📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 স্বপ্নের মধুর আলাপন

📄 স্বপ্নের মধুর আলাপন


মুগীরা বিন হাবীব বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন গালেব হাদ্দানী রহ. এক যুদ্ধে শত্রুপক্ষের সম্মুখীন হয়ে বলেন-

দুনিয়া হতে প্রাপ্ত সমস্ত নেয়ামত উৎসর্গ করছি। আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, দুনিয়ার বাড়ীর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র মহব্বত নেই। হে আল্লাহ! যদি রাত জাগরণের প্রতি আমার মহব্বত না হত, তোমার সন্তুষ্টির জন্য পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক রাখার অভিলাষ না হত, অন্ধকার রাতে তোমার পক্ষ থেকে সওয়াব লাভের আশাবাদী না হতাম এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের প্রেরণায় স্বীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার তথা নামাযের আকাঙ্ক্ষা না থাকত, তবে আমি দুনিয়া বিসর্জন ও দুনিয়াবাসী থেকে বিচ্ছিন্নতা প্রত্যাশী হতাম।

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর শায়েখ হাদ্দানী রহ. স্বীয় তলোয়ারের খাপ ভেঙে ফেলেন এবং সামনে অগ্রসর হয়ে লড়াই করতে থাকেন। লড়তে লড়তে এক সময় তিনি মারাত্মক আহত হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়েন। রণাঙ্গন হতে তাকে যখন উঠানো হয়, তখন তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে অবস্থান করছিলেন। মুজাহিদ ক্যাম্পে পৌছানোর পূর্বেই তিনি শহীদ হয়ে যান। তাকে দাফন করা হলে তার কবর থেকে মেশকের ঘ্রাণ বের হতে থাকে। তার এক সঙ্গী স্বপ্নে তাকে দেখেন, তখন স্বপ্নে তাদের মধ্যে নিম্নরূপ আলাপ হয়-

সঙ্গী: হে আবু ফারাস! আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
শায়েখ হাদ্দাদ: খুব ভাল আচরণ করা হয়েছে।
সঙ্গী: জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে আপনাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে?
শায়েখ হাদ্দাদ: জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সঙ্গী: কোন আমলের সুবাদে?
শায়েখ হাদ্দাদ: তিন আমলের উসিলায়। (১) আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস, (২) বেশি বেশি তাহাজ্জুদ নামায পড়া এবং (৩) দিনে রোযা রাখা।
সঙ্গী: আপনার কবর হতে যে সুঘ্রাণ বের হচ্ছে তার রহস্য কী?
শায়েখ হাদ্দাদ: এটা কুরআন তেলাওয়াত এবং রোযা অবস্থায় পিপাসার কষ্ট সহ্য করার সুফল।
সঙ্গী: আমাকে কিছু ওসিয়ত করুন।
শায়েখ হাদ্দাদ: আমি তোমাকে সব কল্যাণ ও ভাল কাজের উপদেশ দিচ্ছি।
সঙ্গী: আরও কোনো ওসিয়ত থাকলে করুন।
শায়েখ হাদ্দাদ: নিজের জন্য যত পার নেকী সঞ্চয় কর। তোমার দিন-রাত যেন বেহুদা না কাটে। কেননা আমি নেককারদের দেখেছি যে, তারা তাদের উত্তম পরিণতি নেকী ও সৎকর্মের মাধ্যমে অর্জন করেছে।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 কেয়ামতের দিন তাহাজ্জুদগুজারদের মর্যাদা

📄 কেয়ামতের দিন তাহাজ্জুদগুজারদের মর্যাদা


হযরত বিশর বিন মুসলিহ আল আতাকী রহ. বলেন, আমাকে ইব্রাহীম বিন খালদ রহ. বলেছেন, এক চিত্রকর আমাকে ঘটনা শুনিয়েছেন যে, স্বপ্নে আমাকে কেয়ামতের দৃশ্য দেখানো হয়। আমি কতকের চেহারা অত্যন্ত তরুতাজা এবং ঝলমলে দেখি। তাদের শরীরে ছিল মূল্যবান পোশাক। কেয়ামতের সাধারণ সমাবেশের সাইডে তাদের আলাদা সমাবেশ ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করি, এরা কারা, যারা মূল্যবান পোশাকে সুসজ্জিত অথচ অন্য লোকজন এখনও বস্ত্রহীন? তাদের চেহারা আলো ঝলমলে অথচ অন্যদের চেহারা ধূলি-ধূসরিত ও বিধ্বস্ত?

