📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আবেদদের চোখের শীতলতা তাহাজ্জুদের মধ্যে নিহিত

📄 আবেদদের চোখের শীতলতা তাহাজ্জুদের মধ্যে নিহিত


হায়ছাম বলেন, একদিন হাবীব আবু মুহাম্মাদ ও ইয়াযিদ রকাশীর মাঝে আবেদদের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। হাবীব আবু মুহাম্মাদ প্রশ্ন করেন আর ইয়াযিদ রকাশী তার জবাব দেন। তাদের এ প্রশ্নোত্তর হয় ফারসী ভাষায়। তাদের মাঝে সেদিনের সংলাপের সারমর্ম নিম্নরূপ-
* হাবীব আবু মুহাম্মাদরে প্রথম প্রশ্ন: দুনিয়াতে আবেদদের চোখ বেশি শীতল হয় কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: হে আবু মুহাম্মাদ! আবেদদের চোখ দুনিয়াতে যেসব বিষয় দ্বারা শীতল হয় তার মধ্য হতে সবচেয়ে অধিক শীতলকারী বিষয় হলো আমার জানা মতে, রাতের আঁধারে তাহাজ্জুদের পাবন্দি।
* হাবীব আবু মুহাম্মাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন: আখেরাতে তাদের চোখ বেশি শীতল হবে কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: আমার জানা মতে আখেরাতে আবেদদের নিকট জান্নাতের নেয়ামতসমূহ এবং তার আনন্দদায়ক ও প্রশান্তির যত বস্তু হবে তার মধ্যে সবচেয়ে মজাদার এবং তাদের চোখ বেশি শীতলকারী হবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার দীদার, যখন পর্দা উঠে যাবে এবং স্বয়ং প্রভু তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন।

বর্ণনাকারী বলেন, হাবীব আবু মুহাম্মাদ একথা শুনে জোরে চিৎকার দেন এবং বেহুঁশ হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 হযরত উমর রা.-এর আখেরাতের ভয়

📄 হযরত উমর রা.-এর আখেরাতের ভয়


হযরত হাসান বসরী রহ. হযরত উমর রা.-এর আখেরাতের ভয় সম্পর্কে একটি তথ্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
كان عمر بن الخطاب رضوان الله عليه يمر بالاية من ورده بالليل فيسقط حتى يعاد كما يعاد من المرض -
অর্থ: "হযরত উমর বিন খাত্তাব রা.-এর রাতে নিয়মিত আমল ছিল যে, তিনি একটি আয়াত (যাতে আখেরাতের অবস্থা বিধৃত হয়েছে) তেলাওয়াত করতেন এবং বেহুঁশ হয়ে পড়ে যেতেন। অতঃপর তাকে সেভাবে সেবা করা হত যেভাবে রোগীকে সেবা করা হয়।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 যাদের দেখলে আল্লাহ পাকের খুশি লাগে

📄 যাদের দেখলে আল্লাহ পাকের খুশি লাগে


হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

ثلاث يضحك الله عز وجل إليهم : (১) الرجل إذا قام من الليل يصلى (২) والقوم إذا صفوا في الصلوة (৩) والقوم إذا صفوا في قتال العدو

অর্থ: "আল্লাহ পাক তিন ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে হাসেন অর্থাৎ তিনি খুশি হন। যথা- (১) যে ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে দাঁড়ায়। (২) যারা নামাযের জন্য কাতার সোজা করে। (৩) যারা জিহাদ করার জন্য সারিবদ্ধ হয়।"⁴⁸

টিকাঃ
৪৮. শরহে সুন্নাহ, মেশকাত: ১০৯।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 শয়তানের গিরা কীভাবে খোলে?

📄 শয়তানের গিরা কীভাবে খোলে?


হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

يعقد الشيطان على قافيه رأس احدكم ثلاث عقد إذا هو نام، فإذا استيقظ فذكر الله عز جل انحلت عقدة فاذا توضأ انحلت عقدة فاذا صلى انحلت العقدة كلها ও أصبح نشيطا طيب النفس ও إلا أصبح خبيث النفس كسلان -

অর্থ: "যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথার পেছনে তিনটি গিরা দেয়। (এই তিন গিরা তিনভাবে খোলে। যথা-) (১) ঘুম থেকে জেগে আল্লাহকে স্মরণ করলে অর্থাৎ ঘুম থেকে উঠার দোয়া পড়লে প্রথম গিরাটি খুলে যায়। (২) অতঃপর নামাযের উদ্দেশে ওজু করলে দ্বিতীয় গিরা খুলে যায়। (৩) এরপর নামায পড়লে তৃতীয় গিরাটিও খুলে যায় এবং সে প্রভাতে অত্যন্ত প্রফুল্ল মন ও পবিত্র অন্তর নিয়ে ওঠে। নতুবা (যদি ঘুম থেকে উঠে আল্লাহকে স্মরণ, ওজু ও নামায না পড়ে, তাহলে) সে প্রভাতে ওঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে।"⁴⁹

টিকাঃ
৪৯. বুখারী, মুসলিম, মেশকাত: ১০৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px