ফরজ করে দিবেন। আর ফরজ হয়ে গেলে তোমরা সমস্যায় পড়বে। তাই আমি নামায পড়তে বাইরে আসিনি।"
📄 নবীজীর রাতের আমল
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. নবীজীর রাতের আমল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরো ঘটনা নিজের ভাষায় প্রকাশ করেছেন। বাংলায় তা নিম্নরূপ-
"আমার পিতা যাকাতের উট দিয়ে আমাকে নবীজীর কাছে পাঠান। আমি নবীজীর কাছে গেলে ঘটনাক্রমে সে রাতটি ছিল হযরত মায়মুনা রা.- এর পালা। তিনি আমার খালা ছিলেন। এই সুবাদে আমি তার বাড়িতে রাত যাপন করার সুযোগ পাই।
নবীজী ইশার সময় মসজিদে গিয়ে নামায পড়েন। নামায পড়ে ঘরে এসে জামা খুলে হযরত মায়মুনা রা.-এর সঙ্গে একই বিছানায় শুয়ে পড়েন। আমিও জামা খুলে তা বিছিয়ে শুয়ে পড়ি। আমি মনে মনে বলি, নবীজীর রাতের আমল না দেখা পর্যন্ত ঘুমাব না।
নবীজী এক সময় ঘুমিয়ে যান। নাক ডাকার শব্দ আসে। খানিক রাত এভাবে পার হয়ে যায়। এরপর নবীজী ঘুম থেকে উঠে বাইরে যান এবং পেশাব করেন। মুখ বাঁধা এক মশকের কাছে গিয়ে তার মুখ খুলে তা হতে অল্প অল্প পানি নিয়ে ওজু করেন। আমার মনে চাইল, উঠে গিয়ে নবীজীর ওজুর পানি ঢেলে দিই। কিন্তু এই আশঙ্কায় উঠি না যে, হয়ত উঠে পড়লে তিনি আমার উপস্থিতিতে রাতের কোনো আমল বাদ দিবেন! এই ভেবে আমি শুয়েই থাকি। পরে নবীজী নামাযে দাঁড়িয়ে যান। আমিও উঠে পড়ি। নবীজী যা যা করেছেন তা করে নবীজীর বাম পাশে এসে দাঁড়াই। নবীজী হাত বাড়িয়ে আমাকে ডান পাশে এনে দাঁড় করান। সেদিন নবীজী ১৩ রাকাত নামায পড়েন (যার মধ্যে ১০ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকত বিতর ছিল)। এরপর হযরত বেলাল রা. এসে ফজরের আজান দিলে নবীজী দাঁড়িয়ে দুই রাকাত ফজরের সুন্নত আদায় করেন।"