এক লোক উত্তরে আমাকে জানায়, তুমি তাদের শরীরে যে দামী পোশাক দেখছ তার কারণ হলো, কেয়ামতে নবীদের পরে সমস্ত মানুষের মধ্যে সর্বাগ্রে মুআজ্জিন এবং কুরআনের খাদেমদের বস্ত্র পরানো হবে। তাদের চেহারার প্রফুল্লতা ও উজ্জ্বলতা হলো তাদের অধিকহারে তাহাজ্জুদ পড়ার বদলা।

মূল ঘটনার বর্ণনাকারী জনৈক চিত্রকর আরও বলেন, এরপর আমি কিছু লোককে উন্নতজাতের ঘোড়ায় চলাফেরা করতে দেখি। আমি জানতে চাইলাম, এসব লোক ঘোড়ায় চড়ে ফিরছে অথচ অন্যান্য লোক পদাতিক কেন? তখন আমাকে বলা হলো, এরা তারা, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাসিলের আশায় নামাযে দীর্ঘ দণ্ডায়মান থাকতেন। আল্লাহ আজ তাদের উত্তম বদলা দান করেছেন। তাদেরকে উন্নত ঘোড়া দেওয়া হয়েছে, যা কখনো পেশাব-পায়খানা করে না। তাদেরকে দেওয়া হয়েছে এমন সব স্ত্রী, যারা কোনো দিন বুড়ি হবে না এবং মৃত্যুবরণও করবে না।

চিত্রকর বলেন, আল্লাহর কসম, আমি স্বপ্নে এসব দেখে জোরে চিৎকার করে উঠে বলি- واها للعا بدين ما أشرف اليوم مقامهم অর্থ: "ইবাদতকারীদের মর্যাদা কত বড়! আজ মর্যাদায় তারাই শ্রেষ্ঠ ও শীর্ষে।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 এক মহিলার স্বপ্ন

📄 এক মহিলার স্বপ্ন


হযরত সুফিয়ান রহ. বলেন, মুহাম্মাদ বিন জাহাদা একজন আবেদ বুযুর্গ ছিলেন। তার সম্পর্কে কথিত আছে যে, তিনি রাতে খুব কমই নিদ্রা যেতেন। তার প্রতিবেশি এক মহিলা তার মৃত্যুর পর স্বপ্নে তাকে দেখেন। মহিলা স্বপ্নের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন-

আমি দেখলাম, তার মসজিদের নামাযীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। বিবরণকারী বিতরণ করতে করতে মুহাম্মাদ বিন জাহাদার কাছে এসে তিনি কারো থেকে মুখবন্ধ একটি থলে চেয়ে নেন। তার মধ্য হতে অত্যন্ত মূল্যবান এক সেট সবুজ বস্ত্র বের করে মুহাম্মাদ বিন জাহাদাকে পরিয়ে দেন এবং বলেন: هذه لك بطول السهر অর্থ: "দীর্ঘ রাত জাগরণের বদলায় এটা আপনাকে পরানো হয়েছে।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আজীব-গরীব নূর প্রদান

📄 আজীব-গরীব নূর প্রদান


ওয়াহাব বিন মুনাব্বেহ রহ. বলেন:
من قرأ ليلة الجمعة سورة البقرة وآل عمران كانا له نورا ما بين عجباء ও غريباء -

অর্থ: "যে ব্যক্তি জুমুআর রাতে সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান পড়বে, তাকে এমন এক নূর দেয়া হবে, যা হবে আজীব-গরীবের মাঝামাঝি।"

আবু ইসহাক ছনআনী রহ. বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আবু সাঈদকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'আজীব-গরীব' দ্বারা উদ্দেশ্য কী? জবাবে তিনি বলেন, আজীব দ্বারা উদ্দেশ্য জমিনের সবচেয়ে নীচের অংশ আর গরীব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আরশে ইলাহী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px