📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আবেদদের স্মৃতিচারণ

📄 আবেদদের স্মৃতিচারণ


আব্বাদ বিন যিয়াদ তামীমী রহ. স্বীয় যুগের বড় আবেদ ও সালেক ছিলেন। একদিন তিনি স্বীয় ইবাদতগুজার ও রাত জাগরণকারী সঙ্গীদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তারা মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আব্বাদ রহ. হারানো সাথীদের স্মৃতিচারণ করে যা বলেন তার মর্মার্থ নিম্নরূপ-

তারা এমন যুবক ছিল যাদের বাহ্যিক অবস্থা হতে আল্লাহভীতি ঝরে পড়ত। তারা কুরআনি বিধানের গোলাম এবং তার ভক্ত ছিলেন। তাদের গাত্রচর্ম অধিক সেজদার দরুন দুর্বল হয়ে তারা বিবর্ণ ও গোশতহীন হাড়ের কংকালে পরিণত হয়েছিলেন। আল্লাহর ভয়ে তাদের পার্শ্বদেশ এমন সময় শয্যা থেকে পৃথক থাকত, যখন অলস ও গাফেল শ্রেণী ঘুমের মজা লুটত। রাতে তাদের কান্না-কাটি ও রুনাজারি বেড়ে যেত আর তাদের দিন কাটত রোযা অবস্থায়। কুরআন শরীফের তেলাওয়াত ছিল তাদের পরিচিতি ও অভ্যাস। রাতের সুনসান পরিবেশকে তারা আবাদ রেখেছিল সেজদা ও কিয়ামের দ্বারা।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের কণ্ঠে আবেদদের অবস্থা

📄 আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের কণ্ঠে আবেদদের অবস্থা


মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বলেন, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও শায়েখ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. আল্লাহওয়ালা আবেদদের প্রসঙ্গ স্মরণ করে বলতেন- তাদের বিছানা ছিল লুঙ্গি ও চাদর। তাকিয়া ছিল শরীরের কাপড়। তাদের রাত ছিল আল্লাহভীতিতে ভরপুর। তাদের ঘুম ছিল বাসায় আবদ্ধ ভীত-সন্ত্রস্ত পাখীর ঘুমের মত। আল্লাহর ভয়ে তাদের চেহারা এমন হলুদ হয়ে থাকত যেন তাদের চোখে-মুখে হলদে খোশবু ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে তারা এমনভাবে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদত, যেন প্রিয়তম কোনো ব্যক্তির সদ্য ইন্তেকালের সংবাদে তারা কাঁদছে। তাদের নিয়মিত জিকিরের মজলিস বসত আর সে মজলিসে আমি নিজেও হাজির থাকতাম। তাদের চোখগুলো ছিল আল্লাহর দীদারে উন্মুখ।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 মোতির বাহনে চড়ে জান্নাতে গমন

📄 মোতির বাহনে চড়ে জান্নাতে গমন


ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ রহ. রাত জাগরণকারীদের উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে বলেন:

لن يبرح المتهجدون من عرصة القيامة حتى يؤتوا بنجائب من اللؤلؤ قد نفخ فيها الروح فيقال لهم : انطلقوا الى منازلكم من الجنة ركبانا، قال فيركبونها فتطير بهم متعالية والناس ينظرون إليهم فيقول بعضم لبعض : من هؤلاء الذين قد من الله عليهم من بيننا

অর্থ: "তাহাজ্জুদগুজাররা হাশরের ময়দান হতে ততক্ষণ সরবেন না, যতক্ষণ তাদের নিকট উন্নত জাতের মোতি না আনা হবে এবং তাতে রূহ সঞ্চারিত করা হবে। অতঃপর রাত জাগরণকারীদের বলা হবে, এ মোতিতে সওয়ার হয়ে তোমরা জান্নাতে নিজ নিজ ঠিকানায় চল। তখন তারা তাতে সওয়ার হবে এবং ঐ মোতি তাদের নিয়ে উপরে উঠতে থাকবে। লোকজন বিস্মিত নয়নে তাদের দেখবে এবং বলাবলি করবে, এরা কারা- যাদের প্রতি আল্লাহ পাক এমন বিশেষ মেহেরবানী করেছেন?"

