📄 কেয়ামতের দিন তাহাজ্জুদগুজারদের সম্মান
হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
اذا جمع الله الاولين ও الآخرين يوم القيامة نادى مناد ليقم الذاين كانت تتجافى جنوبهم عن المضاجع، فيقومون وهم قليل ثم يحاسب سائر الناس -
অর্থ: "যখন আল্লাহ তা'আলা কেয়ামতের দিন আগে-পরের সমস্ত লোক জমা করবেন, তখন এক ঘোষক ঘোষণা দিবে, তারা দাঁড়িয়ে যাও যাদের পার্শ্বদেশ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) শয্যা থেকে পৃথক থাকত। এ ঘোষণায় কিছু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। তাদের সংখ্যা খুব কম হবে। অতঃপর অন্যান্য লোকদের হিসাব শুরু হয়ে যাবে।"
সতর্কতা: সদ্য বর্ণিত দু'হাদীসের কোনো কোনো রাবী সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের ভিন্নমত থাকায় এবং রাবী জঈফ বা অনির্ভরযোগ্য হওয়ায় হাদীস দুটি দুর্বল বা গায়বে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সাবধানতা কাম্য।
📄 কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাওয়া
হযরত কাসেম বিন আবু আইউব রহ. হযরত সাঈদ বিন যুবাইর রহ.-এর খোদাভীরুতার অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন:
كان سعيد بن جبير يبكى بالليل حتى عمش ও فسدت عيناه
অর্থ: "হযরত সাঈদ বিন জুবাইর রহ. (আল্লাহর ভয়ে) রাতে এত কাঁদতেন যে, তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল এবং তার দু'চোখ অন্ধ হয়ে যায়।"
📄 এক আয়াতে রাত পার
হিশাম রহ. বলেন, আমর বিন উতবা মারা গেলে তার কতিপয় ছাত্র তার বোনের কাছে যান এবং বলেন, হযরতের অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কিছু অবগত করুন। তখন তার বোন এক রাতের একটি ঘটনার বিবরণ এভাবে পেশ করেন:
قام ذات ليلة فاستفتح سورة آل حم فأتى على هذه الآية وأَنذِرْهُم يَوْمَ الْازِفَةِ ، قالت : فما جاوزها حتى اصبح ـ
অর্থ: "এক রাতে আমর বিন উতবা নামাযের জন্য দাঁড়ান এবং সূরা মু'মিন পড়তে শুরু করেন। যখন এই আয়াতে পৌঁছান: وأذرهم يوم الأثرة তখন ভোর পর্যন্ত শুধু এই আয়াতই বারবার পড়তে থাকেন।"
পূর্ণ আয়াত ও তার অর্থ: কেয়ামত দিবসে জালেমদের যে অবস্থা হবে আল্লাহ দুনিয়াতে রাসূলের মাধ্যমে সে ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন: وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْأَزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ .
অর্থ: “(হে রাসূল!) তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিনের বিষাদ সম্পর্কে, যখন বেদম কষ্টে মানুষের কলিজা মুখে এসে যাবে। জালেমদের থাকবে না কোনো বন্ধু এবং কোনো সুপরিশকারী যার কথা গ্রহণ করা হবে।"⁴⁷
টিকাঃ
৪৭. সূরা মু'মিন: ১৮।
📄 রাতে কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত
ইয়াযিদ রকাশী রহ. বলেন, আমি, সাবেত বুনানী এবং আরও কিছু লোক হযরত আনাস রা. নিকট গেলাম এবং নিবেদন করলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাহাজ্জুদ এবং রাতে ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কে কোনো কিছু শুনেছেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি রাতে কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত সম্পর্কে নবীজীকে ৪টি কথা বলতে শুনেছি। আর তা হলো-
১. যে ব্যক্তি (রাতে) কুরআনের পাঁচশত আয়াত তেলাওয়াত করবে সে গাফেলদের অন্তর্গত হবে না।
২. যে ব্যক্তি একশত আয়াত পড়বে তাকে পুরো রাত দাঁড়িয়ে ইবাদতের সওয়াব দেয়া হবে।
৩. যে ব্যক্তি হাফেজ হয়ে দুইশ আয়াত তেলাওয়াত করবে, সে পুরো হক আদায় করে দিল।
৪. যে ব্যক্তি পাঁচশ হতে এক হাজার আয়াত তেলাওয়াত করবে, তাহলে সে সকাল হওয়ার আগেই এক হাজার দীনার দান করার সওয়াব পাবে।