📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 যেমন পুত্র তেমন মাতা

📄 যেমন পুত্র তেমন মাতা


আবু বকর হুজালী আব্দুন নূর নামীয় বসরার এক লোক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, বনূ তামীমের এক লোক ইবাদত-বন্দেগীর পথ ধরেন। তার সাধারণ রীতি ছিল, তিনি নামায দ্বারা রাত জীবন্ত রাখতেন।

একবার তার মা তাকে বলেন: يا بني لو نمت من الليل شيئا : অর্থ: "বৎস! তুমি রাতের কিছুক্ষণ ঘুমালে ভাল হত!"

জবাবে তার ছেলে বলেন:
মা شئت يا أمه ان شئت نمت اليوم ولم انم غدا في الآخرة ও إن شئت لم أنم اليوم لعلى ادرك اليوم غدا في الآخرة مع المستر يحين من عسر الحساب

অর্থ: "আম্মাজান! দুই কথার কোনটি আপনি গ্রহণ করতে চান? হয়ত আমি দুনিয়ার জীবন শুয়ে কাটাব আর আখেরাতে আমার শান্তির ঘুম নসীব হবে না অথবা দুনিয়ার জীবনে আমি নির্ঘুম রাত কাটাব আর কাল কেয়ামতে হয়ত এর উসিলায় হিসাব-কিতাবের কঠোরতা হতে মুক্তি পাব এবং সেদিন যারা আরাম লাভ করবে আমিও তাদের মধ্যে গণ্য হব- আপনি কোনটি চান?"

জবাবে মা বলেন, বৎস! আল্লাহর কসম! আমি শুধু তোমার শান্তি ও আরাম চাই। দুনিয়ার শান্তির তুলনায় তোমার আখেরাতের শান্তি আমার কাছে বেশি প্রিয়। এই আমার শেষ কথা। এখন তুমি যা ভাল মনে কর, করতে পার।

পুত্র! শোন। শুধু এভাবে করলেই হবে না। তোমাকে হলফ করতে হবে যে, আমি আমার সারা জীবনের রাতগুলো তাহাজ্জুদ নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী করে কাটাব। হতে পারে, এতে তুমি কাল কেয়ামতের কঠোরতা হতে নিষ্কৃতি লাভ করবে। এমনটি না করলে, আমি জানি না যে, তোমার নাজাত হবে কিনা।

মায়ের এই কথা শুনে লোকটি এত জোরে চিৎকার করে ওঠে যে, তৎক্ষণাৎ ইন্তেকাল হয়ে যায় এবং পুত্র মায়ের হাতে কাটা কলা গাছের মত আছড়ে পড়ে। পরে বনু তামীমের বিশিষ্ট লোকজন মায়ের কাছে সন্তানের মৃত্যতে সমবেদনা জানাতে এলে মা বলতে থাকেন: ও ابنياه قتيل يوم القيامة ও ابنياه قতিল يوم الآخرة -

অর্থ: "হায় পুত্র! কেয়ামত আসার আগেই, কেয়ামত না আসতেই ....?"

বর্ণনাকারী বলেন, এই মায়ের ব্যাপারে মানুষের ধারণা ছিল উচ্চাঙ্গের। মানুষ বলাবলি করত- إنها كانت أفضل من ابنها অর্থ: "এই মাতা পুত্রের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 এক গুমনাম বুযুর্গের রাত জাগরণ

📄 এক গুমনাম বুযুর্গের রাত জাগরণ


সলত বিন হাকীম রহ. বলেন, আমাকে আবু আসেম ইবাদানী রহ. একটি সুন্দর ঘটনা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জীবনের প্রথম দিকে ইবাদান এলাকায় বসবাস করতাম। সেখানে বনূ সাদের এক বুযুর্গ প্রায় আসতেন। তখন মূর্তি পূজার মহা ধুমধাম ছিল। সেই সময়েও এই বুযুর্গের অভ্যাস ছিল, তিনি রাত-দিন নামাযে লিপ্ত থাকতেন। এতে তাকে মোটেও ক্লান্ত দেখাত না। রাতভর নামায শেষে যখন সাহরীর সময় হত তখন তিনি গায়ে চাদর জড়িয়ে সমুদ্র উপকূলের দিকে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে মন খুলে কাঁদতেন। যখন কারো আসার পদশব্দ পেতেন কান্নাকাটি বন্ধ করে দিতেন।

