📄 কদরের সম্ভাব্য রাতে চার হাজার দেরহাম মূল্যের পোশাক পরা
হাম্মাদ বিন যায়েদ হযরত সাবেত বুনানী রহ.-এর সূত্রে হযরত তামীমে দারী রা. সম্পর্কে বর্ণনা করেন:
انه كان يلبس فى الليلة التي يرجى من رمضان ليلة القدر حلة اشتراها بأربعة الاف -
অর্থ: "হযরত তামীমে দারী রা. রমযানের যে রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকত, সে রাতে ঐ পোশাকটি পরতেন যা তিনি চার হাজার দিরহামে ক্রয় করেছিলেন।"
📄 তাহাজ্জুদের সময় কাপড়ে খোশবু লাগানো
ইউনুস বলেন, ইবনে মুহায়রিযের আযাদকৃত গোলাম আমাকে ইবনে মুহায়রিযের অভ্যাস সম্পর্কে জানিয়েছেন যে-
كان اذا قام الى الصلوة من الليل دعا بالغالية فتضمخ بها حتى تردع ثيابه -
অর্থ: "যখন তিনি তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন দামী কাপড়টি চাইতেন। অতঃপর তিনি তাতে এত খোশবু লাগাতেন যে, কাপড়টি খোশবুতে ভরে যেত।"
তাহাজ্জুদের জন্য নতুন ও দামী পোশাক পরা ফরজ-ওয়াজিব নয়। তা সংগ্রহ করতে অপচয় করা এবং সময় নষ্ট করাও ঠিক নয়। বরং কথা হলো, যদি কারো সংগ্রহে আগের থেকেই ভাল কাপড় থাকে, তাহলে তা তাহাজ্জুদের সময় পরিধান করবে। তবে নিয়ত থাকবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
বর্তমানে মানুষ শুধু লোক দেখানোর জন্য কিংবা অহংকারের উদ্দেশ্যে দামী পোশাক পরে। অথচ নামায ও ইবাদতের সময় ময়লা ও সাধারণ পোশাক পরে। অর্থাৎ দুনিয়াবী বিষয়ে দামী ও মূল্যবান বস্ত্র ব্যবহার করে কিন্তু যখন আখেরাতের ব্যাপার সামনে আসে তখন যেনতেন ও সাধারণ পোশাক পরে- এটা উচিত নয়। আল্লাহ যাদের টাকা-পয়সা দিয়েছেন, তাদের উচিত তার শুকরিয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্ত ভাল পোশাক ক্রয় ও পরিধান করবে। এটা অপচয় নয়। মানুষকে দেখানো ও অহংকারের উদ্দেশ্যে দামী ও মূল্যবান পোশাক পরা নিষিদ্ধ। এমন যারা করে তাদের পরিণাম মন্দ। হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। ইরশাদ হয়েছে:
من لبس ثوب شهرة البسه الله ثوب مذلة يوم القيامة -
অর্থ: "যে ব্যক্তি নাম-যশের জন্য পোশাক পরবে, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন অপমানের পোশাক পরাবেন অর্থাৎ তাকে অপমানিত করবেন।"⁴⁵
এর বিপরীতে যারা ভাল ও দামী পোশাক পরার ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও বিনয় হিসেবে বা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা বর্জন করে সাধারণ মানের পোশাক পরবে, তাদের সম্পর্কে হাদীসে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
من ترك لبس ثوب جمال وهو يقدر عليه، وفى رواية : تواضعا كساه الله حلة الكرامة -
অর্থ: "যে ব্যক্তি সক্ষমতা সত্ত্বেও সৌন্দর্যের পোশাক পরিত্যাগ করবে বিনয়ের জন্য, আল্লাহ তাকে সম্মানের পোশাক পরিধান করাবেন।"⁴⁶
টিকাঃ
৪৫. ইবনে মাযাহ, মেশকাত: ৩৭৬।
৪৬. তিরমিযী, মেশকাত: ৩৭৫।
📄 শেষ রাতে ক্ষমা লাভের দোয়া
হযরত উবাদা বিন সামেত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
مَنْ تَعَارَّ من الليل فقال حين يستيقظ لا اله الا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير سبحان الله والحمد لله والله اكبر ولا حول ولا قوة الا بالله دعا رب اغفر لى غفر له ──
অর্থ: যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয়ে এই দোয়া পড়ে- لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله ولا حول ولا قوة الا بالله
অতঃপর এই দোয়া করে : رب اغفرلی "হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন- তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।"
বর্ণনাকারী বলেন, যখন উপরোক্ত বাক্য বলে কেউ দোয়া চায়, তার দোয়া কবুল হয়। দাঁড়িয়ে ওজু করে নামাজ পড়লে নামায কবুল হয়।
📄 জাগ্রত হয়ে নবীজীর দোয়া
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন জাগ্রত হতেন, তখন এই দোয়া পড়তেন:
لا اله الا الله سبحانك اللهم استغفرك لذنبي واسألك رحمتك اللهم زدنی علما ولا تزغ قلبى بعد اذهديتني وهب لي من لدنك حمدا انك انت الوهاب -
-আবু দাউদ, নাসায়ী