📄 অধিক নামায পড়ার উপদেশ
জররার বিন মুসলিম জাহেলী রহ. হযরত আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ করে বলেছেন:
يا انس اكثر الصلوة بالليل والنهار تحفظك الحفظة !
অর্থ: "হে আনাস! তুমি দিনে-রাতে বেশি বেশি নামায পড়বে। তাহলে হেফাজতকারী সত্ত্বা তোমাকে (সর্বপ্রকার ফেতনা ও অনিষ্ট হতে) হেফাজত করবেন।"
📄 মানসুর বিন যাজানের ইবাদত
সাঈদ বিন আমের আলা নামীয় তার এক পড়শী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
اتيت مسجد واسط فأذن المؤذن الظهر وجاء منصور بن زا ا ذان فافتح الصلوة فرأيته سجد إحدى عشرة سجدة قبل ان تقام الصلوة -
অর্থ: "আমি ওয়াসেত শহরের মসজিদে এলাম। মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিল। ইতিমধ্যে মানসুর বিন যাজান রহ. তাশরীফ নিয়ে এলেন এবং নফল নামাযে লিপ্ত হয়ে গেলেন। আমি খেয়াল করে দেখলাম, তিনি জামাত শুরু হওয়ার পূর্বে এগার রাকাত পড়লেন।"
📄 আবেদদের চোখের শীতলতা তাহাজ্জুদের মধ্যে নিহিত
হায়ছাম বলেন, একদিন হাবীব আবু মুহাম্মাদ ও ইয়াযিদ রকাশীর মাঝে আবেদদের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। হাবীব আবু মুহাম্মাদ প্রশ্ন করেন আর ইয়াযিদ রকাশী তার জবাব দেন। তাদের এ প্রশ্নোত্তর হয় ফারসী ভাষায়। তাদের মাঝে সেদিনের সংলাপের সারমর্ম নিম্নরূপ-
* হাবীব আবু মুহাম্মাদরে প্রথম প্রশ্ন: দুনিয়াতে আবেদদের চোখ বেশি শীতল হয় কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: হে আবু মুহাম্মাদ! আবেদদের চোখ দুনিয়াতে যেসব বিষয় দ্বারা শীতল হয় তার মধ্য হতে সবচেয়ে অধিক শীতলকারী বিষয় হলো আমার জানা মতে, রাতের আঁধারে তাহাজ্জুদের পাবন্দি।
* হাবীব আবু মুহাম্মাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন: আখেরাতে তাদের চোখ বেশি শীতল হবে কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: আমার জানা মতে আখেরাতে আবেদদের নিকট জান্নাতের নেয়ামতসমূহ এবং তার আনন্দদায়ক ও প্রশান্তির যত বস্তু হবে তার মধ্যে সবচেয়ে মজাদার এবং তাদের চোখ বেশি শীতলকারী হবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার দীদার, যখন পর্দা উঠে যাবে এবং স্বয়ং প্রভু তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন।
বর্ণনাকারী বলেন, হাবীব আবু মুহাম্মাদ একথা শুনে জোরে চিৎকার দেন এবং বেহুঁশ হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন।
📄 হযরত উমর রা.-এর আখেরাতের ভয়
হযরত হাসান বসরী রহ. হযরত উমর রা.-এর আখেরাতের ভয় সম্পর্কে একটি তথ্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
كان عمر بن الخطاب رضوان الله عليه يمر بالاية من ورده بالليل فيسقط حتى يعاد كما يعاد من المرض -
অর্থ: "হযরত উমর বিন খাত্তাব রা.-এর রাতে নিয়মিত আমল ছিল যে, তিনি একটি আয়াত (যাতে আখেরাতের অবস্থা বিধৃত হয়েছে) তেলাওয়াত করতেন এবং বেহুঁশ হয়ে পড়ে যেতেন। অতঃপর তাকে সেভাবে সেবা করা হত যেভাবে রোগীকে সেবা করা হয়।"