বর্ণনাকারী বলেন, তারা মোতির গাড়ীতে চড়ে উপরে উঠতেই থাকবে এবং উঠতে উঠতে জান্নাতে নিজ নিজ ঠিকানায় ও স্থানে পৌঁছে যাবে।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 স্বপ্নের মধুর আলাপন

📄 স্বপ্নের মধুর আলাপন


মুগীরা বিন হাবীব বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন গালেব হাদ্দানী রহ. এক যুদ্ধে শত্রুপক্ষের সম্মুখীন হয়ে বলেন-

দুনিয়া হতে প্রাপ্ত সমস্ত নেয়ামত উৎসর্গ করছি। আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, দুনিয়ার বাড়ীর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র মহব্বত নেই। হে আল্লাহ! যদি রাত জাগরণের প্রতি আমার মহব্বত না হত, তোমার সন্তুষ্টির জন্য পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক রাখার অভিলাষ না হত, অন্ধকার রাতে তোমার পক্ষ থেকে সওয়াব লাভের আশাবাদী না হতাম এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের প্রেরণায় স্বীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার তথা নামাযের আকাঙ্ক্ষা না থাকত, তবে আমি দুনিয়া বিসর্জন ও দুনিয়াবাসী থেকে বিচ্ছিন্নতা প্রত্যাশী হতাম।

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর শায়েখ হাদ্দানী রহ. স্বীয় তলোয়ারের খাপ ভেঙে ফেলেন এবং সামনে অগ্রসর হয়ে লড়াই করতে থাকেন। লড়তে লড়তে এক সময় তিনি মারাত্মক আহত হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়েন। রণাঙ্গন হতে তাকে যখন উঠানো হয়, তখন তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে অবস্থান করছিলেন। মুজাহিদ ক্যাম্পে পৌছানোর পূর্বেই তিনি শহীদ হয়ে যান। তাকে দাফন করা হলে তার কবর থেকে মেশকের ঘ্রাণ বের হতে থাকে। তার এক সঙ্গী স্বপ্নে তাকে দেখেন, তখন স্বপ্নে তাদের মধ্যে নিম্নরূপ আলাপ হয়-

সঙ্গী: হে আবু ফারাস! আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
শায়েখ হাদ্দাদ: খুব ভাল আচরণ করা হয়েছে।
সঙ্গী: জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে আপনাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে?
শায়েখ হাদ্দাদ: জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সঙ্গী: কোন আমলের সুবাদে?
শায়েখ হাদ্দাদ: তিন আমলের উসিলায়। (১) আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস, (২) বেশি বেশি তাহাজ্জুদ নামায পড়া এবং (৩) দিনে রোযা রাখা।
সঙ্গী: আপনার কবর হতে যে সুঘ্রাণ বের হচ্ছে তার রহস্য কী?
শায়েখ হাদ্দাদ: এটা কুরআন তেলাওয়াত এবং রোযা অবস্থায় পিপাসার কষ্ট সহ্য করার সুফল।
সঙ্গী: আমাকে কিছু ওসিয়ত করুন।
শায়েখ হাদ্দাদ: আমি তোমাকে সব কল্যাণ ও ভাল কাজের উপদেশ দিচ্ছি।
সঙ্গী: আরও কোনো ওসিয়ত থাকলে করুন।
শায়েখ হাদ্দাদ: নিজের জন্য যত পার নেকী সঞ্চয় কর। তোমার দিন-রাত যেন বেহুদা না কাটে। কেননা আমি নেককারদের দেখেছি যে, তারা তাদের উত্তম পরিণতি নেকী ও সৎকর্মের মাধ্যমে অর্জন করেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px