📄 চার আহ্বানে সাড়া দান
সুফিয়ান বলেন, আমাদের কাছে এ খবর পৌছেছে যে, রাতের প্রথমভাগে এক ঘোষক ঘোষণা দেয়- الا ليقم العابدون
অর্থ : "শোনো! ইবাদতগুজাররা যেন দাঁড়িয়ে যায়।" এ আহ্বানে সাড়া দিতে কিছু লোক দাঁড়িয়ে যায় এবং আল্লাহ তা'আলার মানসা অনুযায়ী নামায পড়ে।
মধ্যরাতে সেই ঘোষক অথবা অন্য ঘোষক ঘোষণা দেয়- الاليقم القانتون -
অর্থ : "অনুগত বান্দারা যেন দাঁড়িয়ে যায়।" এ ঘোষণায় সাড়া দিয়ে কিছু লোক দাঁড়িয়ে যায় এবং সাহরীর সময় পর্যন্ত নামাযে মশগুল থাকে।
সাহরীর সময় হলে এক ঘোষক ঘোষণা দেয়- اين المستغفرون؟
অর্থ : "ইস্তেগফার যারা করতে চায় তারা কোথায়?"
এ আহ্বানে যারা পূর্ব হতে বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত থাকে তারা অন্য ইবাদত ছেড়ে ইস্তেগফারে মনোনিবেশ করে। এর সাথে সাথে কিছু লোক নতুন করে উঠে তাহাজ্জুদে লিপ্ত হয় এবং পূর্ববর্তীদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়।
যখন সুবহে সাদিক হয় এবং ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ে তখন ঘোষক আবার আওয়াজ দেয়- الا ليقيم الغافلون
অর্থ : "শোনো, গাফেলরা যেন দাঁড়িয়ে যায়।" এ আহ্বানে একটি বড় শ্রেণী এভাবে দাঁড়ায় যেন তারা কবর থেকে সদ্য উঠে এসেছে।
সুফিয়ান রহ. বলেন, যারা সারা রাত ঘুমিয়ে কাটিয়েছে, তুমি তাদের দেখবে যে, তারা কেমন যেন মরা মরা। সারা রাত তারা শয্যায় মৃতের মত পড়ে ছিল এবং এভাবে সকাল করেছে যে, বিভিন্ন বিনোদনের স্বপ্ন নিয়ে জাগ্রত হয়। অথচ তুমি রাতে ইবাদতকারীদের দেখবে যে, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হতে বিনয় উপকে পড়ে এবং তারা খুবই প্রফুল্ল ও খোশ মেজাজের হয়।
📄 প্রথম রাতের ঘুম গনীমত
আবু মারয়াম বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা রা.-কে একটি সুন্দর কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন :
نوم اول الليل غنيمة لآخره
অর্থ: "প্রথম রাতের ঘুম শেষ রাতের জন্য গনীমত।" অর্থাৎ প্রথম রাতে একটু ঘুমিয়ে নিলে তা শেষ রাতে নির্ঘুম ইবাদতে বড়ই সহায়ক হয়। নতুবা শেষ রাতে ঘুমের চাপে ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়।
📄 শেষ রাতে ঘরে ঘরে কুরআন তেলাওয়াত
ইবনু আবুয যিনাদ স্বীয় পিতার সূত্রে শেষ রাতে ইবাদতের চিত্র তুলে ধরেছেন। আবুয যিনাদ বলেন:
كنت اخرج من السحر ال مسجد النبى صلى الله عليه وسلم فلا امر ببيت إلا وفيه قارئ -
অর্থ: "আমি শেষ রাতে মসজিদে নববীতে যেতে ঘর থেকে বের হই। রাস্তায় প্রতি ঘর থেকে কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ ভেসে আসছিল।" অর্থাৎ সেকালে শেষ রাতে ইবাদত-বন্দেগী ও কুরআন তেলাওয়াত করার সাধারণ পরিবেশ ছিল। শেষ রাতে কেউ ঘুমিয়ে থাকত না। পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলেই ঘুম থেকে জেগে যেত এবং ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত হত।
📄 তেলাওয়াতের সময় সফরের ওয়াদা
আসমায়ী ইবনু আবিয যিনাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা ঘটনা বর্ণনা করেছেন:
كنا ও نحن فتيان نريد ان نخرج الحاجة فنقول : موعدكم قيام القراءة -
অর্থ: "যুবক বয়সে অনেক সময় কোনো প্রয়োজনে আমাদের সফর করতে হত। আমরা রাতের শেষ প্রহরে সফর শুরু করার জন্য একে অপরকে এভাবে সময় বেঁধে দিতাম যে, আমাদের নির্ধারিত ক্ষণ হলো, কারীদের কুরআন তেলাওয়াতের সময় অর্থাৎ শেষ রাতে।"