📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 নবীজীর তাহাজ্জুদ রীতি

📄 নবীজীর তাহাজ্জুদ রীতি


হযরত সফওয়ান বিন মুআততাল রা. নবীজীর তাহাজ্জুদ রীতির নাতিদীর্ঘ বিবরণ দিয়েছেন। নিজের চোখে দেখা নবীজীর রাতের আমল প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء الآخرة ثم نام حتى اذا كان نصف الليل استيقظ فتلا هذه الآيات العشر من سورة ال عمران ও اخذ سواكا يتسوك به ثم توضأ قام فصلى ركعتين لا ادرى اقيامه او ركوعه او سجوده أطول ثم نام ثم استيقظ فتلا ايات ثم تسوك ثم توضأ ثم قام ففعل كما فعل اول مرة، ثم لم يزل ينام ثم يصلى ركعتين يفعل ذلك في كل ركعتين مثل ما فعل في الأولين حتى صلى احدى عشرة ركعة

অর্থ : "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি ইশার নামায পড়ে শুয়ে যান। অর্ধরাত পেরিয়ে গেলে তিনি জাগ্রত হয়ে সূরা আলে ইমরানের দশ আয়াত তেলাওয়াত করেন। এরপর মেসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজেন, ওজু করেন এবং দুই রাকাত নামায পড়েন। আমি বলতে পারি না যে, তাঁর কিয়াম বেশি লম্বা ছিল নাকি রুকু নাকি সেজদা? অতঃপর কিছুক্ষণ আরাম করেন। পরে আবার জাগ্রত হয়ে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করেন, মেসওয়াক করেন, ওজু করেন। এরপর দাঁড়িয়ে পূর্বের মত দুই রাকাত নামায পড়েন। এরপর প্রতি দুই রাকাত নামায পড়ে কিছুক্ষণ আরাম করেন এবং উঠে পূর্বের মত দুই রাকাত নামায পড়েন। এভাবে মোট এগারো রাকাত হয়। (যার ৮ রাকাত ছিল তাহাজ্জুদ আর তিন রাকাত ছিল বিতর।)"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আব্দুল্লাহ বিন রওহার নামায

📄 আব্দুল্লাহ বিন রওহার নামায


আব্দুর রহমান বিন আবু লায়লা বলেন, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন রওহা রা.-এর শাহাদাতের পরে তার স্ত্রীকে আরেক সাহাবী বিবাহ করেন। সাহাবী তার স্ত্রীকে বলেন, আমি তোমাকে যৌনকামনা পূরণের জন্য বিবাহ করিনি; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো, এটা জানা যে, আব্দুল্লাহ বিন রওহা বাড়িতে এসে কী আমল করতেন? হতে পারে আমি তার অনুসরণ করে কৃতকার্য হব। স্ত্রী জবাবে বলেন, তিনি বাড়িতে পাঁচটি কাজ করতেন। যথা-

১. صلى صلاة كان إذا توضأ 'তাহিয়‍্যাতুল ওজু' নামায পড়তেন।
২. ও إذا دخل بيته صلى বাড়িতে প্রবেশমাত্রই নামায পড়তেন।
৩. ও اذا خرج من بيته الى حجرته صلى তিনি বাড়ি হতে বেরিয়ে নিজের কামরায় গিয়েই নামায পড়তেন।
৪. ও اذا رجع صلى في الحجرة কামরা হতে বের হয়ে আবার নামায পড়তেন।
৫. ও إذا دخل بيته صلى في بيته বাড়িতে এসেই আবার নামায পড়তেন।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 নামাযের সময়ে যাত্রাবিরতি করায় দোয়া

📄 নামাযের সময়ে যাত্রাবিরতি করায় দোয়া


হযরত সালেম বিন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
رحم الله عبد الله بن رواحة كان ينزل فى السفر عند وقت كل صلوة
অর্থ: "আল্লাহ তা'আলা আব্দুল্লাহ বিন রওহার উপর রহমত নাযিল করুন। সফরের মাঝে নামাযের সময় হলে তিনি যাত্রাবিরতি করতেন (এবং নামায পড়ে নিতেন)।"

ফায়েদা: সফর অবস্থায় মুসাফিরের লক্ষ্য থাকে পথে যাত্রাবিরতি যতদূর সম্ভব কম করে দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছা। সফরে সময় বাঁচানোর জন্য দুই ওয়াক্ত নামায এক সময়ে পড়ার অনুমতিও আছে। তবে নামাযের প্রতি গুরুত্বের দাবী হলো, প্রত্যেক নামাযের সময়ে যাত্রাবিরতি করে নামায পড়া। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রওহা রা.-এর আমলও এমন ছিল। নবীজী তাঁর এই আমল সমর্থন করেছেন এবং এর জন্য তাকে 'রহমতের দোয়া' দিয়েছেন।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদের জন্য স্ত্রীকে জাগ্রত করার ফযিলত

📄 তাহাজ্জুদের জন্য স্ত্রীকে জাগ্রত করার ফযিলত


হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. এবং হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
من استيقظ من الليل ও ايقظ امرأته فصليا ركعتين جميعا كتبا من الذاكرين كَثِيرًا وَ الذكرات
অর্থ: "যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জাগে এবং তার স্ত্রীকেও জাগ্রত করে অতঃপর উভয়ে দুই রাকাত (তাহাজ্জুদ) নামায পড়ে, তাহলে অধিক জিকিরকারী পুরুষ এবং অধিক জিকিরকারী নারীর তালিকায় তাদের নাম লেখা হয়।"

ফন্ট সাইজ
15px
17px