📄 তাহাজ্জুদগুজার অন্যায় করতে পারে না
হাসান বিন দাউদ বলেছেন, আমি আবু বকর বিন আইয়াশকে বলতে শুনেছি :
من قام من الليل لم يأت فاحشة، ألا تسمع الى قول الله : إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
অর্থ: যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদ পড়ে সে অন্যায় করতে পারে না। তুমি কী শোননি আল্লাহর কথা:
إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
অর্থ: নিশ্চয় নামায অশ্লীলতা এবং অনুচিত কাজ হতে বাধা দেয়।
টিকাঃ
৫০. সূরা আনকাবুত: ৪৫।
📄 তাহাজ্জুদ পড়লে চেহারা সুন্দর হয়
হযরত যাবের রা. হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من صلى بالليل حسن وجهه بالنهار
অর্থ: "যে রাতে নামায (তাহাজ্জুদ) পড়ে তার চেহারা দিনে সুন্দর হয়।"
📄 তাহাজ্জুদের চাক্ষুষ বর্ণনা
হযরত সাঈদ বিন যুবাইর রহ. হযরত ইবনে আব্বাস রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, হযরত ইবনে আব্বাস রা. একদিন নবীজীর বাড়িতে গিয়ে নিজের চোখে নবীজীর তাহাজ্জুদের আমল দেখেন। তিনি নিজের চোখে দেখা সে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন:
بت عند خالتي ميمونة فصلى رسول الله صلى الله وسلم للعشاء ثم دخل فصلى أربع ركعات ثم نام ثم قام فقال : নাম الْغُلَيمُ ثم قام يصلى فقمت عن يساره فأخذنى فجعلنى عن يمينه فصلى خمس ركعات ثم صلى ركعتين ثم نام حتى سمعت غطيطه - أو خطيطه ثم خرج الى الصلوة
অর্থ: "আমার খালা হযরত মায়মুনা রা.-এর বাসায় এক রাতে আমি অবস্থান করি। নবীজী ইশার নামায (মসজিদে) পড়ে বাসায় আসেন। তিনি ঘরে ঢুকেই চার রাকাত নামায পড়েন এরপর নিদ্রা যান। খানিক পর উঠে বলেন, ছেলেটি ঘুমিয়ে পড়েছে। অতঃপর নামাযে দাঁড়িয়ে যান। আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে ধরে তার ডান পাশে নিয়ে এলেন। তিনি প্রথমে পাঁচ রাকাত নামায পড়েন এরপর দুই রাকাত এরপর ঘুমিয়ে যান। আমি তার নাক ডাকা শুনেছি। এরপর (ফজরের আজান হলে) তিনি নামায পড়তে চলে যান।"
📄 তাহাজ্জুদে দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সেজদা
নবীজীর তাহাজ্জুদ নামায প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে হযরত হুজায়ফা রা. বলেন, একদিন নবীজী তাহাজ্জুদ শুরু করেন। প্রথমে তিনি এই দোয়া পড়েন : الله اكبر ذو الملكوت والجبروت ও الكبرياء ও العظمة
এরপর সূরা বাকারা পড়ে রুকুতে যান। তাঁর রুকু ছিল কিয়ামের মত (লম্বা)।
তিনি রুকুতে বলেন : سبحان ربي العظيم سبحان ربي العظيم
এরপর মাথা তোলেন। রুকুর পরবর্তী কিয়াম ছিল রুকুর মত (লম্বা)। তিনি এ সময়ে দোয়া পড়েন : لربي الحمد لربى الحمد
এরপর তিনি সেজদা করেন। তাঁর সেজদা ছিল রুকু পরবর্তী কিয়ামের মত (লম্বা)।
তিনি সেজদায় পড়েন : سبحان ربی الاعلى، سبحان ربی الاعلى
অতঃপর মাথা তোলেন। দুই সেজদার মাঝে সময় নেন সেজদার মত। তিনি দুই সেজদার মাঝে বসে বলেন:
رب اغفرلی، رب اغفر لی -
এভাবে তিনি চার রাকাত নামায পড়েন। এ চার রাকাতে তিনি পড়েন সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান, সূরা নিসা, সূরা মায়েদা ও সূরা আনআম।