📄 শেষ রাতে নবীজীর কুরআন তেলাওয়াত
হযরত আবু হুরায়রা রা. হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل يرفع صوته طورا ويخفض طورا -
অর্থ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠে কুরআন তেলাওয়াত করতেন; কখনো জোরে কখনো আস্তে।”
📄 নবীজীর অনুকরণে জোরে ও আস্তে তেলাওয়াত
আবু খালিদ ওলিবী রহ. তাহাজ্জুদে হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর কুরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে বর্ণনা দেন যে-
كان ابو هريرة أذا قام يصلى من الليل يخفض صوته طورا ও يرفعه طورا ويذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك -
অর্থ: "হযরত আবু হুরায়রা রা. যখন রাতে উঠে নামায পড়তেন, তখন কুরআন তেলাওয়াত কখনও জোরে করতেন, কখনও আস্তে করতেন। তিনি বলতেন, এমনই ছিল নবীজীর আমল।"
📄 তাহাজ্জুদগুজারদের ইবাদত ও রাত জাগরণ
হযরত উমর বিন যর রহ. বলেন, যখন ইবাদতগুজাররা দেখেন যে, রাত তাদের উপর আক্রমণ করেছে এবং তারা ক্লান্ত-শ্রান্ত লোকদের দেখেন যে, তারা আরামের বিছানায় গভীর ঘুমে হারিয়ে গেছে, তখন এই খোদাভীরু বান্দারা আল্লাহর সামনে খুশি খুশি দাঁড়িয়ে যান এবং সারা রাত ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যেই তারা মজা ও শান্তি পান, যা আল্লাহ পাক তাদের দান করে থাকেন।
আল্লাহর এ বান্দাগণ শরীর দিয়ে রাতের অভ্যর্থনা জানান এবং চেহারার উজ্জ্বলতা দ্বারা রাতের অন্ধকারের মোকাবেলা করেন। তাদের রাত এভাবে পার হয় যে, না তাদের কুরআন তেলাওয়াত শেষ হয়, না তাদের কান্না-কাটি। তাদের দেহ সারা রাতের জাগরণ ও ইবাদতে ক্লান্তও হয় না।
যারা রাতে ইবাদত করেন তাদের রাত তাদের জন্য উপকারী সাব্যস্ত হয় আর যারা রাত ঘুমিয়ে কাটায় তারা শারীরিক আরাম পায় মাত্র। প্রথম দল এক রাত চলে গেলে অপর রাতের অপেক্ষায় থাকে যে, রাত হলে বেশি করে ইবাদত করবে। পক্ষান্তরে অপর দল রাত হলে দুনিয়ার আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে উঠে। এই দুই দলের মধ্যে কত ফারাক, কত ব্যবধান ও দূরত্ব!
হযরত উমর বিন যর রহ. মানুষকে সম্বোধন করে বলতেন- “হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন। এই রাত ও রাতের আধারে নিজেদের জন্য নেক আমলে আত্মনিয়োগ কর। নিঃসন্দেহে সে লোক বড় ধোঁকার মধ্যে, যে দিন-রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। হতভাগা সে, যে রাত-দিনের নেয়ামত ও রহমত হতে দূরে। তোমরা রাতে তোমাদের নফসকে যিন্দা রাখ আর দিল যিন্দা থাকে আল্লাহর স্মরণে।
অনেক আল্লাহর বান্দা এমন আছেন, যারা রাতের আঁধারে রবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাল কেয়ামতে তারা এই দাঁড়িয়ে থাকার কারণে গর্ববোধ করবেন। পক্ষান্তরে এক শ্রেণীর লোক রাতে অবহেলা ও গাফলতির কারণে শুয়ে থাকে। তারা কাল কেয়ামতে এ দীর্ঘ ঘুমের জন্য আফসোস করবে, অনুতপ্ত হবে। তাহাজ্জুদগুজার ও রাত জাগরণকারীদের বিরাট মর্যাদা ও সম্মান দেখে তাদের আক্ষেপ আরও বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকেই জীবনের রাত ও দিনগুলোকে গনীমত মনে কর এবং বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী করে এগুলো কাজে লাগাও।"
📄 তাহাজ্জুদগুজারদের চেহারার সৌন্দর্যের রহস্য
ইসমাঈল বিন মুসলিম বলেন, হযরত হাসান বসরী রহ.-কে জিজ্ঞাসা মা بال المتهجدين من احسن الناس ও جوها ؟ : অর্থ: "তাহাজ্জুদগুজারদের চেহারা সবচেয়ে সুন্দর দেখায় কেন- রহস্যটা কী?"
জবাবে হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন:
لأنهم خلوا الرحمن فألبسهم من نوره نورا
অর্থ: "কারণ হলো, তারা দুনিয়ার সবকিছু ত্যাগ করে আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য অবলম্বন করেন, ফলে আল্লাহ তাদেরকে নিজের নূরের পোশাক পরিয়ে দেন (যার কারণে তাদের এত সুন্দর দেখায়)।"