📄 দাউদী নামায সর্বোত্তম নামায
আমর বিন আউস হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
خير الصيام صيام داود كان يصوم نصف الدهر ও خير الصلوة صلوة داود كان يرقد نصف الليل الأول ও يصلى اخر الليل حتى إذا بقى سدس الليل رقده -
অর্থ: "সর্বোত্তম রোযা দাউদী রোযা। তিনি অর্ধবছর রোযা রাখতেন। সর্বোত্তম নামায দাউদী নামায। তার অভ্যাস ছিল প্রথম অর্ধরাতে আরাম করতেন আর শেষ অর্ধেকে নামায পড়তেন। রাতের শেষ যষ্টাংশ হলে আবার কিছু সময়ের জন্য ঘুমুতেন।"
ফায়েদা: অর্ধ বছর রোযা রাখার অর্থ হলো, তিনি এক দিন রোযা রাখতেন আর একদিন রাখতেন না। এভাবে পুরো বছর পার করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা মোতাবেক নফল রোযা ও নফল নামাযের উত্তম ও ভারসাম্যপূর্ণ তরিকা হলো হযরত দাউদ আ.- এর তরিকা। এতে সবদিক রক্ষা হয়।
📄 বিশ বছর ইশার ওজু দ্বারা ফজর নামায পড়া
হুশাইম মানসূর বিন যাজানের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
سنة مكث منصور بن زاذان يصلى الفجر بوضوء العشاء الآخرة عشرين
অর্থ: "মানসূর বিন যাজান মৃত্যুর পূর্বে বিশ বছর পর্যন্ত ইশার ওজু দ্বারা ফজরের নামায পড়েছেন।" হুশাইমের ছাত্র আমর বিন আউন হুশাইমের অবস্থাও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ও مكث هشيم يصلى الفجر بوضوء عشاء الآخرة قبل ان يموت عشر سنين -
অর্থ: "হুশাইমও মৃত্যুর পূর্বে বিশ বছর ধরে ইশার ওজু দ্বারা ফজরের নামায পড়েছেন। অর্থাৎ তারা পুরো রাত ইবাদত-বন্দেগীতে কাটিয়েছেন।"
📄 তাহাজ্জুদ নামায শেষে নবীজীর দোয়া
জুবাইর বিন মুতঈম তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন:
انه رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى فكبر فقال : الله اكبر كبيرا ثلاث مرار ও الحمد لله كثيرا ثلاث مرار ও سبحان الله بكرة ও اصيلا ثلاث مرار اللهم انى اعوذ بك من الشيطان الرجيم من همزه ও نفثه ও نفثه -
অর্থ: "তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায (তাহাজ্জুদ) পড়তে দেখেছেন। নামায শেষে নবীজী তাকবীর দিয়ে ৪টি আমল করতেন। যথা-
(১) তিনবার الله اكبر كثيرًا বলতেন।
(২) তিনবার الحمد لله كثيرًا বলতেন।
(৩) তিনবার سبحان الله بكرة ও اصيلا বলতেন।
(৪) একবার বলতেন: اللهم انى اعوذ بك من الشيطان الرجيم من همزه ও نفحه ও নفته অর্থ: "হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে তার কুমন্ত্রণা, অহংকার এবং জাদু হতে পানাহ চাচ্ছি।"
📄 মধ্যরাতে নবীজীর তিন দোয়া
হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যরাতে তিনটি দোয়া করতেন। যথা-
১. نامت العيون وغارت النجوم ও انت الحى القيوم لا يوارى منك ليل ساج ولا سماء ذات ابراج ولا ارض ذات مهاد ولا بحر لجى ولا ظلمات بعضها فوق بعض تعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور – অর্থ: “চোখ ঘুমিয়ে পড়েছে। তারকারাজি অস্ত গেছে। তুমি চিরঞ্জীব, চির অধিষ্টাতা। তোমার থেকে না ধীরে ধীরে আগত রাত গোপন, না বুরুজবিশিষ্ট আসমান, না বিস্তৃত জমিন তোমার নজর থেকে গোপন আছে। গোপন নেই ঐ গভীর সমুদ্র, যার অন্ধকার একের পর এক। তুমি দৃষ্টির খেয়ানত সম্পর্কে জান এবং অন্তরের গোপনীয়তা সম্পর্কে অবহিত।"
২. اللهم انى اشهد لك بما شهدت به على نفسك ও شهدت به ملائكتك وانبيائك ও أولو العلم ও من لم يشهد بما شهدت به فاكتب شهادتی مکان شهادته، انت السلام ও منك السلام تباركت ذا الجلال والاكرام - অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সেই সাক্ষ্য দিচ্ছি, যা তুমি স্বয়ং নিজের সত্ত্বার উপর দিয়েছ। তোমার সঙ্গে তোমার ফেরেশতারা সে সাক্ষ্য দিয়েছে। তোমার নবীগণ এবং জ্ঞানীগণ দিয়েছেন। আর যারা সাক্ষ্য দেয়নি তুমি আমার সাক্ষ্যকে তাদের সাক্ষ্যের স্থলাভিষিক্ত কর। নিশ্চয় তুমিই শান্তি, শান্তি তোমার পক্ষ হতেই আসে। হে মর্যাদা ও সম্মানের অধিপতি, তুমি বড়ই বরকতময়।”
৩. اللهم انى اسئلك فكاك رقبتي من النار অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে আমার গর্দানকে জাহান্নাম হতে মুক্তির আবেদন পেশ করছি।”