📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদগুজারদের বিশেষ সম্মান

📄 তাহাজ্জুদগুজারদের বিশেষ সম্মান


হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

ان في الجنة غرفا يرى بطونها من ظهورها و ظهورها من بطونها، قيل لمن هي يارسول الله؟ قال : لمن طيب الكلام ও افشى السلام ও ادام الصيام ও أطعم الطعام وصلى باليل والناس نيام -

অর্থ: "জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর এমন রয়েছে যার বাইরের বস্তু ভেতর হতে এবং ভেতরের বস্তু বাহির হতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ঘর কার জন্য নির্মিত! জবাবে তিনি বলেন, যার মধ্যে ৪টি গুণ থাকবে তার জন্য এই ঘর নির্মিত।
১. যে মানুষের সঙ্গে নরম ভাষায় কথা বলে।
২. মানুষকে বেশি বেশি সালাম দেয়।
৩. ক্ষুধার্তকে খানা খাওয়ায়।
৪. তাহাজ্জুদ নামায পড়ে।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 কেয়ামতের দিন তাহাজ্জুদগুজারদের সম্মান

📄 কেয়ামতের দিন তাহাজ্জুদগুজারদের সম্মান


হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

اذا جمع الله الاولين ও الآخرين يوم القيامة نادى مناد ليقم الذاين كانت تتجافى جنوبهم عن المضاجع، فيقومون وهم قليل ثم يحاسب سائر الناس -

অর্থ: "যখন আল্লাহ তা'আলা কেয়ামতের দিন আগে-পরের সমস্ত লোক জমা করবেন, তখন এক ঘোষক ঘোষণা দিবে, তারা দাঁড়িয়ে যাও যাদের পার্শ্বদেশ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) শয্যা থেকে পৃথক থাকত। এ ঘোষণায় কিছু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। তাদের সংখ্যা খুব কম হবে। অতঃপর অন্যান্য লোকদের হিসাব শুরু হয়ে যাবে।"

সতর্কতা: সদ্য বর্ণিত দু'হাদীসের কোনো কোনো রাবী সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের ভিন্নমত থাকায় এবং রাবী জঈফ বা অনির্ভরযোগ্য হওয়ায় হাদীস দুটি দুর্বল বা গায়বে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সাবধানতা কাম্য।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাওয়া

📄 কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাওয়া


হযরত কাসেম বিন আবু আইউব রহ. হযরত সাঈদ বিন যুবাইর রহ.-এর খোদাভীরুতার অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন:

كان سعيد بن جبير يبكى بالليل حتى عمش ও فسدت عيناه
অর্থ: "হযরত সাঈদ বিন জুবাইর রহ. (আল্লাহর ভয়ে) রাতে এত কাঁদতেন যে, তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল এবং তার দু'চোখ অন্ধ হয়ে যায়।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 এক আয়াতে রাত পার

📄 এক আয়াতে রাত পার


হিশাম রহ. বলেন, আমর বিন উতবা মারা গেলে তার কতিপয় ছাত্র তার বোনের কাছে যান এবং বলেন, হযরতের অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কিছু অবগত করুন। তখন তার বোন এক রাতের একটি ঘটনার বিবরণ এভাবে পেশ করেন:

قام ذات ليلة فاستفتح سورة آل حم فأتى على هذه الآية وأَنذِرْهُم يَوْمَ الْازِفَةِ ، قالت : فما جاوزها حتى اصبح ـ
অর্থ: "এক রাতে আমর বিন উতবা নামাযের জন্য দাঁড়ান এবং সূরা মু'মিন পড়তে শুরু করেন। যখন এই আয়াতে পৌঁছান: وأذرهم يوم الأثرة তখন ভোর পর্যন্ত শুধু এই আয়াতই বারবার পড়তে থাকেন।"

পূর্ণ আয়াত ও তার অর্থ: কেয়ামত দিবসে জালেমদের যে অবস্থা হবে আল্লাহ দুনিয়াতে রাসূলের মাধ্যমে সে ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন: وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْأَزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ .
অর্থ: “(হে রাসূল!) তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিনের বিষাদ সম্পর্কে, যখন বেদম কষ্টে মানুষের কলিজা মুখে এসে যাবে। জালেমদের থাকবে না কোনো বন্ধু এবং কোনো সুপরিশকারী যার কথা গ্রহণ করা হবে।"⁴⁷

টিকাঃ
৪৭. সূরা মু'মিন: ১৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px