📄 তাহাজ্জুদে দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সেজদা
নবীজীর তাহাজ্জুদ নামায প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে হযরত হুজায়ফা রা. বলেন, একদিন নবীজী তাহাজ্জুদ শুরু করেন। প্রথমে তিনি এই দোয়া পড়েন : الله اكبر ذو الملكوت والجبروت ও الكبرياء ও العظمة
এরপর সূরা বাকারা পড়ে রুকুতে যান। তাঁর রুকু ছিল কিয়ামের মত (লম্বা)।
তিনি রুকুতে বলেন : سبحان ربي العظيم سبحان ربي العظيم
এরপর মাথা তোলেন। রুকুর পরবর্তী কিয়াম ছিল রুকুর মত (লম্বা)। তিনি এ সময়ে দোয়া পড়েন : لربي الحمد لربى الحمد
এরপর তিনি সেজদা করেন। তাঁর সেজদা ছিল রুকু পরবর্তী কিয়ামের মত (লম্বা)।
তিনি সেজদায় পড়েন : سبحان ربی الاعلى، سبحان ربی الاعلى
অতঃপর মাথা তোলেন। দুই সেজদার মাঝে সময় নেন সেজদার মত। তিনি দুই সেজদার মাঝে বসে বলেন:
رب اغفرلی، رب اغفر لی -
এভাবে তিনি চার রাকাত নামায পড়েন। এ চার রাকাতে তিনি পড়েন সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান, সূরা নিসা, সূরা মায়েদা ও সূরা আনআম।
📄 সেজদার ফযিলত
হযরত সাওবান রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
مَا مِنْ عبد سَجد لله سجدة الا رفعه الله بها درجة و حط عنه بها خطيئة.
অর্থ: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করে আল্লাহ এর বদলে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি পাপ মিটিয়ে দেন।"
📄 দাঁড়িয়ে ও বসে তাহাজ্জুদ নামায
হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাকীক উকাইলী রহ. বলেন, আমি হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট নবীজীর নফল নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন:
كان يصلى في بيتي اربعا قبل الظهر، ثم يخرج فيصلي بالناس ثم يدخل بيتي فيصلي ركعتين قالت : و كان يصلى بالليل تسع ركعات فيهن الوتر، و كان يصلى ليلا طويل قائما و ليلا طويلاً قاعدا فاذا قرأ وهو قائم ركع وسجد وهو قائم ও إذا قرأ وهو جالس ركع وسجد جالس ও كان يصلى ركعتين إذا طلع الفجر ثم يخرج فيصلي بالناس
অর্থ: "নবীজী আমার বাসায় জোহরের পূর্বে ৪ রাকাত পড়তেন। এরপর মসজিদে গিয়ে (জোহরের) নামায পড়াতেন। এরপর বাসায় এসে ২ রাকাত নামায পড়তেন। এরপর মসজিদে গিয়ে মাগরিবের নামায পড়াতেন। এরপর বাসায় এসে ২ রাকাত নামায পড়তেন। তিনি রাতে ৯ রাকাত নামায পড়তেন, যার মধ্যে বিতরও থাকত। তিনি রাতে কখনও দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে নামায পড়তেন। আবার কখনও দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে নামায পড়তেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়তেন, রুকু-সেজদা দাঁড়িয়েই করতেন। আর যখন বসে নামায পড়তেন, তখন রুকু-সেজদা বসে করতেন। সুবহে সাদিক হলে তিনি দুই রাকাত (ফজরের সুন্নত) নামায পড়তেন এরপর মসজিদে গিয়ে (ফজরের) নামায পড়াতেন।"
📄 কবরে নামায পড়ার তামান্না
হযরত জা'ফর রহ. বলেন, আমি অনেক বার সাবেত বুনানী রহ.-কে এই দোয়া করতে শুনেছি:
اللهم إن كنت اذنت لأحد ان يصلى فى قبره فأذن لي أن أصلى في قبری -
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যদি কবরে কাউকে নামায পড়ার অনুমতি দেন, তাহলে আমাকে কবরে নামায পড়ার অনুমতি দিবেন।"