📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 রাতে কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত

📄 রাতে কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত


ইয়াযিদ রকাশী রহ. বলেন, আমি, সাবেত বুনানী এবং আরও কিছু লোক হযরত আনাস রা. নিকট গেলাম এবং নিবেদন করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাহাজ্জুদ এবং রাতে ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কে কোনো কিছু শুনেছেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি রাতে কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে নবীজীকে ৪টি কথা বলতে শুনেছি। আর তা হলো-

১. যে ব্যক্তি (রাতে) কুরআনের পাঁচশত আয়াত তেলাওয়াত করবে সে গাফেলদের অন্তর্গত হবে না।
২. যে ব্যক্তি একশত আয়াত পড়বে তাকে পুরো রাত দাঁড়িয়ে ইবাদতের সওয়াব দেয়া হবে।
৩. যে ব্যক্তি হাফেজ হয়ে দুইশ আয়াত তেলাওয়াত করবে, সে পুরো হক আদায় করে দিল।
৪. যে ব্যক্তি পাঁচশ হতে এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করবে, তাহলে সে সকাল হওয়ার আগেই এক হাজার দীনার দান করার সওয়াব পাবে।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 অধিক নামায পড়ার উপদেশ

📄 অধিক নামায পড়ার উপদেশ


জররার বিন মুসলিম জাহেলী রহ. হযরত আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ করে বলেছেন:
يا انس اكثر الصلوة بالليل والنهار تحفظك الحفظة !

অর্থ: "হে আনাস! তুমি দিনে-রাতে বেশি বেশি নামায পড়বে। তাহলে হেফাজতকারী সত্ত্বা তোমাকে (সর্বপ্রকার ফেতনা ও অনিষ্ট হতে) হেফাজত করবেন।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 মানসুর বিন যাজানের ইবাদত

📄 মানসুর বিন যাজানের ইবাদত


সাঈদ বিন আমের আলা নামীয় তার এক পড়শী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

اتيت مسجد واسط فأذن المؤذن الظهر وجاء منصور بن زا ا ذان فافتح الصلوة فرأيته سجد إحدى عشرة سجدة قبل ان تقام الصلوة -

অর্থ: "আমি ওয়াসেত শহরের মসজিদে এলাম। মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিল। ইতিমধ্যে মানসুর বিন যাজান রহ. তাশরীফ নিয়ে এলেন এবং নফল নামাযে লিপ্ত হয়ে গেলেন। আমি খেয়াল করে দেখলাম, তিনি জামাত শুরু হওয়ার পূর্বে এগার রাকাত পড়লেন।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আবেদদের চোখের শীতলতা তাহাজ্জুদের মধ্যে নিহিত

📄 আবেদদের চোখের শীতলতা তাহাজ্জুদের মধ্যে নিহিত


হায়ছাম বলেন, একদিন হাবীব আবু মুহাম্মাদ ও ইয়াযিদ রকাশীর মাঝে আবেদদের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। হাবীব আবু মুহাম্মাদ প্রশ্ন করেন আর ইয়াযিদ রকাশী তার জবাব দেন। তাদের এ প্রশ্নোত্তর হয় ফারসী ভাষায়। তাদের মাঝে সেদিনের সংলাপের সারমর্ম নিম্নরূপ-
* হাবীব আবু মুহাম্মাদরে প্রথম প্রশ্ন: দুনিয়াতে আবেদদের চোখ বেশি শীতল হয় কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: হে আবু মুহাম্মাদ! আবেদদের চোখ দুনিয়াতে যেসব বিষয় দ্বারা শীতল হয় তার মধ্য হতে সবচেয়ে অধিক শীতলকারী বিষয় হলো আমার জানা মতে, রাতের আঁধারে তাহাজ্জুদের পাবন্দি।
* হাবীব আবু মুহাম্মাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন: আখেরাতে তাদের চোখ বেশি শীতল হবে কীসে?
* ইয়াযিদ রকাশীর জবাব: আমার জানা মতে আখেরাতে আবেদদের নিকট জান্নাতের নেয়ামতসমূহ এবং তার আনন্দদায়ক ও প্রশান্তির যত বস্তু হবে তার মধ্যে সবচেয়ে মজাদার এবং তাদের চোখ বেশি শীতলকারী হবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার দীদার, যখন পর্দা উঠে যাবে এবং স্বয়ং প্রভু তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন।

বর্ণনাকারী বলেন, হাবীব আবু মুহাম্মাদ একথা শুনে জোরে চিৎকার দেন এবং বেহুঁশ হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px