আবু আসেম ইবাদানী বলেন, এক রাতে আমিও সমুদ্র উপকূলে যাই। একটি আওয়াজে আমার কদম থমকে যায়। আমি শুনতে পাই যে, ঐ বুযুর্গ কাঁদছেন এবং কেঁদে কেঁদে এভাবে বলছেন:

الا يا عين ও يحك اسعديني بطول الدمع فى ظلم الليالي لعلك في القيامة ان تفوزى بخير الدهر في تلك العلالي -

অর্থ: "হে চোখ! তোমার জন্য আফসোস! রাতের আঁধারে বেশি বেশি অশ্রু প্রবাহিত করে তুমি দোজাহানের সফলতা অর্জন করে নাও। হতে পারে এ উসিলায় তুমি কেয়ামতের দিন চিরস্থায়ী জীবনের কল্যাণ অর্জন করে সফল হয়ে যাবে।"

আবু আসেম বলেন, যখন ঐ বুযুর্গ আমার পদশব্দ শুনতে পান তখন তিনি নিরব হয়ে যান। এরপর আমি তাকে ঐ অবস্থায় রেখে ফিরে আসি।

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 মুহাম্মাদ বিন নজরের রাত জাগরণ

📄 মুহাম্মাদ বিন নজরের রাত জাগরণ


আম্মার বিন আমর বাযালী রহ. বলেন, একবার আমরা হযরত মুহাম্মাদ বিন নজর হারেছী রহ.-এর সঙ্গে মক্কা মুকাররমার সফরে রওনা হই। পত্থিমধ্যে যখনই আমরা জাগ্রত হতাম, দেখতাম যে, মুহাম্মাদ বিন নজর রহ. একই অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করছেন। আমার ধারণা, মক্কায় পৌঁছা পর্যন্ত পুরা সফরে তিনি ঘুমান নি। ইবাদত-বন্দেগী ও রাত জাগরণের পাশাপাশি তার অবস্থা এটাও ছিল যে, যখনই কাফেলা কোথাও যাত্রাবিরতি করত, মুহাম্মাদ বিন নজর সাথীদের খেদমতে পুরোপুরি লেগে যেতেন। তাকে একবার বলা হল : يا ابا عبد الرحمن نحن نكفيك অর্থ: "হে আবু আব্দুর রহমান! খেদমতের জন্য আমরাই যথেষ্ট।" তখন তিনি এটা অস্বীকার করতেন এবং বলতেন:

أتنفسون على بالثواب ؟

অর্থ: "তোমরা আমার সওয়াব কমাতে চাও?"

📘 বড়দের তাহাজ্জুদ ও রাত জাগরণ 📄 তাহাজ্জুদ পড়তে সঙ্গীদের আহ্বান

📄 তাহাজ্জুদ পড়তে সঙ্গীদের আহ্বান


আব্দুর রহমান বিন ইয়াযিদ বলেন, আমরা আতা খোরাসানীর সঙ্গে একত্রে যুদ্ধ করতাম। তাঁর অভ্যাস ছিল, তিনি জিকির তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাত দ্বারা রাত জিন্দা রাখতেন। রাতের এক তৃতীয়াংশ হলে অথবা অর্ধরাত হলে তিনি তাবুর মধ্যে আওয়াজ দিয়ে আমাদের ডাকতেন এবং বলতেন:

قوموا فتوضأوا وصلوا فلقيام هذا الليل وصيام هذا النهار أيسر من مقطعات الحديد ও شراب الصديد الوحاء الوحاء

অর্থ: "ওঠ এবং ওজু করে নামায পড়। কেননা দুনিয়ার রাতের নামায এবং দিনের রোযা কেয়ামতে লোহার হাতকড়া এবং বেড়ি পরিধান হতে সহজ এবং পুঁজ পান করা হতে আসান। অর্থাৎ যদি তোমরা এখন রাতে তাহাজ্জুদ পড় এবং দিনে রোযা রাখ তবে কেয়ামতের ভয়াবহ আজাব থেকে নাজাত পেয়ে যাবে। এরপর তিনি বলতেন, এ বিষয়টি ওহী দ্বারা প্রমাণিত।"

ফন্ট সাইজ
15px
17px