📄 প্রতিদিন ১০০০ রাকাত নামায
ইব্রাহীম বিন বাশশার বলেন, আমি আবু সুলাইমানকে বলতে শুনেছি:
كان عامر بن عبد الله يصلى كل يوم الف ركعة ثم يقبل على نفسه فيقول : يا مأوى كل سوء أما والله لأردنك الى زحف البعير
অর্থ: "আমের বিন আব্দুল্লাহ প্রতিদিন ১০০০ রাকাত নামায পড়তেন অতঃপর নিজের নফসকে সম্বোধন করে বলতেন: হে সকল মন্দের উৎস! আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আমি তোমাকে অবশ্যই ক্লান্ত উটের দিকে ফিরাব অর্থাৎ তোমাকে ক্লান্তিতে চুর চুর করব।"
📄 নামাযী ব্যক্তির পুরস্কার
হযরত সুফিয়ান রহ. আব্বাদ বিন কাছীর রহ. হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নামাযী ব্যক্তি তিনটি পুরস্কার লাভ করে। যথা-
১. تحف به الملائكة من قدمه الى عنان السماء - অর্থ: ফেরেশতারা তার পা থেকে আসমান পর্যন্ত বেষ্টন করে।
২. ও يتناثر عليه البر من عنان السماء الى مفرق رأسه অর্থ: আসমান থেকে নিয়ে মুসল্লির মাথা পর্যন্ত অঝোর ধারায় কল্যাণ বর্ষিত হতে থাকে।
৩. ও ينادى مناد : لو يعلم المصلى من يناجى ما انفتل - অর্থ: এক ঘোষক ঘোষণা করে, মুসল্লি যদি জানত যে, সে কার সঙ্গে আলাপন করছে, তবে তার মন এদিক-ওদিক যেত না।
📄 আবেদদের গনীমত
সুলাইমান তাইনী রহ. হযরত আবু উসমান রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত উমর রা. বলেছেন : الشتاء غنيمة العابدین
অর্থ: "শীতকাল আবেদদের জন্য গনীমত।" কারণ হলো, শীতকালে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়। ফলে দিনে সহজে রোযা রাখা এবং রাতে বেশি ইবাদত করার সুযোগ মেলে, যে সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগান আবেদগণ। তাই শীতকাল তাদের জন্য বিরাট গনীমত।
📄 নবীজীর তাহাজ্জুদ রীতি
হযরত সফওয়ান বিন মুআততাল রা. নবীজীর তাহাজ্জুদ রীতির নাতিদীর্ঘ বিবরণ দিয়েছেন। নিজের চোখে দেখা নবীজীর রাতের আমল প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء الآخرة ثم نام حتى اذا كان نصف الليل استيقظ فتلا هذه الآيات العشر من سورة ال عمران ও اخذ سواكا يتسوك به ثم توضأ قام فصلى ركعتين لا ادرى اقيامه او ركوعه او سجوده أطول ثم نام ثم استيقظ فتلا ايات ثم تسوك ثم توضأ ثم قام ففعل كما فعل اول مرة، ثم لم يزل ينام ثم يصلى ركعتين يفعل ذلك في كل ركعتين مثل ما فعل في الأولين حتى صلى احدى عشرة ركعة
অর্থ : "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি ইশার নামায পড়ে শুয়ে যান। অর্ধরাত পেরিয়ে গেলে তিনি জাগ্রত হয়ে সূরা আলে ইমরানের দশ আয়াত তেলাওয়াত করেন। এরপর মেসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজেন, ওজু করেন এবং দুই রাকাত নামায পড়েন। আমি বলতে পারি না যে, তাঁর কিয়াম বেশি লম্বা ছিল নাকি রুকু নাকি সেজদা? অতঃপর কিছুক্ষণ আরাম করেন। পরে আবার জাগ্রত হয়ে কিছু আয়াত তেলাওয়াত করেন, মেসওয়াক করেন, ওজু করেন। এরপর দাঁড়িয়ে পূর্বের মত দুই রাকাত নামায পড়েন। এরপর প্রতি দুই রাকাত নামায পড়ে কিছুক্ষণ আরাম করেন এবং উঠে পূর্বের মত দুই রাকাত নামায পড়েন। এভাবে মোট এগারো রাকাত হয়। (যার ৮ রাকাত ছিল তাহাজ্জুদ আর তিন রাকাত ছিল বিতর।)"