📄 নবীজীর তাহাজ্জুদ নামায
আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ একদা হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট যান এবং তাকে নবীজীর তাহাজ্জুদ নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন: كان يصلى ثلاث عشرة ركعة من الليل، ثم إنه صلى إحدى عشرة ركعة ও ترك ركعتين ثم قبض حين قبض ও كان يصلى من الليل تسع ركعات أخره صلاته من الليل الوتر
অর্থ: "নবীজী রাতে ১৩ রাকাত নামায পড়তেন। পরে দুই রাকাত বাদ দিয়ে ১১ রাকাত পড়তেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি রাতে ৯ রাকাত নামায পড়তেন। রাতের নামাযের শেষে তিনি বিতর পড়তেন।"
নবীজীর রাতের নামাযের শেষ ৩ রাকাত ছিল বিতর। এ হিসেবে নবীজীর তাহাজ্জুদ নামায হয় যথাক্রমে ১০, ৮ ও ৬ রাকাত। অর্থাৎ কখনো ১০ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন, কখনো ৮ রাকাত আবার কখনো ৬ রাকাত।
📄 তাহাজ্জুদের প্রভাব
তাহাজ্জুদের প্রভাব গভীর। নিয়মিত তাহাজ্জুদ মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচায়। এ প্রসঙ্গে হযরত যাবির রা. একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
قيل يا رسول الله ان فلانا يقوم الليل فإذا اصبح سرق، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ستنهاه صلاته
অর্থ: "অভিযোগ দায়ের করা হলো, হুজুর! অমুক রাতভর নামায পড়ে কিন্তু সকাল হলে চুরি করে। জবাবে নবীজী বলেন, শীঘ্রই নামায তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখবে।"
📄 তাহাজ্জুদগুজার অন্যায় করতে পারে না
হাসান বিন দাউদ বলেছেন, আমি আবু বকর বিন আইয়াশকে বলতে শুনেছি :
من قام من الليل لم يأت فاحشة، ألا تسمع الى قول الله : إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
অর্থ: যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদ পড়ে সে অন্যায় করতে পারে না। তুমি কী শোননি আল্লাহর কথা:
إِنَّ الصَّلوةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
অর্থ: নিশ্চয় নামায অশ্লীলতা এবং অনুচিত কাজ হতে বাধা দেয়।
টিকাঃ
৫০. সূরা আনকাবুত: ৪৫।
📄 তাহাজ্জুদ পড়লে চেহারা সুন্দর হয়
হযরত যাবের রা. হাদীস বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من صلى بالليل حسن وجهه بالنهار
অর্থ: "যে রাতে নামায (তাহাজ্জুদ) পড়ে তার চেহারা দিনে সুন্দর হয়।"